মালদহ জেলার সাহাপুর অঞ্চলের তাঁতি পাড়ার বাসিন্দা তাঁত শিল্পী পঞ্চানন দাসের এই অভিনব উদ্যোগ ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ী মহলের। তাঁত শিল্পী পঞ্চানন দাস জানান, “আগে যেখানে দিনে প্রায় ১০টি মিটার কাপড়ের থান তৈরি করতে পারতেন, এখন সেই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। আগে এই যন্ত্রে কাপড় বুনতে প্রচুর পরিশ্রম করতে হত। কিন্তু তাঁত যন্ত্রে বৈদ্যুতিন মোটর সংযুক্ত করে সেটিকে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চালানোর ফলে কাজ অনেকটাই সহজ হয়েছে এবং উৎপাদনও বেড়েছে। যদিও আগের মতো বাজারে চাহিদা নেই বলে এই শিল্পের অবস্থা খুব একটা ভাল নয়। মূলত পাঞ্জাবি, শার্ট-সহ বিভিন্ন পোশাক তৈরির জন্য কাপড় বুনছি। কাপড় বিক্রি করে বর্তমানে মাসে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা আয় হয়ে যায়।”
advertisement
আরও পড়ুন: দিঘা ভ্রমণে নতুন গাইডলাইন, পর্যটকদের রক্ষায় অ্যাডভেঞ্চার রাইডে কঠোর প্রশাসন! না মানলে বিপদ
এই প্রসঙ্গে মালদহ জেলা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি উজ্জ্বল সাহা বলেন, “তাঁত শিল্পীর এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প রয়েছে যা এই ধরনের শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করতে পারে। জেলায় শিল্প ও বাণিজ্যের উন্নতির জন্য তাঁত শিল্পকে ছোট, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের আওতায় এনে পাওয়ার লুমে উন্নীত করার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হবে।”
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
আজও এই শিল্পীর বাড়িতে রয়েছে দুটি তাঁত যন্ত্র। বর্তমানে যেখানে দেখা দিচ্ছে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে তাঁত শিল্পীর এই প্রচেষ্টা নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে জেলার তাঁত শিল্পে। তাঁত শিল্পীর এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ প্রমাণ করে, ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রম থাকলে সীমিত সামর্থ্য নিয়েও নতুন পথ তৈরি করা সম্ভব।





