প্রবল ঠান্ডাতেও ট্যাঙ্কের জল গরম থাকবে ! কোনও গিজার, বিদ্যুতের প্রয়োজন নেই, জেনে নিন সহজ পদ্ধতি
- Published by:Siddhartha Sarkar
- news18 bangla
Last Updated:
কল খোলার সঙ্গে সঙ্গেই বরফ ঠান্ডা জল। ডিসেম্বর এবং জানুয়ারিতে স্নানের চিন্তা মাথায় এলে এটাই মনে হয়! তাহলে সমাধান কী? সমাধান আছে! বিদ্যুৎ, গ্যাস বা অন্য কিছুর জন্য এক ফোঁটাও খরচ না করে ছাদের ট্যাঙ্কের জল হালকা গরম রাখা যেতে পারে।
শীতের সময় সকালে ঘুম থেকে ওঠা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এর পর কল খুলে তার সামনে হাত রাখার সঙ্গে সঙ্গে মনে হয় যেন বরফের টুকরো হাতে পড়ছে। আর যদি ট্যাঙ্কের জল দিয়ে স্নান করতে হয়, তাহলে সেটা একটা বড় সমস্যা তো বটেই। মধ্যবিত্ত অনেক পরিবারের পক্ষে বাথরুমে গিজার লাগানো প্রায় অসম্ভব। তাছাড়া, জল গরম করার জন্য ইমারসন রড ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ বিল বাড়তেই থাকবে। এতে পকেটের উপর চাপ পড়বে। সকালে গরম জলে স্নান করা প্রায় অসম্ভবই যেন হয়ে পড়ে!
advertisement
কল খোলার সঙ্গে সঙ্গেই বরফ ঠান্ডা জল। ডিসেম্বর এবং জানুয়ারিতে স্নানের চিন্তা মাথায় এলে এটাই মনে হয়! তাহলে সমাধান কী? সমাধান আছে! বিদ্যুৎ, গ্যাস বা অন্য কিছুর জন্য এক ফোঁটাও খরচ না করে ছাদের ট্যাঙ্কের জল হালকা গরম রাখা যেতে পারে। আমরা কিছু সহজ এবং কার্যকর কৌশল শেয়ার করব যা মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে ছাদের ট্যাঙ্কের জল গরম করতে সাহায্য করবে। এটি সারা দিন ট্যাঙ্কের জল উষ্ণ রাখবে।
advertisement
যদি জলের ট্যাঙ্ক বাইরে বা ছাদে অবস্থিত হয়, তাহলে এর চারপাশে থার্মোকলের একটি পুরু চাদর জড়িয়ে রাখা খুবই কার্যকর সমাধান হতে পারে। থার্মোকল ঠান্ডার বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে কাজ করে। এটি তাপকে বেরিয়ে যেতে এবং ঠান্ডা বাতাসকে ট্যাঙ্কে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। ঠিক যেমন একটি সোয়েটার শরীরের তাপ ধরে রাখে, তেমনও থার্মোকল জলের তাপ ধরে রাখে। এটি সকালে জলকে খুব ঠান্ডা হতে বাধা দেয়। এর ফলে ট্যাঙ্কের জল সারা দিন স্নান বা বাসন ধোয়ার জন্য ব্যবহারযোগ্য থাকে। সবচেয়ে ভাল কথা, এই দ্রবণটি খুবই সস্তা এবং দীর্ঘস্থায়ী।
advertisement
যদি কারও বাড়িতে প্যাকেজিং বাবল র‍্যাপ পড়ে থাকে, তাহলে তা ফেলে দিলে হবে না। বরং, এটি রেখে দিতে হবে। কারণ শীতকালে এটি ট্যাঙ্কের জন্য প্রাকৃতিক হিটার হিসেবে কাজ করে। এই বাবল র‍্যাপটি বাতাসভরা থাকে, যা ট্যাঙ্ককে ঠান্ডা হতে বাধা দেয়। ট্যাঙ্কটিকে দুই বা তিনটি স্তরে শক্ত করে মুড়িয়ে রাখলে ট্যাঙ্কের দেওয়ালে ঠান্ডা বাতাস পৌঁছাতে বাধা পায়, যার ফলে জল বেশিক্ষণ উষ্ণ থাকে। শীতকালে, বাইরের শিশির এবং ঠান্ডা বাতাস জলকে সবচেয়ে বেশি ঠান্ডা করে। যদি ট্যাঙ্কটি খোলা ছাদে থাকে, তাহলে এটি একটি টারপলিন, কাঠের শেড বা ছোট টিনের শেড দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।
advertisement
এটি ট্যাঙ্কে সরাসরি ঠান্ডা পৌঁছাতে বাধা দেবে এবং ভিতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখবে। এমনকি, শিশিরের ফোঁটাও রাতে ট্যাঙ্কটিকে ঠান্ডা করতে পারবে না। গ্রামীণ এলাকার অনেক মানুষ তাদের ট্যাঙ্কগুলিকে পুরনো বস্তা বা মোটা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখে, যা ঠান্ডা থেকে সুরক্ষা হিসেবে কাজ করে। আরেকটি বৈজ্ঞানিক এবং প্রাকৃতিক পদ্ধতি রয়েছে। ট্যাঙ্কটি কালো, গাঢ় নীল বা গাঢ় বাদামি রঙ করলে এটি দ্রুত সূর্যালোক শোষণ করতে সাহায্য করে। গাঢ় রঙ তাপ ধরে রাখে।
advertisement
সারাদিন সূর্যালোকের সংস্পর্শে থাকার কারণে ট্যাঙ্কটি ধীরে ধীরে গরম হয়। এর জন্য কোনও বিদ্যুৎ, বাইরের সাহায্য বা অন্যান্য খরচের প্রয়োজন হয় না। যদি ছাদে ভাল রোদ আসে, তাহলে ট্যাঙ্কটি এমন দিকে রাখতে হবে যেখানে সবচেয়ে বেশি রোদ আসে। সূর্যের প্রাকৃতিক তাপ জলের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে, যার ফলে সকালে স্নান সহজ হবে। দিনের বেলা তাপ বেরিয়ে যাওয়া রোধ করতে রাতে ট্যাঙ্কটি কাপড় বা কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখতে ভোলা উচিত নয়। এই পদ্ধতিটি নতুন বা ব্যয়বহুল নয়, তবে এটি ১০০% কার্যকর। (Disclaimer: প্রতিবেদনের লেখা তথ্য News18 বাংলার নিজস্ব মত নয় ৷ সঠিক ফল পাওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন ৷)







