Digha: দিঘার সবচেয়ে পুরনো বাড়ি! ১৮৪৮ সালের এই নীল-সাদা বাংলোর আড়ালে লুকিয়ে কোন রহস্য? জানেন কি?
- Reported by:Madan Maity
- hyperlocal
- Published by:Ananya Chakraborty
Last Updated:
Digha: সমুদ্র শহর দিঘার বুকেই লুকিয়ে আছে এক প্রাচীন ইতিহাস। ১৮৪৮ সালে তৈরি জলসেচ দফতরের ডাকবাংলোটি আজও দাঁড়িয়ে আছে রাজপ্রাসাদের মতো।
দিঘায় তো বহুবার বেড়াতে গেছেন। কিন্তু দিঘার ইতিহাসবাহী এই বাড়ির কথা অনেকেরই অজানা। সমুদ্র শহরের বুকে আজও দাঁড়িয়ে আছে এক প্রাচীন স্থাপনা। দূর থেকে দেখলে মনে হয় রাজপ্রাসাদ। নীরবে বহু যুগের ইতিহাস বয়ে চলেছে এই বাড়িটি। সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে দিঘা। বদলায়নি এই ভবনের অস্তিত্ব। স্থানীয় ইতিহাসবিদদের মতে, দিঘার ইতিহাস বুঝতে গেলে এই বাড়িটির গুরুত্ব অপরিসীম। এটি শুধু একটি বাড়ি নয়, দিঘার অতীতের এক জীবন্ত সাক্ষ্য। দিঘার সবচেয়ে পুরনো বাড়ি বললেও ভুল হয় না। (তথ্য ও ছবি: মদন মাইতি)
advertisement
দিঘার আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক ইমন কল্যাণ জানার মতে, দিঘার জলসেচ দফতরের ডাকবাংলো দিঘার সবচেয়ে পুরোনো বাড়ি বললে অত্যুক্তি হয় না। এই ঐতিহাসিক বাংলোটি নির্মিত হয় ১৮৪৮ সালে। ব্রিটিশ আমলে তৈরি এই বাড়িটি বর্তমানে পুরোনো দিঘার ফোরশোর রোডের উত্তর পাশে অবস্থিত। নীল ও সাদা রঙের এই বাড়িটি দূর থেকে দেখলে রাজপ্রাসাদের মতই মনে হয়। স্থাপত্যের দিক থেকেও এটি বিশেষভাবে নজরকাড়া। দিঘার সমুদ্রতীরবর্তী পরিবেশের সঙ্গে বাংলোটির অবস্থান এক অনন্য ঐতিহাসিক আবহ তৈরি করেছে।
advertisement
দিঘা সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চল হওয়ায় ব্রিটিশ আমলে জলসেচ দফতরের আধিকারিক ও কর্মচারীদের এখানে প্রায়ই আসতে হত। বিভিন্ন জলসেচ প্রকল্প ও পরিদর্শনের কাজেই তাঁদের দিঘায় উপস্থিত থাকতে হত। সেই কারণেই মূলত তাঁদের থাকার ব্যবস্থার জন্য এই বাংলোটি তৈরি করা হয়। পরবর্তীকালে এটি সরকারি ব্যবহারের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে। এখান থেকেই অনেক প্রশাসনিক কাজ পরিচালিত হত।
advertisement
১৯৪০-এর দশকে এই বাংলোর সঙ্গে একইসঙ্গে জলসেচ দফতরের একটি অফিসও স্থাপন করা হয়। ধীরে ধীরে বাংলোটির গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পায়। রাজা অমরেন্দ্রলাল খানের কাছ থেকে জলসেচ দফতর এই অঞ্চলের বেশ কিছু জমি পায়। বর্তমানে দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের অন্তর্গত প্রায় ১০ বিঘা জমি জলসেচ দফতরের অধীনে রয়েছে বলে জানা যায়।
advertisement
এই বাংলোকে ঘিরে রয়েছে বহু ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক স্মৃতি। ইমন কল্যাণ জানার মতে, ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির মৃত্যুর ঠিক আগের রাতে তাঁর পুত্র রাজিব গান্ধি এই বাংলোতেই ছিলেন। পরের দিন তাঁর কাঁথিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল। সেই রাতেই তিনি মায়ের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভয়াবহ সংবাদ পান।
advertisement
এছাড়াও বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব বিভিন্ন সময়ে এই ঐতিহাসিক বাংলোতে অবস্থান করেছেন। প্রশাসনিক দিক থেকে এই বাড়িটির গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। আজও নীল সাদা বাড়িটির স্থাপত্য ও ইতিহাস পর্যটকদের আকর্ষণ করে। দিঘায় গেলে সমুদ্র দেখার পাশাপাশি এই প্রাচীন বাংলোটি একবার না দেখে গেলে বড় মিস করবেন। ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে এটি এক বিশেষ আকর্ষণ। (তথ্য ও ছবি: মদন মাইতি)








