সোনার মজুদের উপর আয়কর নিয়মাবলী
সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ডায়রেক্ট ট্যাক্সেস (CBDT)-এর ১১ মে ১৯৯৪ তারিখের নির্দেশিকা নং ১৯১৬ অনুসারে, ‘যে সব ব্যক্তির উপর সম্পদ কর ধার্য করা হয় না, তাদের ক্ষেত্রে বিবাহিত মহিলার জন্য ৫০০ গ্রাম, অবিবাহিত মহিলার জন্য ২৫০ গ্রাম এবং পরিবারের পুরুষ সদস্যের জন্য ১০০ গ্রাম পর্যন্ত সোনার গহনা ও অলঙ্কার বাজেয়াপ্ত করার প্রয়োজন নেই।’
advertisement
এটিও স্পষ্ট করা হয়েছিল যে, ধারা ১৩২-এর অধীনে তল্লাশি কার্যক্রম চলাকালীন প্রাপ্ত গহনা ও অলঙ্কার তল্লাশি দলের দ্বারা বাজেয়াপ্ত করা উচিত নয়, যদি তা করদাতার দাখিল করা সম্পদ কর রিটার্নে যথাযথভাবে ঘোষণা করা থাকে অথবা যদি সেই অলঙ্কারগুলো উক্ত নির্দেশিকায় উল্লিখিত ১০০ গ্রাম, ২৫০ গ্রাম বা ৫০০ গ্রামের নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকে।
এই CBDT নির্দেশিকা অনুসারে সোনার কোন রূপটি অনুমোদিত, সে বিষয়ে মুম্বই-ভিত্তিক কর ও বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ বলবন্ত জৈন বলেন, ‘এই নিয়মের অধীনে শুধুমাত্র গহনার আকারে থাকা সোনাই অন্তর্ভুক্ত। সোনার মুদ্রা, সোনার বার এবং গহনা ছাড়া অন্য সব ধরনের সোনা, যদি সোনার মালিক সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারেন, তবে তা বাজেয়াপ্ত করা যেতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘CBDT নির্দেশ দিয়েছে যে, যে ব্যক্তির উপর সম্পদ কর ধার্য করা হয় না, তার ক্ষেত্রে বিবাহিত মহিলার জন্য ৫০০ গ্রাম, অবিবাহিত মহিলার জন্য ২৫০ গ্রাম এবং পরিবারের পুরুষ সদস্যের জন্য ১০০ গ্রাম পর্যন্ত সোনার গহনা ও অলঙ্কার বাজেয়াপ্ত করার প্রয়োজন নেই।’
সোনার মালিকদের জন্য এই আয়কর ছাড় কেন
অপটিমা মানি ম্যানেজার্স-এর এমডি ও সিইও পঙ্কজ মথপাল সিবিডিটি-র এই নির্দেশনার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেছেন, ‘লক্ষ্য করলেই আমরা দেখতে পাব যে বিয়ের সময় কন্যা/পুত্রবধূ শুধু বাবা-মায়ের পক্ষ থেকেই নয়, শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকেও কনেবিদায়ের সময় বা পুত্রবধূর স্বামীর বাড়িতে প্রবেশের সময় সোনার গয়না, অলঙ্কার এবং অন্যান্য জিনিসপত্র পেয়ে থাকেন। আমরা আরও লক্ষ্য করতে পারি যে, এরপরও তিনি উভয় পক্ষের বিভিন্ন ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং আত্মীয়দের কাছ থেকে ছোটখাটো জিনিস পেতে থাকেন, এমনকি ছেলে বা মেয়ের জন্মের শুভ উপলক্ষেও উপহার পান। সিবিডিটি ভারতজুড়ে প্রচলিত এই ধরনের রীতিনীতির কথা বিবেচনা করে, কোনও না কোনও ভাবে এই সার্কুলারটি জারি করেছে। আমরা দৃঢ়ভাবে মনে করি যে, এর অর্থ এটাও হওয়া উচিত যে, বিভিন্ন ব্যক্তির দখলে থাকা উল্লিখিত গয়নার ক্ষেত্রে তার উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলা যাবে না। এটি অবশ্যই নারীর স্ত্রীধন এবং সাধারণত এই পরিমাণ গয়নার ক্ষেত্রে কোনও প্রশ্ন তোলা যায় না।’
পঙ্কজ মথপাল বলেছেন যে, উপরে উল্লিখিত সীমার অতিরিক্ত সোনার গয়না আয়কর আইন, ১৯৩২-এর ধারা ১৩২ অনুযায়ী বাজেয়াপ্ত করা যেতে পারে। তিনি বলেন, এটি সিবিডিটি-র ১১-৫-১৯৯৪ তারিখের নির্দেশনা নং ১৯১৬, যা একটি অভিযানের সময় কী পরিমাণ গয়না বাজেয়াপ্ত করা যাবে তা নির্দিষ্ট করে এবং একজন ব্যক্তি কী পরিমাণ গয়না নিজের কাছে রাখতে পারবেন তার সীমা নির্ধারণ করে।
একজন বিনিয়োগকারী বিভিন্ন রূপে কী পরিমাণ সোনা রাখতে পারেন, সে বিষয়ে পঙ্কজ মথপাল বলেছেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয় ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর স্পষ্ট করেছে যে, উত্তরাধিকারসহ আয়ের ব্যাখ্যাযোগ্য উৎস থেকে অর্জিত হলে সোনার গয়না বা অলঙ্কার রাখার ক্ষেত্রে কোনও সীমা নেই।’
