সামাজিক মাধ্যমে প্রায়ই দেখা যায়, ভারতীয় পর্যটকদের নিয়ে বিদ্রূপ বা বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে ভারতের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন। অথচ তুষারাবৃত পাহাড়, মরুভূমি, দীর্ঘ সমুদ্রতট, প্রাচীন স্থাপত্য, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে ভরপুর এই দেশ। প্রতিটি অঞ্চলের আবহাওয়া, খাদ্যাভ্যাস ও ভাষা আলাদা বৈচিত্র্য বহন করে।
৩৭ বছর ধরে ইরান শাসন করা সর্বোচ্চ নেতা! জানেন, কে ছিলেন আয়াতোল্লা আলি খামেনেই?
advertisement
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন তোলেন হর্ষ গোয়েঙ্কা—“ভারত কেন পর্যটন সুপারপাওয়ার নয়?” এক্স (সাবেক টুইটার) মাধ্যমে তিনি লেখেন, “অনিরাপদ রাস্তা, ফুটপাত নেই, পথপ্রাণীর উপদ্রব। ময়লা-আবর্জনা, স্বাস্থ্যবিধির অভাব। ছোটখাটো দুর্নীতি। ট্র্যাফিক বিশৃঙ্খলা। দুর্বল আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং ও ভাবমূর্তি ব্যবস্থাপনা। রাজ্যস্তরের জটিল নিয়মে পর্যটন আটকে আছে। দূষণ। পর্যাপ্ত নগর পরিকল্পনা ও পর্যটন অবকাঠামোর অভাব। পরিষেবার মানে অসামঞ্জস্য। সবচেয়ে বড় সমস্যা নাগরিক সচেতনতার ঘাটতি।”
তিনি আরও লেখেন, “আমাদের সবই আছে—পাহাড়, মরুভূমি, সমুদ্রসৈকত, ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা। তবু মালয়েশিয়া, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড এমনকি সংযুক্ত আরব আমিরশাহিও প্রতি বছর আমাদের চেয়ে বেশি পর্যটক আকর্ষণ করে। সমস্যা সম্পদের নয়, ব্যবস্থাপনার। সম্ভাবনা আমাদের সমস্যা নয়, বাস্তবায়নই আসল চ্যালেঞ্জ।”
তাঁর এই মন্তব্য ভাইরাল হওয়ার পর বহু নেটাগরিক সহমত পোষণ করেন। এক ব্যবহারকারী লেখেন, এখন ভাল মহাসড়ক, উন্নত রেলপথ ও বেশি বিমানবন্দর তৈরি হয়েছে, কিন্তু মানুষ নিজেই সমুদ্রসৈকত, নদী, পাহাড়ে আবর্জনা ফেলছে। সরকার সবসময় দেখভাল করতে পারে না।
আর এক জনের মন্তব্য, বিমানবন্দরে নামার পর থেকেই ট্যাক্সিচালক, হোটেল বা গাইডের মাধ্যমে বিদেশি পর্যটকদের প্রতারণার শিকার হতে হয়, ফলে দেশটি পর্যটক-বান্ধব ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে পারেনি।
অন্য এক মত, ভারতের সমস্যা পর্যটন সম্পদের অভাব নয়, বরং সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার অভাব। পরিচ্ছন্নতা, অবকাঠামো, নিরাপত্তা, নাগরিক সচেতনতা ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং—এই ক্ষেত্রগুলিতে ঘাটতি রয়েছে।
কেউ কেউ পর্যটন মন্ত্রক ও রাজ্য পর্যটন বোর্ডগুলির দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। আবার এক নেটাগরিকের মন্তব্য, থাইল্যান্ডের অবকাঠামো ভারতের অনেক শহরের তুলনায় দুর্বল হলেও তারা পর্যটকদের স্বাগত জানাতে আগ্রহী। ভারতের ক্ষেত্রে মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।
আর এক জন লেখেন, পর্যটন শুধু স্মৃতিস্তম্ভ দিয়ে তৈরি হয় না; প্রয়োজন হাঁটার উপযোগী রাস্তা, পরিচ্ছন্ন শৌচালয়, সৎ ট্যাক্সি পরিষেবা, স্পষ্ট সাইনবোর্ড ও ধারাবাহিক পরিষেবা মান। ‘ভারত দেখুন’ থেকে ‘ভারতকে স্বাচ্ছন্দ্যে উপভোগ করুন’—এই মানসিক পরিবর্তন না হলে সম্ভাবনা থাকলেও তা বাস্তবে রূপ নেবে না।
