• Home
  • »
  • News
  • »
  • south-bengal
  • »
  • DURGAPUR INDEPENDENCE DAY DURGAPUR ZAMINDAR HOUSE WAS FAMOUS FOR SECRET SHELTER OF FREEDOM FIGHTER SR

Independence Day: আটবাড়ির গঠনশৈলি বারবার ব্রিটিশদের হাত থেকে বাঁচিয়ে দিত বিপ্লবীদের!

নডিহার জমিদার মুখোপাধ্যায় পরিবারের আট পুত্রের বাসস্থান ছিল এই আটবাড়ি। ব্রিটিশ শাসকদের কড়া নজর ছিলএই জমিদার পরিবারের ওপর।

নডিহার জমিদার মুখোপাধ্যায় পরিবারের আট পুত্রের বাসস্থান ছিল এই আটবাড়ি। ব্রিটিশ শাসকদের কড়া নজর ছিলএই জমিদার পরিবারের ওপর।

  • Share this:

    Nayan Ghosh

    #দুর্গাপুর: ইতিহাসের পাতায় সে অর্থে ঠাঁই পায়নি এই জমিদার বাড়ি। তবে আটবাড়ি ধন্য হয়েছে বহু স্বাধীনতা সংগ্রামীর আগমনে।

    দুর্গাপুরের (Durgapur) প্রাচীন জনপদ নডিহা (Nadiha)। সেখানেই বহু ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে আটবাড়ি। নডিহার জমিদার মুখোপাধ্যায় পরিবারের আট পুত্রের বাসস্থান ছিল এই আটবাড়ি। ব্রিটিশ শাসকদের কড়া নজর ছিল এই জমিদার পরিবারের ওপর। বাংলার স্বাধীনতার ইতিহাসে বিশেষ পরিচিত নাম নয় নডিহা আটবাড়ি। জমিদার দুর্গাচরণের নামনুসারে নডিহা সহ বেশ কয়েকটি এলাকা নিয়ে গঠিত হয় দুর্গাপুর। দুর্গাচরণের দিদির সঙ্গে বিবাহ হয় নডিহার তারকনাথ মুখোপাধ্যায়ের। তাঁদেরই আট পুত্রের জন্য নির্মিত হয়েছিল আটবাড়ি। যে আটবাড়ি পরবর্তকীকালে পরিণত হয়েছিল স্বাধীনতা সংগ্রামীদের গোপন আস্তানায়।

    বর্ধমানের রাজ পরিবারের অধীনে ছিল নডিহার জমিদারবাড়ি। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়ও দুর্গাপুর ঘন জঙ্গলে ঢাকা ছিল। ফলে এই এলাকা গা ঢাকা দেওয়ার জন্য ছিল আদর্শ একটি জায়গা। তাই স্বাধীনতা সংগ্রামীরা আত্মগোপনের জন্য বারবার এসে আশ্রয় নিয়েছেন আটবাড়িতে।

    তারকনাথ মুখোপাধ্যায়ের আট সন্তান তখন পরোক্ষভাবে অংশ নিয়েছেন স্বাধীনতা সংগ্রামে। আশ্রয় দিয়েছেন বিভিন্ন স্বাধীনতা সংগ্রামীকে। কিন্তু আটবাড়িকে বরাবর ব্রিটিশ সৈন্যদের নজর এড়িয়ে চলতে হয়েছে। কারণ ব্রিটিশ শাসকরা খুব ভালভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন এই এলাকায় বিপ্লবীদের আনাগোনা রয়েছে। তা নিয়ে বারবার সাহেব প্রাশসকদের মুখোমুখি হতে হয়েছে তারকনাথ মুখোপাধ্যায় ও তাঁর সন্তানদের। তবে আটবাড়ির গঠনমূলক বৈশিষ্টের জন্য ব্রিটিশ সৈন্যরা কখনও আটবাড়ির চৌহদ্দিতে কোনও স্বাধীনতা সংগ্রামীর টিকি ছুঁতে পারেনি।

    আটবাড়ির অন্যতম সদস্য শরৎচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ছিলেন ব্রিটিশ আমলের আইনজীবী। এলাকায় দুঁদে আইনজীবী বলে পরিচিত ছিলেন তিনি। দেশজুড়ে সেই সময় ব্রিটিশ রাজ চললেও, কখনও তাদের কাছে মাথা নত করেননি শরৎচন্দ্র মুখোপাধ্যায়। দাপটের সঙ্গে তিনি সামলে গিয়েছেন নিজের দায়িত্ব। তাঁর সেই বাড়িটি এখনও গৌরবের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আটবাড়ি এলাকায়। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়েও নডিহার মুখোপাধ্যায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল দেশের গন্যমান্য ব্যক্তিদের। বাংলার রূপকার বিধান চন্দ্র রায় একটা সময় এই পরিাবরের পারিবারিক চিকিৎসক ছিলেন। বিধান চন্দ্র রায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেও যোগাযোগ রেখেছিলেন আটবাড়ির সঙ্গে। দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর সঙ্গেও নিবিড় যোগাযোগ ছিল আটবাড়ির। যোগাযোগ ছিল প্রফুল্ল সেনের সঙ্গেও।

    যদিও আটবাড়ির খুব কম সদস্যই এখানে থাকেন। বেশিরভাগ সদস্য দুর্গাপুরের অন্য জায়গায় বাড়ি বানিয়ে চলে গিয়েছেন। অনেকের বর্তমান বাসস্থান কলকাতা। বেশকিছু সদস্য এখন বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। ফলে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জৌলুস হারিয়েছে অনেক না জানা স্বাধীনতা ইতিহাসের সাক্ষী আটবাড়ি।

    Published by:Simli Raha
    First published: