Eid ul Fitr 2021: ইদ বলা হলেও আসল নাম তা নয়, মহান এই উৎসবের আশ্চর্য গাথা জানেন কি?

ইদ-উল-ফিতর ২০২১: ইদ বলা হলেও আসল নাম তা নয়, মহান এই উৎসবের আশ্চর্য গাথা জানেন কি?

ইয়াওমুল ফিতর কী ভাবে বদলে গেল ইদ-উল-ফিতরে? এই নামবদলের রহস্যটা আদতে কী?

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: পবিত্র ইসলাম ধর্মের (Eid ul Fitr 2021) প্রতিষ্ঠা যেহেতু সর্বশক্তিমান আল্লাহর (Allah) নির্দেশে এবং নবী মহম্মদের (Prophet Muhammad) হাতে, তাই এই ধর্মের সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসবের ইতিহাস খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হবে প্রাচীন মদিনার পথে। হজরত মহম্মদ (Prophet Muhammad) জীবনের ১৩টি বছর মক্কায় কাটিয়েছিলেন। কিন্তু মক্কার (Mecca) বিধর্মীরা তাঁকে যথেষ্ট পরিমাণে সম্মান দেয়নি, তাঁর প্রতি মক্কাবাসীর আচরণও যথেষ্ট শ্রদ্ধাপূর্ণ ছিল না। তাই তিনি মক্কা থেকে চলে আসেন মদিনায়।

নবী যখন মদিনায় আসেন, তখন সেখানকার জনজীবনে দু'টি বার্ষিক উৎসবের দিন প্রচলিত ছিল। এই দিনগুলি মদিনাবাসীরা নিজেদের মতো খেলাধুলো, আমোদ-প্রমোদ, পান-ভোজনের মধ্যে দিয়ে কাটত। এই প্রসঙ্গে নবী মদিনাবাসীকে বলেন যে পরমপূজ্য আল্লাহ তাঁদের মঙ্গলবিধানের জন্য এই দিনদু'টিকে শুভাশীর্বাদে পূর্ণ করেছেন, তিনি এদের পরিবর্তন করেছেন ইয়াওমুল ফিতর এবং ইয়াওমুল আযহা নামে।

ইতিহাস এবং ইসলামি ধর্মগ্রন্থ স্বীকৃত এই তথ্য থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে- উৎসবের নামটি আদতে ইয়াওমুল, বা স্পষ্ট করে বললে ইয়াওমুল ফিতর! যা চলতি বছরে ভারতে ১৪ মে উদযাপিত হওয়ার কথা আছে। একেই আমরা বলছি ইদ বা ইদ-উল-ফিতর। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন ওঠে যে ইয়াওমুল ফিতর কী ভাবে বদলে গেল ইদ-উল-ফিতরে? এই নামবদলের রহস্যটা আদতে কী?

এই জায়গায় এসে যে কোনও সংস্কৃতির নামকরণের মনস্তত্ত্বের দিকে দৃষ্টিপাত করতে হয়। পরিবারের সদস্যের নাম হোক বা সামাজিক কোনও কিছুর- অনেক সময়েই মানে ধরে নামকরণ করা হয়ে থাকে। যেমন, শারদীয়া, অর্থাৎ যা শরৎ কালে উদযাপিত হয়। ঠিক তেমন করেই ইয়াওমুলের বদলে জনপ্রিয় হয়ে উঠল কালের ধারায় ইদ শব্দটি। ইদের অর্থ যা বার বার ফিরে আসে। পবিত্র এই উৎসব বছরে দু'বার উদযাপিত হয়, তাই তার আখ্যা হল ইদ!

আর ফিতর শব্দেরও রয়েছে নিজস্ব অর্থ- ভেঙে যাওয়া! ইদের আগে যে তিরিশ দিন রোজা পালনের কাল বা রমদান উদযাপিত হয়, তা ইদের আগের দিন সন্ধ্যাবেলায় কাস্তের মতো চাঁদ দেখে ভাঙা হয়, সেই জন্যই এই উৎসবকে বলা হয় ইদ-উল-ফিতর। জানা যায়, এই পবিত্র রমদান কালেই নবী মহম্মদ কুরানের অন্তর্দৃষ্টি পেয়েছিলেন। তাই এই ইদ আধ্যাত্মিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ, একই সঙ্গে দানধ্যানের প্রথার সূত্রে সমাজের দারিদ্র্য নিবারণের প্রয়াসও বটে!

Published by:Pooja Basu
First published: