ফুলেরা দুজ: রাধার মান ভাঙাতে কৃষ্ণ আজ সাহায্য নিয়েছিলেন ফুলের, ভক্তেরা এই ব্রত উদযাপনে কী লাভ করেন?

ফুলেরা দুজ: রাধার মান ভাঙাতে কৃষ্ণ আজ সাহায্য নিয়েছিলেন ফুলের, ভক্তেরা এই ব্রত উদযাপনে কী লাভ করেন?

ফুলেরা দুজ: রাধার মান ভাঙাতে কৃষ্ণ আজ সাহায্য নিয়েছিলেন ফুলের, ভক্তেরা এই ব্রত উদযাপনে কী লাভ করেন?

যেহেতু কৃষ্ণকেন্দ্রিক উৎসব, সেহেতু দেশের উত্তরপ্রদেশ, বিশেষ করে বৃন্দাবনে, মথুরায়, ব্রজধামে এর উদযাপনের প্রাবল্য বেশি।

  • Share this:

#কলকাতা: ভালোবাসা না থাকলে জীবন বিবর্ণ তো হয়ে পড়েই! কিন্তু হিন্দু পবিত্র তিথিগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুলেরা দুজ উদযাপনের মূলে রয়েছে রাধার ভালোবাসা এবং অভিমান। সে কারণে তার প্রকোপ যেমন চরম, তেমনই এই ব্রত পালনে ভক্তদেরও প্রাপ্তি হয় অনির্বচনীয় সুখ।

ফুলেরা দুজ ইতিকথা:

বলা হয়, একদা কাজের চোটে ব্যস্ত থাকায় কৃষ্ণ সঙ্কেতকুঞ্জে যেতে পারেননি। ব্যর্থ হয়েছিল রাধার অভিসার। হ্লাদিনী শক্তির কোপে তখন বৃন্দাবনের ফুল শুকিয়ে যেতে থাকে। শুধু তাই নয়, একই সঙ্গে গবাদি পশুরাও মৃত্যুমুখে পতিত হতে থাকে। জানতে পেরে তৎক্ষণাৎ কৃষ্ণ রওনা দেন বৃন্দাবন থেকে রাধার গ্রাম বরসনার উদ্দেশ্যে। সেখানে তিনি পৌঁছেছিলেন ফাল্গুন মাসের শুক্লপক্ষের দুজ বা দ্বিতীয়া তিথিতে, ফুল দিয়ে ভাঙিয়েছিলেন রাধার অভিমান। তাই এই তিথিকে বলা হয়ে থাকে ফুলেরা দুজ। লোকবিশ্বাস, এই দিন থেকেই দোল উৎসব উদযাপনের প্রস্তুতিও শুরু করেছিলেন কৃষ্ণ।

ফুলেরা দুজ উদযাপন:

যেহেতু কৃষ্ণকেন্দ্রিক উৎসব, সেহেতু দেশের উত্তরপ্রদেশ, বিশেষ করে বৃন্দাবনে, মথুরায়, ব্রজধামে এর উদযাপনের প্রাবল্য বেশি। এই দিন রাধাকৃষ্ণের যুগল বিগ্রহকে সাজানো হয় ফুল দিয়ে, ভক্তেরা সারা দিন উপবাসে কাটিয়ে, শুদ্ধাচারে রাধাকৃষ্ণের পূজা দিয়ে নিজেদের মধ্যে ফুলের পাপড়ি ছুড়ে দোল খেলেন।

ফুলেরা দুজ পুণ্যতিথি:

এই বছরে ফুলেরা দুজ শুরু হয়েছে ১৪ মার্চ বিকেল ৫টা ১০ মিনিট থেকে। এই পুণ্যতিথি সমাপ্ত হবে ১৫ মার্চ সন্ধ্যা ৬টা ০৯ মিনিটে।

ফুলেরা দুজ মাহাত্ম্য:

বলা হয়, বিবাহের পক্ষে এই দিনটি না কি আদর্শ। এই দিন যাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, তাঁদের মধ্যে ভালোবাসা আমৃত্যু অটুট থাকে। পাশাপাশি, মাঙ্গলিক এবং বিবাহ সংক্রান্ত অন্য দোষ খণ্ডনের জন্যও এই তিথিটিকে সর্বাপেক্ষা ফলপ্রদ বলা হয়ে থাকে।

ফুলেরা দুজ বিবাহ মুহূর্ত:

সাধারণত শুভ লগ্ন দেখে বিবাহের অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়। কিন্তু ফুলেরা দুজ তিথিটিই যেহেতু বিবাহের পক্ষে সর্বোত্তম, সেহেতু এই দিনে আলাদা করে কোনও বিশেষ লগ্নের প্রয়োজন পড়ে না, দ্বিতীয়া তিথির মধ্যে যে কোনও মুহূর্তে বিবাহের অনুষ্ঠান আয়োজন করা যায়।

গৃহে ফুলেরা দুজ উদযাপন:

অনেকে এই দিন রাধাকৃষ্ণের পুষ্পপ্রীতির স্মরণে ফুল দিয়ে রঙ্গোলি তৈরি করে বাড়ি সাজিয়ে থাকেন। ফুলেরা দুজে রাধাকৃষ্ণকো পোহা বা চিঁড়ে ভোগ দেওয়ার প্রচলন আছে।

Published by:Debalina Datta
First published:

লেটেস্ট খবর