Heart Attack: প্রশান্ত তামাংয়ের ৪৩ বছর বয়সে মৃত্যু; কেন হৃদরোগ প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে স্ক্রিনিংয়ের জন্য ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করা আর উচিত নয়?
- Reported by:BENGALI NEWS18
- trending desk
- Published by:Salmali Das
Last Updated:
Heart Attack: ভারতজুড়ে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা ৩০ ও ৪০ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে হৃদরোগের ঘটনায় উদ্বেগজনক বৃদ্ধি লক্ষ্য করছেন, যা প্রায়শই কোনও সতর্ক হওয়ার লক্ষণ ছাড়াই ঘটছে। দীর্ঘ কাজের সময়, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন, ঘুমের অভাব, ধূমপান এবং বিপাকীয় ব্যাধিগুলো নীরবে ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।
গায়ক ও অভিনেতা প্রশান্ত তামাং-এর আকস্মিক মৃত্যু আবারও একটি অস্বস্তিকর সত্যকে সামনে এনেছে: হৃদরোগ এখন আর কেবল ‘বয়স্কদের সমস্যা’ নয়। ভারতজুড়ে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা ৩০ ও ৪০ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে হৃদরোগের ঘটনায় উদ্বেগজনক বৃদ্ধি লক্ষ্য করছেন, যা প্রায়শই কোনও সতর্ক হওয়ার লক্ষণ ছাড়াই ঘটছে। দীর্ঘ কাজের সময়, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন, ঘুমের অভাব, ধূমপান এবং বিপাকীয় ব্যাধিগুলো নীরবে ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশ্নটি এখন আর বয়স নিয়ে নয়, বরং সচেতনতা নিয়ে দেখা দিয়েছে।
advertisement
হৃদরোগের স্ক্রিনিং কেন বয়স-ভিত্তিক নয়, ঝুঁকি-ভিত্তিক হওয়া উচিত সিকে বিড়লা হসপিটালস, জয়পুরের কার্ডিওলজি ও ইলেক্ট্রোফিজিওলজির অতিরিক্ত পরিচালক ডা. অংশুল পতোদিয়া বলেন, “প্রশান্ত তামাং-এর আকস্মিক মৃত্যুর মতো ঘটনার পর ৩০ ও ৪০ বছর বয়সী মানুষদের যে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি করা উচিত তা হল হৃদরোগ পরীক্ষার জন্য আমার বয়স কি যথেষ্ট হয়েছে নয়, বরং আমার মধ্যে কি ঝুঁকির কারণগুলো আছে?”। তিনি উল্লেখ করেন যে উচ্চ মানসিক চাপ, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, ডায়াবেটিস এবং অস্বাভাবিক কোলেস্টেরলের মাত্রার মতো জীবনযাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত কারণের জন্য হৃদরোগ এখন কম বয়সেই দেখা দিচ্ছে।
advertisement
advertisement
৩০ বছর বয়সে কোন হৃদরোগ পরীক্ষাগুলো করানো উচিত৩০ বছর বয়সী ব্যক্তিদের জন্য ডাক্তাররা মৌলিক সাধারণ স্ক্রিনিং দিয়ে শুরু করার পরামর্শ দেন, বিশেষ করে যদি পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস থাকে। ডা. পতোদিয়া ব্যাখ্যা করেন যে প্রাথমিক পরীক্ষাগুলোর মধ্যে রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ, লিপিড প্রোফাইল, রক্তে শর্করার মাত্রা, শরীরের ওজন এবং কোমরের পরিধি মূল্যায়ন অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত। তিনি বলেন, “ইসিজি করানোও বাঞ্ছনীয়, বিশেষ করে যদি পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস থাকে।”
advertisement
advertisement
৪০ বছর বয়সে বা তার আগে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য যে স্ক্রিনিংগুলো বিবেচনা করা উচিতবয়সের সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকি বাড়তে থাকায়, ৪০ বছর বয়সে স্ক্রিনিংগুলো প্রায়শই আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হয়- ধূমপান, ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের মতো একাধিক ঝুঁকির কারণ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য আরও আগেই তা হওয়া উচিত। ডা. পতোদিয়া বলেন, "চল্লিশের কোঠায় থাকা ব্যক্তিরা, অথবা একাধিক ঝুঁকির কারণ রয়েছে এমন তরুণরা, ইকোকার্ডিওগ্রাফি, ট্রেডমিল স্ট্রেস টেস্টিং বা করোনারি ক্যালসিয়াম স্কোরিং-এর মতো অতিরিক্ত পরীক্ষা থেকে উপকৃত হতে পারেন।" তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই পরীক্ষাগুলো নিজে নিজে না করিয়ে ক্লিনিক্যাল মূল্যায়নের ভিত্তিতে করা উচিত।
advertisement
ডা. সোম যোগ করেন যে, উন্নত ইমেজিং পদ্ধতি লুকানো রোগ শনাক্ত করার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে মূল্যবান হতে পারে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, "একাধিক ঝুঁকির কারণ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য, ট্রেডমিল স্ট্রেস টেস্ট বা সিটি করোনারি এনজিওগ্রাফির মতো পরীক্ষাগুলো অন্তর্নিহিত করোনারি ধমনী রোগ শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে, যা অন্যথায় অশনাক্তই থেকে যেতে পারে।"
advertisement
প্রকৃত লক্ষ্য: প্রাথমিক শনাক্তকরণ, ভয় নয়উভয় বিশেষজ্ঞই জোর দিয়ে বলছেন যে, প্রতিরোধমূলক স্ক্রিনিং-এর উদ্দেশ্য আতঙ্ক সৃষ্টি করা নয়, বরং মানুষকে সুস্থ করা। ডা. পতোদিয়া বলেন, "স্ক্রিনিং-এর লক্ষ্য উদ্বেগ তৈরি করা নয়, বরং নীরব ঝুঁকিগুলো প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা, যখন জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং সময়মতো চিকিৎসার মাধ্যমে বড় ধরনের হৃদরোগের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।"
advertisement
advertisement
হৃদরোগ প্রায়শই নীরবে বিকশিত হয়, লক্ষণ প্রকাশের অনেক আগে থেকেই তা শরীরে থাবা বসায়। ৩০ ও ৪০-এর কোঠায় এসে প্রতিরোধমূলক স্ক্রিনিং ঝুঁকিগুলো প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে, যখন সেগুলো সবচেয়ে সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য থাকে। পার্সোনালাইজড টেস্ট, সচেতন জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং সময়মতো চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক হৃদরোগজনিত জরুরি অবস্থা সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব।






