advertisement

১০ মাসের শিশুকন্যা জীবন বাঁচিয়ে গেল ৫ জনের! কেরলে সন্তান হারানোর শোক অতিক্রম করে বিরাট সিদ্ধান্ত বাবা-মায়ের!

Last Updated:

10 Month Old Child Saves 5 Lives In Kerala: কেরলের ১০ মাসের ছেলে বাঁচাল ৫টি প্রাণ! অঙ্গদান কী, কারা করতে পারেন, কী ভাবে নথিভুক্ত করবেন, ভ্রান্ত ধারণা ও বাস্তবতা জানুন।

    ১০ মাসের শিশু জীবন বাঁচিয়ে গেল ৫ জনের! কেরলে সন্তান হারানোর শোক অতিক্রম করে বিরাট সিদ্ধান্ত বাবা-মায়ের!
১০ মাসের শিশু জীবন বাঁচিয়ে গেল ৫ জনের! কেরলে সন্তান হারানোর শোক অতিক্রম করে বিরাট সিদ্ধান্ত বাবা-মায়ের!
হাসপাতালের নীরব করিডরে হৃদয়বিদারক ঘটনার মধ্যেও জন্ম নিল মানবিকতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। কেরলের পাথানামথিট্টা জেলার মল্লাপল্লির ১০ মাসের শিশু আলিন শেরিন আব্রাহাম। সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ব্যক্তিগত শোক অতিক্রম করে তার বাবা-মা মেয়ের অঙ্গদান করার সিদ্ধান্ত নেন।
৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর প্রায় ২ টো৩০ নাগাদ শিশুটি মা ও দাদু-দিদার সঙ্গে কোট্টায়ম থেকে তিরুভল্লার দিকে এমসি রোড দিয়ে যাচ্ছিল। একটি সংযোগস্থলের কাছে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ি তাঁদের গাড়িতে ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনায় শিশুটি গুরুতর আহত হয়, পরিবারের অন্য সদস্যরাও জখম হন।
অমৃতা হাসপাতালে আলিনের অঙ্গ সংগ্রহ করা হয়। তাঁর লিভার, দুটি কিডনি, হার্ট ভালভ এবং দুটি কর্নিয়া দান করা হয়েছে। লিভারটি কিমস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছয় মাসের এক শিশুর দেহে প্রতিস্থাপিত হবে, যা রাজ্যে মৃত্যুর পর অঙ্গদানের মাধ্যমে প্রাপ্ত লিভার প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে সর্বকনিষ্ঠ প্রাপকের ঘটনা। দুটি কিডনি তিরুবনন্তপুরম মেডিক্যাল কলেজের এসএটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশুকে দেওয়া হবে। হার্ট ভালভ প্রতিস্থাপন করা হবে শ্রী চিত্রা তিরুনাল ইনস্টিটিউট ফর মেডিক্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে, আর কর্নিয়াগুলি অমৃতা হাসপাতালেই সংরক্ষিত থাকবে।
advertisement
advertisement
অঙ্গদান কী এবং কখন হয়? 
অঙ্গদান হল এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে একজন দাতা নিজের অঙ্গ বা অঙ্গের অংশ এমন একজন রোগীকে দেন, যার জীবন রক্ষার জন্য প্রতিস্থাপন জরুরি। প্রতিস্থাপন শল্যচিকিৎসায় সুস্থ অঙ্গ দাতার দেহ থেকে নিয়ে গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তির দেহে বসানো হয়।
advertisement
অঙ্গদান জীবিত অবস্থায় বা মৃত্যুর পর—দুইভাবেই হতে পারে। জীবিত দানের ক্ষেত্রে একজন সুস্থ ব্যক্তি স্বেচ্ছায় অঙ্গ দান করেন। মানুষ একটি কিডনি নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন, কারণ জন্মগতভাবে দুটি কিডনি থাকে। তেমনই লিভারের একটি অংশও দান করা যায়।
মৃত্যুর পর অঙ্গদান সাধারণত ব্রেন ডেথ ঘোষণা হওয়ার পরে হয়। যন্ত্রের সাহায্যে সাময়িকভাবে হৃদস্পন্দন ও অক্সিজেন চলাচল বজায় থাকলেও আইনত ও চিকিৎসাগতভাবে ব্যক্তি মৃত বলে গণ্য হন। ব্রেন ডেথ নিশ্চিত হওয়ার পর এবং পরিবারের সম্মতি মিললেই অঙ্গ সংগ্রহ করা হয়।
advertisement
কী ভাবে অঙ্গদাতা হিসেবে নথিভুক্ত করবেন? 
• রাজ্যের অঙ্গদান রেজিস্ট্রিতে অনলাইনে অঙ্গীকার করা যায়।
• অনুমোদিত হাসপাতালের মাধ্যমে নাম নথিভুক্ত করা যায়।
