এই প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখলেন টেকনো ইন্ডিয়া দামা হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট ডা. এমএস পুরকাইত (Dr MS Purkait, Medical Superintendent, Techno India DAMA Hospital)। তাঁর কথায়, “পশ্চিম এশিয়ার উত্তাল ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত সারা বিশ্বের স্বাস্থ্য পরিষেবা শৃঙ্খলের উপর প্রতিকূল প্রভাব ফেলবে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা এবং প্রগতিশীল স্বাস্থ্য পরিষেবা সুবিধার জন্য রোগীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য হল কলকাতা। আর বলাই বাহুল্য যে, যুদ্ধাবস্থার আঁচের থেকে ছাড় পাবে না শহর কলকাতাও।
advertisement
আসলে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের কারণে চিকিৎসা পর্যটন শিল্প বা মেডিক্যাল ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রি ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যার অর্থ- চিকিৎসার খরচ বৃদ্ধি, চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি, রোগীদের সংখ্যায় সামান্য হ্রাস, বিদেশে আটকে পড়া রোগীদের হয়রানি ও যুদ্ধবিধ্বস্ত পথ ধরে ফিরতে না পারা, ওষুধের (কাঁচামাল) ঘাটতি এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা শিল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহে বিলম্ব।”
আরও পড়ুন– সাপ্তাহিক রাশিফল ১৬ – ২২ মার্চ, ২০২৬: দেখে নিন এই সপ্তাহটা কেমন যাবে আপনার?
এখানেই শেষ নয়, তিনি আরও বলেন যে, “পেট্রোকেমিক্যাল-ভিত্তিক কাঁচামালের উপর নির্ভরশীল সিরিঞ্জ, আইভি ব্যাগ এবং ক্যাথিটারের মতো বেশ কিছু জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী ওই অঞ্চল দিয়ে আসে। সেই কারণে সরবরাহে ব্যাঘাত, ক্রমবর্ধমান লজিস্টিকস এবং জ্বালানি খরচ- সব মিলিয়ে হাসপাতালগুলির জন্য কেনাকাটা সংক্রান্ত ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। যার ফলস্বরূপ রোগীদের চিকিৎসার খরচও বেড়ে যাবে। তাই এই ধরনের ঝুঁকির মোকাবিলা করতে স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলির ইনভেন্টরি প্ল্যানিং জোরদার করা এবং সরবরাহে বৈচিত্র্য আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তাঁর মতে, ‘‘মধ্যপ্রাচ্যে চরম সংঘাতের কারণে যে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হয়েছে, তা এখন পুরো বিশ্বের জন্য একটি কঠিন সামাজিক-অর্থনৈতিক সঙ্কটে পরিণত হয়েছে। জ্বালানি সঙ্কট তার মধ্যে অন্যতম। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার কারণে কলকাতার হাসপাতালগুলোর কার্যক্রমে ক্রমাগত প্রভাব পড়ছে, কারণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাকআপ জেনারেটর, অ্যাম্বুল্যান্স এবং গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল সাপ্লাই চেইন চালাতে জ্বালানির উপর অনেকটাই নির্ভর করে, যা ICU, অপারেশন থিয়েটার এবং ডায়াগনস্টিক ইউনিটগুলোকে নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু রাখে। শুধু অ্যাম্বুল্যান্সের ফুয়েল খরচই প্রায় ১৮% বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালগুলোকে অপারেশনাল খরচের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তবে, আমরা লজিস্টিক্স আরও শক্তিশালী করার ব্যাপারে আশাবাদী এবং এর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে ৷’’
