• Home
  • »
  • News
  • »
  • national
  • »
  • পাকিস্তান থেকে ভারতে ঢুকে পড়েছে ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপাল ! দেশে প্রচুর ফসল নষ্টের আশঙ্কা

পাকিস্তান থেকে ভারতে ঢুকে পড়েছে ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপাল ! দেশে প্রচুর ফসল নষ্টের আশঙ্কা

Representational Image

Representational Image

কৃষিবিজ্ঞানীদের দাবি, ২৭ বছরে দেশে এত বড় পঙ্গপাল হানার ঘটনা হয়নি। কী এই পঙ্গপাল? কতটা আশঙ্কার এই পঙ্গপালের হানা?

  • Share this:

    #কলকাতা: করোনা বিপর্যয়ের মধ্যে নতুন ত্রাস ফসলখেকো পঙ্গপাল। রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত, পঞ্জাব, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র। ভারতের বেশ কিছু রাজ্যে হানা দিয়েছে পঙ্গপাল। মথুরা ও দিল্লিতে হাই অ্যালার্ট জারি হয়েছে। কৃষিবিজ্ঞানীদের দাবি, ২৭ বছরে দেশে এত বড় পঙ্গপাল হানার ঘটনা হয়নি। কী এই পঙ্গপাল? কতটা আশঙ্কার এই পঙ্গপালের হানা?

    বাঙালির সঙ্গে পঙ্গপাল আর পঙ্গপালের হানার পরিচয় বোধহয় ‘সহজপাঠ’ থেকেই। তবে পঙ্গপালের অস্তিত্ব মেলে প্রাচীন মিশরীয় ধর্মগ্রন্থে, গ্রীক সাহিত্যে। পঙ্গপালের ইংরাজি ‘লোকস্ট’। যা লাতিন শব্দ ‘লোকস্তা’ থেকে এসেছে। লোকস্তা মানে ফড়িং। এরা ঝাঁকে ঝাঁকে আসে।

    বিশাল বড় ঝাঁক হয় এদের, যার জন্য আকাশ পুরো কালো হয়ে যায় ৷ এক বর্গ কিলোমিটার জুড়ে যদি পঙ্গপালের ঝাঁক থাকে, তবে সেই ঝাঁকে থাকা পঙ্গপালের সংখ্যা প্রায় ১৫ কোটি। এরা যে কোনও ধরণের শস্য খায়। রোজ এরা নিজেদের সমান ওজনের খাবার খায়। একটি পূর্ণবয়স্ক পঙ্গপালের ওজন ২ গ্রাম। রাষ্ট্র সংঘের ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল অর্গানাইজেশনের তথ্য, এই ১৫ কোটি পঙ্গপাল একদিনে যা শস্য খায়, তা ৩৫ হাজার মানুষের খাবার। মরু পঙ্গপালের ঝাঁক দিনে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পূর্ব আফ্রিকা, দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া এবং লোহিত সাগর সংলগ্ন এলাকায় অনুকূল আবহাওয়ার জেরেই পঙ্গপালের বিপুল প্রজনন ঘটেছে। ২০১৯-এও ভারতে পঙ্গপাল হানা দিয়েছিল। তবে তা এত বড় ছিল না। এবারের ক্ষতির আশঙ্কা অনেক বেশি।

    ২০২০ কি পঙ্গপালের বছর? ফেব্রুয়ারিতে সোমালিয়া ও ইথিওপিয়ায় পঙ্গপাল যা ক্ষতি করেছে, তা গত ২৫ বছরে হয়নি। কেনিয়ায় যা ক্ষতি করেছে, গত ৭০ বছরে তা হয়নি। এখনও পর্যন্ত ৬০টি দেশ পঙ্গপাল হানার শিকার। পাকিস্তান থেকে ভারতে হানা দিয়েছে পঙ্গপাল। ছড়িয়ে পড়েছে রাজস্থান, গুজরাত, পঞ্জাব, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশে। অন্য রাজ্যগুলোও প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রস্তুতি একেবারে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। সত্যিই তো যুদ্ধ। ফসল বাঁচানোর যুদ্ধ। বাঁচার রসদ বাঁচানোর যুদ্ধ। কীটনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। থালা বাসন, ড্রাম বাজিয়ে পঙ্গপাল তাড়ানোর কথাও বলা হচ্ছে। কিন্তু ফসলের যে বড় ক্ষতি হবে, সে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। কৃষিবিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে পঙ্গপালের আক্রমণে মধ্যপ্রদেশে অন্তত ৮ হাজার কোটি টাকার শুধু মুগ ডালই নষ্ট হবে।

    Published by:Siddhartha Sarkar
    First published: