এই সময়েই তাঁর মাথায় আসে নতুন ভাবনা। তিনি বুঝতে পারেন, কাঁচা দুধ অন্য সংস্থাকে না দিয়ে যদি নিজেই দুধ থেকে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করে বাজারে বিক্রি করা যায়, তা হলে আয়ের পরিমাণ অনেকটাই বাড়তে পারে। সেখান থেকেই নিজের ডেয়ারি শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন তিনি। তবে মূল সমস্যা ছিল পুঁজি।
advertisement
রবিবার ফের ১৬ ঘণ্টা বন্ধ বিদ্যাসাগর সেতু! মেরামতির কারণেই এই সিদ্ধান্ত, যেতে হবে বিকল্প পথে!
এর পর প্রধানমন্ত্রীর একটি সরকারি প্রকল্পের আওতায় ১৫ লক্ষ টাকা ঋণ নেন বলবীর সিং এবং ডেয়ারি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণও নেন। প্রশিক্ষণ শেষ করে নিজের গ্রামেই ডেয়ারি ইউনিট গড়ে তোলেন তিনি। সেখানে দুধের পাশাপাশি দই, পনির, চিজ ও অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন শুরু হয়। ধীরে ধীরে বাজারে জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে তাঁর পণ্যের।
বর্তমানে বলবীর সিংয়ের ডেয়ারি ব্যবসায় সরাসরি ১৫ জনেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। তাঁর উৎপাদিত দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য ছাপরা ছাড়াও সিওয়ান এবং গোপালগঞ্জ জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এই ডেয়ারি উদ্যোগ একদিকে যেমন স্থানীয় মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনই আশপাশের কৃষকদের জন্য দুধ বিক্রির একটি স্থায়ী বাজারও তৈরি হয়েছে।
লোকাল ১৮-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলবীর সিং জানান, আগে শুধু দুধ সংগ্রহ করে বিক্রি করলেও সেখানে না ছিল স্থায়ী আয়, না ছিল ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। কখনও কখনও পুঁজি হারানোর পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল। তবে সরকারি প্রকল্পের আওতায় ঋণ পেয়ে নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে পেরেছেন তিনি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ব্যবসা বাড়িয়ে বেশি মানুষের কর্মসংস্থান করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন বলবীর।
বলবীর সিংয়ের বার্তা স্পষ্ট—ব্যর্থতা কখনও যেন স্বপ্ন ছেড়ে দেওয়ার কারণ না হয়। ধারাবাহিক পরিশ্রম আর ধৈর্য থাকলে সাফল্য আসবেই। তাঁর এই যাত্রা আজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা।
