ফ্ল্যাট বা বাড়ি কেনার প্ল্যান করছেন? তবে চোখ রাখুন সুদের হারে-কোন ব্যাঙ্কে কত হোম লোন সুদ? জেনে নিন

Last Updated:
নিজের বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন কমবেশি সবারই থাকে। কিন্তু লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা মধ্যবিত্তের কাছে ক্রমশই কঠিন হয়ে উঠছে।
1/8
কলকাতা : ভারতীয় মধ্যবিত্তদের প্রাথমিক স্বপ্ন হল একটি বাড়ির মালিকানা। তবে, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং পরিবর্তিত জীবনযাত্রা অনেক মধ্যবিত্ত ভারতীয়ের জন্য বাড়ি কেনা আগের চেয়েও কঠিন করে তুলেছে। আসলে, বাড়ি কেনা কঠিন তারা কম আয় করে বলে নয়, বরং বিগত কয়েক দশক ধরে বেতন বৃদ্ধির চেয়ে নির্মাণ সামগ্রীর দাম দ্রুত বেড়েছে।
নিজের বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার স্বপ্ন কমবেশি সবারই থাকে। কিন্তু লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা মধ্যবিত্তের কাছে ক্রমশই কঠিন হয়ে উঠছে। পছন্দের ফ্ল্যাট মিললেও শুরু হয় নতুন চিন্তা—ব্যাঙ্ক লোন কীভাবে পাওয়া যাবে, কোন ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নিলে ইএমআই তুলনামূলক কম পড়বে। ফলে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িয়ে যায় দীর্ঘ হিসেব–নিকেশ।
advertisement
2/8
বিগত কয়েক দশকের তথ্যের দিকে নজর দিলে এই প্রবণতা নিশ্চিত হয়। নো ব্রোকার এবং পিডব্লিউসি-র মতে, ২০০০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ভারতের শীর্ষ মেট্রো শহরগুলির কিছু অংশে বাড়ির দাম বার্ষিক ১০-১১% বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতীয়ভাবে, গড় বাড়ির দাম বার্ষিক প্রায় ৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। তথ্য দেখায় যে আয় বৃদ্ধি সম্পদের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেনি।
ভারতীয় সমাজে বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনাকে এখনও আর্থিক সাফল্যের অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে দেখা হয়। সেই কারণেই কেরিয়ার শুরুর কয়েক বছরের মধ্যেই বহু তরুণ-তরুণী বা নবদম্পতি হোম লোন নেওয়ার দিকে ঝোঁকেন। বর্তমানে দেশে সরকারি ও বেসরকারি বহু ব্যাঙ্ক এবং নন-ব্যাঙ্কিং আর্থিক সংস্থা (NBFC) হোম লোন দেয়। তাই ঋণ পাওয়া তুলনামূলক সহজ হলেও, সঠিক সংস্থা বেছে নেওয়াটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
advertisement
3/8
এখানে জানুন ৩/২০/৩০/৪০ ফর্মুলা, যা আপনার সব ধরনের বিভ্রান্তি দূর করে দেবে। ৬০ লক্ষ টাকার বাড়ি কিনতে হলে কত হওয়া উচিত বেতন? এই ফর্মুলাই দূর করবে কনফিউশন ৷ হোম লোন মধ্যবিত্তদের জন্য বাড়ি কেনার স্বপ্ন অনেকটাই সহজ করে দিয়েছে। কারণ, বাড়ি কেনার জন্য একসঙ্গে লক্ষ লক্ষ টাকার বড় অঙ্কের প্রয়োজন হয়, যা জোগাড় করা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে হোম লোনের মাধ্যমে সহজেই এই স্বপ্ন পূরণ করা যায়। তবে প্রশ্ন একটাই—আসলে হোম লোন কতটা নেওয়া উচিত?
