শিক্ষা ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে পরিকাঠামো জোরদার করতে বাজেটে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। দেশে ৫টা ইউনিভার্সিটি টাউনশিপ গড়ে উঠবে। মহাকাশ গবেষণা ও ইতিহাস গবেষণায় জোর দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে পর্যটনে গাইড প্রশিক্ষণেও যত্নবান হওয়ার কথা বলা হল ২০২৬ কেন্দ্রীয় বাজেটে।
advertisement
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চিকিৎসা পরিষেবা ও মেডিক্যাল টুরিজম বাড়াতে পাঁচটি রিজিওনাল মেডিক্যাল হাব গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আয়ুর্বেদ শিক্ষার প্রসার ও গবেষণাকে শক্তিশালী করতে তিনটি নতুন অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ আয়ুর্বেদ স্থাপনের ঘোষণা করা হয়েছে। গুজরাটের জামনগরে অবস্থিত হু গ্লোবাল মেডিসিন সেন্টারের পরিকাঠামোও উন্নত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ডিজিটাল ও সৃজনশীল দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশে এভিজিসি কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব স্থাপনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা অ্যানিমেশন, ভিজুয়াল ইফেক্টস, গেমিং ও কমিক্স খাতে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াবে। শিক্ষাক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণায় জানানো হয়েছে, দেশের পূর্বাঞ্চলে একটি নতুন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডিজাইন স্থাপন করা হবে, যা ওই অঞ্চলের ডিজাইন শিক্ষা ও শিল্পোন্নয়নে নতুন গতি আনবে।
দেশে একাধিক কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য এই বাজেটে জানানো হয়। সেই সঙ্গে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে। মেয়েদের জন্য দেশের প্রতিটা জেলায় একটা করে হোস্টেল তৈরি হবে বলে জানালেন সীতারমণ।
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা ও স্থিতিশীল বর্ধনের প্রয়োজন — এসবই বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জ। অর্থ-জীবন বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাজেট ২০২৬-২৭ শুধুমাত্র কর-ছাড় বা স্বল্পমেয়াদি সুবিধা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি বিকাশ, কর ব্যবস্থা সহজীকরণ ও নীতিগত নিশ্চিততার দিকে জোর দেবে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটটি কেবল অর্থনৈতিক হিসেব-নিকেশ নয়, বরং ভারতের ভবিষ্যত উন্নয়ন পথের একটি নীতিগত মানচিত্র হিসেবে কাজ করবে। কর, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রযুক্তি-নির্ভর ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন বর্তমান বাজেটের মূল আকর্ষণ হতে পারে, যা সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে।
