advertisement

East Medinipur News: প্রাকৃতিক দুর্যোগ-দুর্ভিক্ষেও থামেনি পড়াশোনা! পটাশপুরের ঐতিহ্যবাহী স্কুল, হাজারও ঝড়ঝাপটা পেরিয়ে আজও ছড়াচ্ছে শিক্ষার আলো

Last Updated:

East Medinipur News: পটাশপুর তো বটেই, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী স্কুল এটি। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু সংগ্রামী ইতিহাস। এত বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও সেগুলি অনেকের অজানা।

+
পূর্ব

পূর্ব মেদিনীপুরের টিকরাপাড়া অম্বিকাময়ী উচ্চ বিদ্যালয়

পটাশপুর, মদন মাইতিঃ শতাব্দী প্রাচীন ইতিহাস বিজড়িত এক স্কুল। মাটির ভবনেই শুরু হয়েছিল পঠনপাঠন। উনপঞ্চাশের ঝড়ে বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবন ভূমিসাৎ হয়ে যায়। এরপর পঞ্চাশের দুর্ভিক্ষ। বেতন দিয়ে কে পড়বে স্কুলে? সেই সময় আবার ভারত ছাড়ো আন্দোলনের আবহ। তবু বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা বিনা বেতনে স্কুল চালিয়ে যান। টিকরাপাড়া অম্বিকাময়ী উচ্চ বিদ্যালয় আজ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর ২ ব্লক সুপ্রতিষ্ঠিত এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু আজকের ঝাঁ চকচকে ভবনের পিছনে লুকিয়ে আছে সংগ্রাম, ত্যাগ ও অসামান্য উদ্যোগের ইতিহাস। সেই ইতিহাস শুনলে গা শিউরে উঠতে পারে।
প্রায় এক শতাব্দী আগে সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে শুরু হয়েছিল এই বিদ্যালয়ের পথচলা। আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক মন্মথ দাস তাঁর পটাশপুরের ‘সেকাল একাল’ গ্রন্থে বলেছেন, পুরোনো ইউ.পি. স্কুলের ভিত্তিতে ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় টিকরাপাড়া এম.ই. স্কুল। জমিদার প্রভাসচন্দ্র মিত্র ভূমিদান করে এই উদ্যোগকে বাস্তব রূপ দেন। পরে তাঁর পুত্র অনিলকুমার মিত্র এবং পরিবারের সদস্যা নিভাননী দেবী অতিরিক্ত জমি দান করেন। মাটির ঘর নির্মাণ করে শুরু হয় পাঠদান। সেই সময় প্রধান শিক্ষক ছিলেন ত্রৈলোক্যনাথ রায়। জেলা বোর্ডের সামান্য সাহায্য ও ছাত্রদের বেতনের টাকায় প্রথম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় দুই দশক বিদ্যালয়টি চলেছিল। এরপর উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখা শুরু হয়।
advertisement
আরও পড়ুনঃ গরমের আগেই জলের সমস্যা! রান্না-খাওয়া-স্নান নিয়ে কষ্ট, জলপাইগুড়ির দুই ওয়ার্ডে ভয়াবহ অবস্থা
বাগমারী গ্রামের পণ্ডিত গিরিশচন্দ্র মিশ্রের পুত্র গণেশচন্দ্র মিশ্র অসুস্থতার কারণে কলকাতায় পড়াশোনা শেষ করতে না পেরে গ্রামে ফিরে আসেন। তাঁকেই প্রধান শিক্ষক করে এলাকার বিদ্যোৎসাহীরা হাইস্কুল গঠনের উদ্যোগ নেন। ১৯৪১ সালে সপ্তম এবং ১৯৪২ সালে অষ্টম শ্রেণির পাঠ শুরু হয়।
advertisement
advertisement
স্থানীয় সহযোগিতায় কাঁচা ইটের দ্বিতল ভবন তৈরি হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৪১ বিদ্যালয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পায়। পরবর্তীকালে সেই দিনটিকেই প্রতিষ্ঠা দিবস ধরা হয়। কিন্তু সুখ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। উনপঞ্চাশের ভয়াবহ ঝড়ে নতুন ভবন ভেঙে পড়ে। তার পরেই দুর্ভিক্ষ। ছাত্র কমে যায়। অর্থ সংকটে স্কুল বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবু শিক্ষকেরা বিনা বেতনে ক্লাস চালিয়ে যান।
advertisement
১৯৪৫-৪৬ সালে আবার ভবন নির্মাণে এগিয়ে আসেন স্থানীয় মানুষ। শর্তাধীন অনুমোদনের জন্য প্রয়োজন ছিল পাকা ঘর ও তহবিল। তখন বাগমারী গ্রামের রাজেন্দ্রনাথ ও রাখালচন্দ্র পঞ্চাশ বিঘা জলজমি ও অর্থ দান করেন। তাঁদের মাতার নামে বিদ্যালয়ের নতুন নামকরণ হয়। ১৯৫৪ সালে প্রধান শিক্ষক হয়ে আসেন প্রমথনাথ বসু। দীর্ঘ ৩৪ বছরে তিনি বিদ্যালয়ের ভিত শক্ত করেন।
advertisement
আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন
১৯৫৯ সালে বিদ্যালয় উচ্চতর স্তরে উন্নীত হয়। পরে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা চালু হয়। বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার ছাত্রছাত্রী এখানে পড়াশোনা করে। বৃত্তিমূলক শিক্ষা, খেলাধুলা ও এনসিসি কার্যক্রমেও রয়েছে সুনাম। আজকের আধুনিক রূপের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই সংগ্রামী ইতিহাস অনেকের কাছেই এখনও অজানা।
view comments
বাংলা খবর/ খবর/পশ্চিমবঙ্গ/
East Medinipur News: প্রাকৃতিক দুর্যোগ-দুর্ভিক্ষেও থামেনি পড়াশোনা! পটাশপুরের ঐতিহ্যবাহী স্কুল, হাজারও ঝড়ঝাপটা পেরিয়ে আজও ছড়াচ্ছে শিক্ষার আলো
Next Article
advertisement
Bomb Threat in Ruby Passport Office: রুবি-সল্টলেক পাসপোর্ট অফিসে বোমাতঙ্ক, জেলায় জেলায় ডাকঘরগুলিতে বিস্ফোরণের হুমকি-মেল! রাজ্যজুড়ে শোরগোল
রুবি-সল্টলেক পাসপোর্ট অফিসে বোমাতঙ্ক, জেলায় জেলায় ডাকঘরে বিস্ফোরণের হুমকি-মেল! চাঞ্চল্য
  • আদালতে বোমাতঙ্কের পর এবার জেলায় জেলায় পোস্ট অফিসে বোমাতঙ্কের খবর

  • এমনকী খাস কলকাতায় রুবি পাসপোর্ট অফিসেও বোমাতঙ্কের খবর

  • সেক্টর ফাইভের পাসপোর্ট অফিসেও বোমাতঙ্ক ছড়াল

VIEW MORE
advertisement
ফরচুন কুকি
ফরচুন কুকি ভাঙুন আর ঝটপট জেনে নিন, আজ আপনার জীবনে কী সারপ্রাইজ লুকিয়ে আছে!
fortune cookie
advertisement