GK: এখন জলের তলায় সেই ৬ মহানগর! একসময় সেগুলিই ঐশ্বর্যের প্রতীক ছিল, অনেকেই জানেন না, কোনগুলো?
- Published by:Tias Banerjee
Last Updated:
সভ্যতার ইতিহাসে এমন কিছু নগর ছিল, যাদের নাম উচ্চারণ মানেই ঐশ্বর্য, শক্তি ও জাঁকজমকের ছবি ভেসে ওঠে। বন্দর, মন্দির, প্রাসাদ আর জনজীবনের কোলাহলে গড়ে ওঠা সেই শহরগুলিই একসময় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সামনে অসহায় হয়ে চিরতরে জলের তলায় তলিয়ে যায়। ভূমিকম্প, সুনামি কিংবা সমুদ্রপৃষ্ঠের পরিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া এই নগরগুলি আজও প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে বিস্ময়ের বিষয়। সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে থাকা সেই হারানো মহানগরগুলির গল্পই ফের তুলে ধরছে মানবসভ্যতার উত্থান ও পতনের এক নীরব ইতিহাস।
আটলান্টিস হারিয়ে যাওয়া এক কিংবদন্তি শহর—এ কথা বহুজনই জানেন। কিন্তু বাস্তবেও এমন বহু প্রাচীন নগর আছে, যেগুলি ভূমিকম্প, সুনামি বা সমুদ্রপৃষ্ঠের পরিবর্তনে চিরতরে জলের তলায় তলিয়ে গিয়েছে। বিংশ শতকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলির অনেকটাই হয়েছে সমুদ্রের গভীরে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সামনে টিকতে না পেরে এই নগরগুলি ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে গেলেও, জলের নীচে আজও লুকিয়ে রয়েছে অমূল্য নিদর্শন। সেই শহরগুলির কথাই জানানো হল। (Representative Image)
advertisement
Thonis-Heracleion, মিশর--- প্রায় ২,০০০ বছর ধরে নীল নদের মোহনায় বালি ও সমুদ্রের নীচে চাপা পড়ে ছিল এক কিংবদন্তি নগর। গ্রিকরা একে ডাকত হেরাক্লিয়ন নামে, আর মিশরীয়দের কাছে শহরটির নাম ছিল থোনিস। টলেমাইক যুগে এটি ছিল মিশরে প্রবেশকারী সব গ্রিক জাহাজের প্রধান বন্দর। এখানেই ছিল বিশাল আমুন মন্দির, যেখানে ফারাওরা তাঁদের ঐশ্বরিক ক্ষমতার স্বীকৃতি পেতেন। ইতিহাসবিদ হেরোডোটাস ও ভূগোলবিদ স্ট্রাবো শহরটির বর্ণনা দিলেও, একসময় এই মহানগর ও তার মন্দিরগুলি রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যায়। (Representative Image)
advertisement
Port Royal, জ্যামাইকা ১৭ শতকে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের সবচেয়ে ব্যস্ত বন্দর ছিল পোর্ট রয়্যাল। বিলাস, দস্যু, ব্যবসায়ী ও পতিতালয়ের জন্য শহরটি কুখ্যাত ছিল “পৃথিবীর সবচেয়ে পাপী শহর” নামে। কিন্তু ১৬৯২ সালের ৭ জুন সকাল ১১টা ৪৩ মিনিটে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিতে শহরের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সমুদ্রের তলায় ডুবে যায়। (Representative Image)
advertisement
Baia, ইতালি রোমান সাম্রাজ্যের “লাস ভেগাস” নামে পরিচিত ছিল বাইয়া। খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকে এখানকার উষ্ণ প্রস্রবণ রোমান অভিজাতদের আকর্ষণের কেন্দ্র ছিল। নেপলস উপকূলের কাছে এই শহর আজ সমুদ্রের নীচে একটি উন্মুক্ত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির কাছে অবস্থিত এই অঞ্চলটি অত্যন্ত সক্রিয় আগ্নেয় এলাকায় পড়ে। বিলাসবহুল ভিলা, গোপন প্রেম আর রাজকীয় ভোজে মুখর ছিল বাইয়া। (Representative Image)
advertisement
advertisement
Atlit-Yam, ইজরায়েল ১৯৮৪ সালে হাইফার কাছে অগভীর জলে আবিষ্কৃত হয় আটলিট-ইয়াম। খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৬৯০০ সালের এই নিওলিথিক বসতি পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন জলের নীচে পাওয়া মানববসতি। এখানকার মানুষ কৃষক ও মৎস্যজীবী ছিল, গম চাষ করত, গবাদি পশু পালন করত এবং ৩০ ফুটেরও বেশি গভীর কুয়ো খনন করেছিল। (Representative Image)
advertisement
Dwarka, ভারত ভারতের প্রত্নতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (ASI) সমুদ্রের নীচে দ্বারকার ধ্বংসাবশেষ—পাথরের কাঠামো, নোঙর, মৃৎপাত্র—খুঁজে পেয়েছে। গবেষকদের মতে, শহরটির বয়স আনুমানিক ৩,৫০০ থেকে ৯,০০০ বছর। সমুদ্রপৃষ্ঠের পরিবর্তন, টেকটোনিক নড়াচড়া বা সুনামির ফলে এই প্রাচীন বন্দরনগরী তলিয়ে যেতে পারে। আজও দ্বারকা হিন্দুদের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান। (Representative Image)
advertisement