হোম লোনের সুদের হার নির্ভর করে একাধিক বিষয়ের উপর—CIBIL স্কোর, ঋণের পরিমাণ, ঋণের মেয়াদ (Tenure) এবং রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের রেপো রেটের উপর। সামান্য সুদের পার্থক্যও দীর্ঘমেয়াদে ইএমআইয়ের অঙ্কে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই লোন নেওয়ার আগে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের সুদের হার তুলনা করা অত্যন্ত জরুরি।
advertisement
4/8
সাল ২০০০-এর গোড়ার দিকের কথা মনে করতে হবে, তখন চিত্রটি আজকের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। দিল্লি এবং অন্যান্য প্রধান শহরগুলিতে একটি সাধারণ বাড়ির দাম ১০ থেকে ৪০ লাখ টাকার মধ্যে ছিল। তখন, গৃহ ঋণের ইএমআই এবং বাড়ি ভাড়ার মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য ছিল না। এই কারণেই, বেশিরভাগ মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ভাড়ার রসিদ পরিশোধের চেয়ে ব্যাঙ্কের কিস্তি পরিশোধ করা বেশি বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত ছিল।
একটি অনলাইন এগ্রিগেটর সংস্থার ডিসেম্বর মাসের তথ্য অনুযায়ী, দেশের কয়েকটি প্রথম সারির ব্যাঙ্ক ও হাউজ়িং ফিনান্স সংস্থার বেসিক হোম লোন সুদের হার নিম্নরূপ—ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া: ৭.১০ শতাংশ থেকেকানাড়া ব্যাঙ্ক: ৭.১৫ শতাংশ থেকে
advertisement
5/8
সামগ্রিক রিয়েল এস্টেট পরিবেশও সহায়ক। অ্যাটমোস্ফিয়ার লিভিং-এর গ্লোবাল সিইও সন্দীপ আহুজা উল্লেখ করেছেন যে, আরবিআই-এর ৫.৫০% স্থিতিশীল রেপো রেট ঋণের খরচ স্থিতিশীল রেখেছে। এই স্থিতিশীল আর্থিক পটভূমি সহায়ক ডেভেলপার স্কিম এবং সরকারি নীতির সঙ্গে মিলিত হয়ে আরও ক্রেতাদের - বিশেষ করে প্রিমিয়াম এবং ব্র্যান্ডেড হোম বিভাগে - দ্বিতীয় সম্পত্তি আপগ্রেড বা বিনিয়োগ বিবেচনা করার জন্য উৎসাহিত করছে। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে, FY২৭ এমন বছর হতে পারে, যখন দ্বিতীয় বাড়ির মালিকানা মূলধারায় পরিণত হবে।
পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক: ৭.২০ শতাংশ থেকেস্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI): ৭.২৫ শতাংশ থেকেপাঞ্জাব ও সিন্ধ ব্যাঙ্ক: ৭.৩০ শতাংশ থেকে
advertisement
6/8
 HDFC ব্যাঙ্ক: ৭.৯০ শতাংশ থেকে<br />ফেডারেল ব্যাঙ্ক: ৭.৯০ শতাংশ থেকে<br />ICICI ব্যাঙ্ক: ৭.৬৫ শতাংশ থেকে
HDFC ব্যাঙ্ক: ৭.৯০ শতাংশ থেকেফেডারেল ব্যাঙ্ক: ৭.৯০ শতাংশ থেকেICICI ব্যাঙ্ক: ৭.৬৫ শতাংশ থেকে
advertisement
7/8
মানুষ তাদের পুরো সঞ্চয় ডাউন পেমেন্টে বিনিয়োগ করে। এর পরে তাদের বেতনের অর্ধেকেরও বেশি বছরের পর বছর ধরে EMI পরিশোধে ব্যয় হয়। ফলাফল? জরুরি তহবিলও থাকে না, জীবনে নমনীয়তাও থাকে না। যদি কেউ অন্য শহরে চাকরি পায়, তাহলে স্থানান্তর করা কঠিন, বাড়ি মেরামতের খরচ আলাদা এবং নিজেকেই সম্পত্তি কর দিতে হবে।
কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্ক: ৭.০৭ শতাংশ থেকেঅ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক: ৮.২৫ শতাংশ থেকেবাজাজ হাউজ়িং ফিনান্স: ৭.১৫ শতাংশ থেকেPNB হাউজ়িং ফিনান্স: ৭.২০ শতাংশ থেকেLIC হাউজ়িং ফিনান্স: ৭.১৫ শতাংশ থেকে
advertisement
8/8
ধরা যাক কেউ ১ কোটি টাকার একটি ফ্ল্যাট কিনেছে এবং এর জন্য ব্যাঙ্ক থেকে ৮০ লাখ টাকার হোম লোন নেওয়া হল। এর উপরে ৯% সুদের হারে এবং ২০ বছর মেয়াদে প্রতি মাসে প্রায় ৭২,০০০ টাকা ইএমআই দিতে হবে। অর্থাৎ, ২০ বছরে মোট প্রায় ১.৭৩ কোটি টাকা দিতে হবে। অথচ বাড়ির দাম ছিল মাত্র ১ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৯৩ লাখ টাকা কেবল সুদ হিসেবেই যায়। অর্থাৎ, ওই বাড়ি কেনার জন্য যে পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হবে, তার জন্য একই বাড়িতে বহু বছর ধরে ভাড়ায় থাকা যেত। তবুও, কেনও মানুষ এটাকে অপচয় বলে মনে করে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, হোম লোন নেওয়ার আগে শুধু সুদের হার নয়, প্রসেসিং ফি, প্রি-পেমেন্ট চার্জ এবং ভবিষ্যতে সুদের হার পরিবর্তনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা উচিত। সঠিক পরিকল্পনা ও তুলনা করলে বাড়ির স্বপ্ন বাস্তবায়ন কিছুটা হলেও সহজ হতে পারে।
advertisement
advertisement
advertisement