Burdwan latest News| কাটোয়ার ত্রাস হয়ে উঠেছে 'ভোলা'! আতঙ্কে গৃহবন্দি গোটা গ্রাম...

এই সেই ভোলা। ভোলার ভয়ে ত্রস্ত কাটোয়া।

Burdwan latest News| শিশুদের ঘর থেকে বেরোনো একরকম বন্ধ। মাঠের ফসল নষ্ট হচ্ছে। সবাই এখন ভোলার হামলা থেকে প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত।

  • Share this:

#কাটোয়া: ভোলা গুন্ডা। তার আতঙ্কে গ্রামবাসীরা দরজা এঁটে ঘরের ভেতর দিন কাটাচ্ছেন। সোমবার বিকালে ভোলার হামলায়  রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস নামে এক প্রৌঢ়ের মৃত্যুও হয়েছে। এর আগেও ভোলার হামলায় অশোক ঘোষ নামে এক প্রৌঢ় মারা গিয়েছিলেন। কাটোয়া থানার মোস্তাফাপুর গ্রামের ভোলা গুন্ডা (Ox terrified Burdwan)এলাকায় ত্রাস হয়ে উঠেছে। ভোলার তান্ডবে গ্রামের স্বাভাবিক জীবন তছনছ হয়েছে। যখন তখন  পথ- ঘাটে  বাড়ি- ঘরে  ভোলার উৎপাত। ভয়ে সিঁটিয়ে থেকেও রেহাই পায়নি। শিশুদের ঘর থেকে বেরোনো একরকম  বন্ধ।  মাঠের ফসল নষ্ট হচ্ছে। সবাই এখন ভোলার হামলা থেকে প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত।

ষাঁড়ের নাম ভোলা। বছর দশেক আগে এই ষাঁড় মোস্তাফাপুর গ্রামে এসেছিল। প্রথম দিকে গ্রামবাসীরা আদর করে নাম দিয়েছিল ভোলা। গ্রামবাসীদের আদর ও স্নেহে লালিত শান্ত ভোলা তার স্বভাব পাল্টে ত্রাসে পরিণত হয়েছে। দুবছর ধরে গ্রামে দফায় দফায় ক্ষতি করছে। দুজনকে গ্রামবাসীকে সিংয়ের গুঁতোয়  খুন করেছে। জখম হয়েছে আরও  পঞ্চাশ-ষাট জন।  জখমদের মধ্যে অনেকেই এখনও চিকিৎসাধীন। ব্লক প্রশাসন থেকে মহকুমা প্রশাসনের কাছে বার বার আবেদন করেও কোনও  ফল হয়নি বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের।

আরও পড়ুন-মা-রাই হয়ে উঠুক নিজের সন্তানের আদর্শ শিক্ষক, সেই লক্ষ্যেই বীরভূমের গ্রামে গ্রামে প্রচার

২০১৯ সালে জুলাই মাসে অশোক ঘোষের মৃত্যুর পর  গ্রামবাসীরা বিডিও থেকে শুরু করে কাটোয়ার মহকুমা শাসকের কাছে ভোলার হামলা থেকে নিস্তারের লিখিত আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু কোনও ফল হয়নি। ভোলার দাদাগিরি দিন দিন বেড়েই চলেছে। সোমবার সন্ধ্যায় গোরুকে খাবার দিতে  গোয়ালের সামনে গিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস। ভোলা তাঁকে শিঙে করে তুলে বার চারেক মাটিতে  আছাড় দিয়ে মেরে ফেলে। রবীন্দ্রনাথের চিৎকার শুনে গ্রামবাসীদের অনেকেই ঘটনাস্থলে এসেছিলেন। কিন্তু ভোলার রুদ্র মূর্তি দেখে কেউ কাছে ঘেঁষতে সাহস পাননি। রবীন্দ্রনাথবাবুকে খুন করে এখন তাঁরই গোয়াল ঘরে  ডেরা বেঁধেছে  ভোলা।

কাটোয়া বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, "ষাঁড়ের গুঁতোয় মোস্তাফাপুর গ্রামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। অনেকে জখম হয়েছে বলে শুনেছি। ষাঁড়টিকে ধরে দূরে কোনও জঙ্গলে ছাড়ার  ব্যবস্থা করছি। যারা এই কাজে দক্ষ তাদের আসতে বলা হয়েছে।"

এই সমস্যার সমাধান করা যাদের কথা সেই প্রাণী সম্পদ দপ্তর বলছে তাদের উপযুক্ত  পরিকাঠামো নেই। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের অভিযোগ ,ভোলার আক্রমণে  দুজনের  প্রাণ গেল। পঞ্চাশ-ষাট জন কমবেশি  জখম   হয়েছেন। ষাঁড়ের জন্য এবার গ্রামছাড়া হওয়ার জোগাড়।

-শরদিন্দু ঘোষ

Published by:Arka Deb
First published: