corona virus btn
corona virus btn
Loading

তাঁর থেকে ছড়াতে পারে মারণ রোগ, পরিবারের থেকে দূরে কোয়ারেন্টাইনে পরিযায়ী শ্রমিক, চোখ ভরা জলে

তাঁর থেকে ছড়াতে পারে মারণ রোগ, পরিবারের থেকে দূরে কোয়ারেন্টাইনে পরিযায়ী শ্রমিক, চোখ ভরা জলে

পরিবার এবং প্রতিবেশীদের থেকে দূরে রাখতে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে পুকুর পাড়ে থাকছেন এক পরিযায়ী শ্রমিক

  • Share this:

#রায়গঞ্জ: যে সংসারের জন্য আয় করেন,সেই সংসারই তাকে ব্রাত্য করে রেখেছেন।কারন তিনি পরিযায়ি শ্রমিক।তার কাছ থেকে রোগ ছড়াতে পারে এই আশঙ্কা করে পরিবারের কেউ দেখতে আসছেন না।বাড়ির পাশে থেকে পরিবারের সদস্যদের কাউকে দেখতে না পেয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না রায়গঞ্জ ব্লকের রারিয়া গ্রামের বাসিন্দা অজিত মন্ডল। কোন রকম গ্রামবাসীদের বাধায় নয় ব্যাক্তিগত সিদ্ধান্তে পরিবার এবং গ্রামবাসীদের থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্তকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বরুয়া গ্রামপঞ্চায়েত সদস্য কল্পনা সরকার।

রায়গঞ্জ ব্লক বরুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের রারিয়া গ্রামের বাসিন্দা অজিত মন্ডল।  সংসারে ছেলে মেয়েদের মুখে হাসি ফোটাতে জীবনের একটা বড় সময় ভিন রাজ্যে গিয়ে কাজ করে অর্থ উপার্জন করেছেন।তিনি হরিয়ানার মারুতি কোম্পানিতে কাজ করে অর্থ উপার্জন করেছেন। দিল্লিতে ভাড়া বাড়িতে থেকে হরিয়ানায় মারুতি কোম্পানিতে কাজ করেছেন। সেখানে কাজ করেই কর্মজীবন থেকে অবসরও নিয়েছেন।অবসরকালীন কিছু সুবিধা লাভের জন্য তিনি কোম্পানির দ্বারস্থ হয়েছিলেন। দেশে করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য দেশে লকডাউন ঘোষনা করেছে দেশের সরকার। হরিয়ানায় গিয়ে তিনি আটকে গিয়েছিলেন। গাড়ি চলাচল সব বন্ধ।

কোম্পানির কাছ থেকে যেটুকু নগদ অর্থ পেয়েছিলেন সেই অর্থ দিয়েই কোনরকম ভাবে দিন গুজরান করেছিলেন। লকডাউনের কারণে কোম্পানির কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে সেখানে পৌছেই তাকে নানান সমস্যার সন্মুখীন হতে হয়েছিল। বাড়ি ফেরার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে সেই চেষ্টা ব্যার্থ হয়। রারিয়া গ্রামে বেশ কিছু বাসিন্দা হরিয়ানায় বিভিন্ন পেশায় যুক্ত আছেন।তিনি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা একত্রিত করে একটি বাস ভাড়া করে গত রবিবার তিনি বাড়িতে ফেরেন।ভিন রাজ্য থেকে তিনি আসায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত তিনি পরিবার এবং গ্রামবাসীদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেন।বাড়ি থেকে কিছু দূরে এক পুকুরপাড়ে গাছের সঙ্গে মাচা তৈরী করেন।তার উপর টম বানিয়ে তার তলাতেই দিন কাটাচ্ছেন অজিত মন্ডল।সেখানেই তিনি রান্নাবান্না করে  নিজের খাওয়া তৈরী করছেন।ভিন রাজ্য অজিতবাবু আসায় তার পরিবারের কেউ তাকে দেখতেও আসছেন।কারন তার কাছ থেকে সেই মারন ভাইরাস করোনা ছড়িয়ে পড়তে পারে।এই আশঙ্কায় পরিবার থেকে প্রতিবেশী কেউ তার ধারেকাছে আসছেন না। টমের তলায় দিন গুজরান করলেও তাতে তার সামান্যটুকু কষ্ট হচ্ছে না।কিন্তু কষ্ট হচ্ছে যাদের মুখে হাঁসি ফোটানো জন্য বাড়িঘর ছেড়ে সুদূর হরিয়ানায় গিয়ে অর্থ উপার্জন করে এনেছেন।

সেই পরিবারের সদস্য স্ত্রী,ছেলে,মেয়ে কেউ একবারের জন্য দেখতে না আসায় চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না অজিতবাবু।অজিতবাবু জানিয়েছেন,বাড়ির খুব কাছে থেকে পরিবারের কাউকে তিনি একবারও দেখতে পারছেন না।সারা জীবনটা যাদের জন্য শেষ করে দিলেন আজ তারাই তাকে ব্রাত্য করে রেখেছেন একথা বলতে বলতেই হাউমাউ করে কেঁদে ফেললেন অজিত বাবু।রবিবার তিনি বাড়ি ফিরলেও আজ পর্যন্ত স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফ।থেকে কেউ তাকে দেখতেও আসে নি।ফলে কতদিন এভাবে  দিন কাটাতে হবে তা বুঝে উঠতে পারছেন না।অজিতবাবুর সিদ্ধান্তকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বরুয়া গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য কল্পনা সরকার।কল্পনাদেবী জানালেন অজিতবাবু বাড়িতে ফিরেছেন এটা তার জানা ছিল না।তিনি যে সবার কাছ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন তারজন্য তাকে অভিনন্দন জানান।অজিতবাবুকে পঞ্চায়েতের তরফ থেকে সাহা্যের জন্য তিনি পদক্ষেপ গ্রহন করার আশ্বাস দিয়েছেন।নৃপেন সরকার নামে এক প্রতিবেশী জানান,করোনার আতঙ্কেই তারা অজিতবাবুকে দেখতে জান নি।ভিন রাজ্য থেকে আসার পর সেখানে আছে। চেক আপ করে সে আসে নি।গতকাল এই রারিয়া গ্রামের এক পরিযায়ি শ্রমিকের শরীরে করোনা জীবানু ধরা পড়ার পর মানুষের মনে আতঙ্ক আরো বেড়ে গেছে।তাই তার ধারেকাছে যাওয়া হচ্ছে।প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা গেছে,অজিতবাবু খাবারের জিনিসপত্রের প্রয়োজন হলে টেলিফোন করে বাড়িতে জানায়।বাড়ির লোকেরা জিনিস কিনে জঙ্গলের দূরে মধ্যে রেখে আসে। পরিবারের লোকেরা সেখান থেকে সরে যাবার পর সে এসে সেই জিনিসপত্র নিয়ে যায়।

Uttam Paul

Published by: Debalina Datta
First published: June 12, 2020, 8:16 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर