Dental Health: আমরা যেভাবে দাঁত মাজি, তা একদম ভুল! ঠিক কতক্ষণ ব্রাশ করা আদর্শ, কত ডিগ্রি কোণে ধরা উচিত ব্রাশ, বললেন চিকিৎসক
- Reported by:Trending Desk
- Published by:Satabdi Adhikary
Last Updated:
ডা. নিরালি প্যাটেল, কসমেটিক ডেন্টিস্ট এবং স্মাইল ক্রাফট ডেন্টাল স্টুডিও, আহমেদাবাদের প্রতিষ্ঠাতা পাঁচটি প্রমাণ-ভিত্তিক অভ্যাসের কথা বলেছেন যা দন্তবিশেষজ্ঞরা রোগীদের একটি শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার জন্য গ্রহণ করতে উৎসাহিত করেন।
আমরা সবাই প্রায় দাঁত ব্রাশ করার প্রাথমিক বিষয়গুলো জানি, তবুও দাঁতের রোগ বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে সাধারণ দীর্ঘস্থায়ী রোগগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে থেকেই গিয়েছে। কারণ, ওরাল হেল্থ কিছু কৌশল এবং ধারাবাহিকতার উপর নির্ভর করে। আধুনিক দন্ত চিকিৎসাও এই বিষয়টির উপর জোর দেয়। বলে যে কারও মুখ শরীরের বাকি অংশের জন্য একটি প্রবেশদ্বার, যার অর্থ মাড়ির স্বাস্থ্য হৃদরোগ থেকে শুরু করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত সব কিছুকে প্রভাবিত করতে পারে।
advertisement
ডা. নিরালি প্যাটেল, কসমেটিক ডেন্টিস্ট এবং স্মাইল ক্রাফট ডেন্টাল স্টুডিও, আহমেদাবাদের প্রতিষ্ঠাতা পাঁচটি প্রমাণ-ভিত্তিক অভ্যাসের কথা বলেছেন যা দন্ত বিশেষজ্ঞরা রোগীদের একটি শক্তিশালী ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার জন্য গ্রহণ করতে উৎসাহিত করেন। প্রথমেই রয়েছে, দুই মিনিটের ফ্লুরাইড রুটিন আয়ত্ত করা৷ ব্রাশ করা অপরিহার্য, কিন্তু কে কতবার ব্রাশ করছে, তা নয়, বরং কীভাবে ব্রাশ করছে তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশনগুলো দিনে দুবার পুরো দুই মিনিট ধরে ব্রাশ করার পরামর্শ দেয়। বেশিরভাগ মানুষ গড়ে মাত্র ৪৫ সেকেন্ড ব্রাশ করে, যার ফলে দাঁতে প্লাক জমে থাকে। নরম ব্রিসলের ব্রাশ এবং ফ্লুরাইড টুথপেস্ট ব্যবহার করতে হবে এবং ব্রাশটি মাড়ির সঙ্গে ৪৫-ডিগ্রি কোণে ধরতে হবে।
advertisement
ডা. প্যাটেল ব্যাখ্যা করেন, “প্লাক হল ব্যাকটেরিয়ার একটি আঠাল স্তর যা অ্যাসিড তৈরি করে। যদি এটি প্রতি ১২ ঘণ্টায় ভালভাবে পরিষ্কার করা না হয়, তবে এটি শক্ত হয়ে টারটারে পরিণত হয়, যা শুধুমাত্র একজন পেশাদারই অপসারণ করতে পারেন এবং এর ফলে প্রদাহ ও দাঁতের এনামেলের ক্ষয় হয়।” প্রতিদিন দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার- টুথব্রাশ দাঁতের পৃষ্ঠের প্রায় ৬০% পরিষ্কার করে। দাঁতের ফাঁকের সঙ্কীর্ণ স্থানগুলোতে পৌঁছানোর জন্য, যেখান থেকে প্রায়শই মাড়ির রোগ শুরু হয়, প্রতিদিন ফ্লস, ইন্টারডেন্টাল ব্রাশ বা ওয়াটার ফ্লসার ব্যবহার করে দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার করতে হবে। ডা. প্যাটেল বলেন, “এটি শুধু আটকে থাকা খাবার অপসারণের বিষয় নয়। এটি দাঁতের ফাঁকে লুকিয়ে থাকা ব্যাকটেরিয়ার উপনিবেশগুলোকে ভেঙে দেওয়ার বিষয়ও।”
