খসড়া বিধি অনুযায়ী, যেসব গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মী অন্তত ৯০ দিন কাজ করেছেন, তারা সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধার জন্য যোগ্য হবেন। একাধিক প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় কর্মীদের ক্ষেত্রে এই যোগ্যতার সময়সীমা ১২০ দিন নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। জনমত গ্রহণের জন্য এই খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে।
advertisement
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, কোনও কর্মী যেদিন থেকে কোনও প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আয় শুরু করবেন, সেদিন থেকেই তাকে সেই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত বলে গণ্য করা হবে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোনও কর্মী যদি একই দিনে একাধিক প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় থাকেন, তবে প্রতিটি কার্যক্রম আলাদাভাবে এবং সমষ্টিগতভাবে গণনা করা হবে।
উদাহরণস্বরূপ, কোনও কর্মী যদি একদিনে তিনটি প্ল্যাটফর্মে লাইভ থাকেন, তবে সেটিকে তিনটি কর্মদিবস হিসেবে ধরা হবে, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। খসড়া বিধিতে আরও প্রস্তাব করা হয়েছে যে, যেসব কর্মী সরাসরি বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত, তাদের সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা প্রদানের উদ্দেশ্যে কর্মচারী হিসেবে গণ্য করা হবে। নতুন শ্রম কোড অনুযায়ী, যোগ্য গিগ কর্মীরা স্বাস্থ্য, জীবন ও দুর্ঘটনা বিমার সুবিধা পাবেন এবং আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের অধীনে নথিভুক্ত হবেন।
প্রসঙ্গত, গিগ কর্মী ও প্ল্যাটফর্ম ইউনিয়নগুলো মজুরি, কাজের পরিবেশ এবং কল্যাণমূলক সুবিধার দাবিতে দেশব্যাপী প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিল গত ৩১ ডিসেম্বর৷ গিগ অ্যান্ড প্ল্যাটফর্ম সার্ভিস ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (GIPSWU) দাবি করেছে যে, দিল্লি ও মুম্বইয়ের মতো বড় শহর-সহ ২২টি শহর থেকে এক লক্ষেরও বেশি কর্মী ধর্মঘটে অংশ নিয়েছিলেন, যার মধ্যে প্রায় ১৪,০০০ কর্মী শহরের প্রধান কেন্দ্রগুলির সদস্য৷
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতে গিগ কর্মীর সংখ্যা ১ কোটি ২৭ লক্ষের বেশি। সরকারি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক নীতি আয়োগের অনুমান অনুযায়ী, ২০২৯–৩০ সালের মধ্যে এই গিগ কর্মীবাহিনী বেড়ে ২ কোটি ৩৫ লক্ষে পৌঁছাতে পারে।