• ন্যাশনাল অর্গান অ্যান্ড টিস্যু ট্রান্সপ্ল্যান্ট অর্গানাইজেশন (NOTTO)-এর অধীনে কাজ করা সংস্থার মাধ্যমে নিবন্ধন সম্ভব।
• অর্গান ডোনার কার্ড বহন করা যায়।
তবে নথিভুক্ত থাকলেও মৃত্যুর সময় পরিবারের সম্মতি বাধ্যতামূলক। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবারের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
advertisement
শিশুরা কি অঙ্গদাতা হতে পারে?
হ্যাঁ, শিশুদের ক্ষেত্রেও অঙ্গদান সম্ভব। অঙ্গদানের জন্য নির্দিষ্ট ন্যূনতম বয়স নেই। অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য তা চিকিৎসাগতভাবে উপযুক্ত কি না, সেটিই মূল বিষয়। ১৮ বছরের কম বয়সিদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেন বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবক। শিশু ও নবজাতকের অঙ্গদান বিরল হলেও অপেক্ষমাণ ছোট রোগীদের জন্য তা অমূল্য হতে পারে।
advertisement
ভ্রান্ত ধারণা ও বাস্তবতা
ভ্রান্ত ধারণা: অঙ্গদান করলে পরিবারের অতিরিক্ত খরচ হবে।
বাস্তবতা: অঙ্গ ও টিস্যু দানের জন্য পরিবারের কোনও অতিরিক্ত খরচ হয় না। হাসপাতাল ও প্রতিস্থাপন ব্যবস্থা ব্যয় বহন করে। পরিবারের দায়িত্ব কেবল স্বাভাবিক শেষকৃত্যের খরচ পর্যন্ত সীমিত।
ভ্রান্ত ধারণা: অঙ্গদান করলে দেহ বিকৃত হয়ে যায় এবং শেষকৃত্যে বাধা সৃষ্টি হয়।
বাস্তবতা: প্রশিক্ষিত শল্যচিকিৎসক দল অত্যন্ত সম্মান ও সতর্কতার সঙ্গে অঙ্গ সংগ্রহ করেন। এতে দেহের বাহ্যিক চেহারায় এমন পরিবর্তন হয় না, যা শেষকৃত্যে সমস্যা তৈরি করে।
advertisement
ভ্রান্ত ধারণা: নিবন্ধিত অঙ্গদাতাকে বাঁচাতে চিকিৎসকেরা কম চেষ্টা করেন।
বাস্তবতা: হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকদের একমাত্র লক্ষ্য থাকে রোগীর জীবন বাঁচানো। সব রকম চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এবং মৃত্যু ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত অঙ্গদান নিয়ে কোনও আলোচনা হয় না।
ভ্রান্ত ধারণা: ব্রেন ডেথ মানেই কোমা।
বাস্তবতা: ব্রেন ডেথ আইনত ও চিকিৎসাগতভাবে মৃত্যু হিসেবে স্বীকৃত। এতে মস্তিষ্কের সব কার্যকলাপ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। কোমার ক্ষেত্রে কিছু মস্তিষ্কীয় কার্যকলাপ থাকে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও থাকতে পারে।
আলিনের মতো একটি ছোট্ট প্রাণের অঙ্গদান বহু পরিবারের জীবনে নতুন আলো এনে দিয়েছে। ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেও মানবিকতার যে বার্তা উঠে এসেছে, তা অঙ্গদানের গুরুত্বকে নতুন করে সামনে এনেছে।
view comments
বাংলা খবর/ খবর/পাঁচমিশালি/
১০ মাসের শিশুকন্যা জীবন বাঁচিয়ে গেল ৫ জনের! কেরলে সন্তান হারানোর শোক অতিক্রম করে বিরাট সিদ্ধান্ত বাবা-মায়ের!
Next Article
advertisement
CPIM: ১৮ তারিখের মধ্যেই বামেদের আসন রফা, দাবি সেলিমের! ISF নিয়ে মুখ খুললেও হুমায়ুনকে উপেক্ষা
১৮ তারিখের মধ্যেই বামেদের আসন রফা, দাবি সেলিমের! ISF নিয়ে মুখ খুললেও হুমায়ুনকে উপেক্ষা
  • জোট নিয়ে মুখ খুললেন মহম্মদ সেলিম৷

  • ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বামেদের আসন রফা, দাবি সেলিমের৷

  • আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট নিয়েও মুখ খুললেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক৷

VIEW MORE
advertisement
ফরচুন কুকি
ফরচুন কুকি ভাঙুন আর ঝটপট জেনে নিন, আজ আপনার জীবনে কী সারপ্রাইজ লুকিয়ে আছে!
fortune cookie
advertisement