আগে অনেকেই শুধুমাত্র গৃহস্থালির কাজে সীমাবদ্ধ ছিলেন। এখন সেই মহিলারাই নিজেদের দক্ষতায় তৈরি করছেন নানা ধরনের সৃজনশীল সামগ্রী। জঙ্গল থেকে সংগ্রহ করা লতা, শুকনো পাতা ও প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়েই তৈরি হয় এসব জিনিস। খুব সাধারণ উপকরণ। কিন্তু মহিলাদের সৃজনশীল হাতের ছোঁয়ায় তা হয়ে ওঠে আকর্ষণীয় ডেকোরেশন সামগ্রী। তৈরি হয় প্যান্ডেল সাজানোর নানা আকৃতির ডেকোরেশন। আবার বাড়ি ডেকোরেশনের জন্যও তৈরি হয় নানা ধরনের সামগ্রী হস্তশিল্প। প্রতিটি জিনিসই হাতে তৈরি। প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি। তাই এগুলোর আলাদা সৌন্দর্য রয়েছে। অনেক সময় ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন ডিজাইনও তৈরি করা হয়।
advertisement
আরও পড়ুন: করোনার সময় শুরু, আজও চলছে! রঘুনাথপুরে ‘পথ কুকুরদের দেবদূত’ শান্তনু, জানলে গর্বে বুক ভরবে
এই কাজে ধৈর্য ও নিখুঁত হাত প্রয়োজন। গ্রামের মহিলারা সেই কাজটাই দক্ষতার সঙ্গে করে চলেছেন। ধীরে ধীরে এই কাজের চাহিদাও বেড়েছে। প্রথমে স্থানীয় হাট-বাজারে এসব বিক্রি হত। পরে বিভিন্ন মেলা ও প্রদর্শনীতেও এই তাদের তৈরি হস্তশিল্প পৌঁছতে শুরু করে। এখন অনেক ব্যবসায়ী সরাসরি গ্রামে এসে এসব সামগ্রী কিনে নিয়ে যান। অনলাইন মাধ্যমেও বিক্রি হচ্ছে অনেক পণ্য। ফলে এসব হস্তশিল্প এখন শুধু জেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। রাজ্যের বাইরেও যাচ্ছে। এমনকি দেশ বিদেশেও এই ডেকোরেশনের সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। বিদেশি ক্রেতারাও এই প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে তৈরি জিনিসের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
এই কাজের ফলে গ্রামীণ মহিলাদের জীবনে এসেছে বড় পরিবর্তন। সংসারের কাজ সামলানোর পাশাপাশি তাঁরা এখন উপার্জনও করছেন। মাসের শেষে হাতে বাড়তি টাকা আসছে। মহিলাদের আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে। আগে যারা শুধুমাত্র ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন, এখন তাঁরাই নিজের হাতে তৈরি পণ্যে নতুন পরিচয় তৈরি করছেন। জঙ্গলের সাধারণ লতাপাতাই আজ তাঁদের জীবনে এনে দিয়েছে স্বনির্ভরতার নতুন দিশা।