advertisement
এই স্থানগুলো অবহেলা করলে ব্যাকটেরিয়া মাড়ির টিস্যুকে উত্তেজিত করে, যার ফলে জিঞ্জিভাইটিস (মাড়ি থেকে রক্তপাত) হয়। যদি এর চিকিৎসা না করা হয়, তবে এটি পেরিওডোনটাইটিসে পরিণত হতে পারে, যা প্রাপ্তবয়স্কদের দাঁত হারানোর অন্যতম প্রধান কারণ। কুলকুচি নয়, শুধু থুথু ফেলতে হবে- সবচেয়ে কার্যকর পরিবর্তনগুলো আনতে কোনও খরচ লাগে না: ব্রাশ করার পর অতিরিক্ত টুথপেস্ট ফেলে দিতে হবে, কিন্তু মুখ জল দিয়ে ধোওয়া যাবে না। ডা. প্যাটেল উল্লেখ করেন, “কুলকুচি করলে ফ্লুরাইডের ঘনত্ব দ্রুত ধুয়ে যায়, যা এর কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়।” ফ্লুরাইডকে এনামেলের উপর বসে এটির পুনঃখনিজকরণ এবং শক্তিশালী করার জন্য সময় প্রয়োজন। একটি পাতলা স্তর রেখে দিলে তা বেসিন ছাড়ার অনেক পরেও আণুবীক্ষণিক ক্ষতি মেরামত করতে থাকে।
advertisement
শুধু চিনির পরিমাণ নয়, এর খাওয়ার ফ্রিকোয়েন্সির দিকেও খেয়াল রাখতে হবে- কে কতটা চিনি খাচ্ছে, শুধু সেটাই দাঁতের ক্ষতি করে না, বরং কত ঘন ঘন খাচ্ছে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবার যখন কেউ চিনি বা পরিশোধিত শর্করা খায়, তখন ব্যাকটেরিয়া অ্যাসিড তৈরি করে যা ২০ থেকে ৩০ মিনিট ধরে এনামেলের উপর আক্রমণ করে। ডা. নিরালি প্যাটেল ব্যাখ্যা করেন, “ক্রমাগত স্ন্যাকস খাওয়া বা মিষ্টি পানীয় পান করলে দাঁত অবিরাম অ্যাসিড আক্রমণের শিকার হয়, ফলে লালা পিএইচ-কে নিরপেক্ষ করতে এবং এনামেল মেরামত করার কোনও সুযোগ পায় না।”
advertisement
ব্যথার জন্য অপেক্ষা না করে ডেন্টিস্টের কাছে যেতে হবে- অনেকেই দাঁতে ব্যথা অনুভব করলে তবেই কেবল ডেন্টিস্টের কাছে যান। তবে, দাঁতের পরীক্ষা মূলত চিকিৎসার জন্য নয়, বরং প্রতিরোধের জন্যই করা হয়। ডা. নিরালি প্যাটেল বলেন, “যখন আপনি ব্যথা অনুভব করেন, ততক্ষণে সমস্যাটি প্রায়শই গুরুতর হয়ে যায় এবং এর চিকিৎসাও আরও ব্যয়বহুল হয়।” “নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে আমরা মাড়ির রোগ, এনামেলের ক্ষয় এবং এমনকি মুখের ক্যানসারের মতো নীরব সমস্যাগুলো প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করতে পারি।” সঠিক ডেন্টাল কেয়ার-একটি সুস্থ হাসি ধরে রাখার জন্য বাড়িতে নিয়মিত যত্ন এবং একটি বিশ্বস্ত ডেন্টাল টিমের পেশাদার তত্ত্বাবধান প্রয়োজন। সঠিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কৌশল, বুদ্ধিদীপ্ত খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত চেকআপের সমন্বয়ে সারাজীবনের জন্য নিজের দাঁতকে সুরক্ষিত রাখা যেতে পারে।








