যত দিন ভ্যাকসিন নেই, আন্তর্জাতিক উড়ানে ভরসা এয়ার বাবল চুক্তিই!

১৬টি দেশের সঙ্গে এয়ার বাবল চুক্তি স্বাক্ষরিত করেছে ভারত। সপ্তাহ দুয়েক আগেই ১০টি দেশের সঙ্গে এয়ার বাবল চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল ভারত।

১৬টি দেশের সঙ্গে এয়ার বাবল চুক্তি স্বাক্ষরিত করেছে ভারত। সপ্তাহ দুয়েক আগেই ১০টি দেশের সঙ্গে এয়ার বাবল চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল ভারত।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: করোনার ভ্যাকসিন এলে তবেই আকাশপথে ফের পুরোদমে চালু হবে আন্তর্জাতিক উড়ান। বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা জানিয়েছেন অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি।

আগামী মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত চলতি নিয়ম মেনে এয়ার বাবল চুক্তি লাগু থাকবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, সবার জন্য দেশের সীমান্ত খুলে দেয়নি কোনও দেশই। তাই এই মুহুর্তে কিছুই বলা সম্ভব হচ্ছে না। ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত যে কিছুই জোর দিয়ে বলা যাবে না, সে কথাও বলতে ভোলেননি পুরি। পাশাপাশি জানিয়েছেন যে একবার ভ্যাকসিন চলে এলে প্রতিটা দেশেরই ভরসা বাড়বে।

অভ্যন্তরীণ বিমান পরিষেবা নিয়ে মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি জানিয়েছেন খুব শিগগির উড়ানে মোট আসন সংখ্যার ৭৫ শতাংশ বুকিং-এর অনুমতি দেওয়া হবে। বর্তমানে উড়ানের মোট আসন সংখ্যার ৬৫ শতাংশ যাত্রী নিয়ে সফর করার অনুমতি দিয়েছে কেন্দ্র। দিনক্ষণ এখনও ঠিক না হলেও খুব তাড়াতাড়ি এটিও করা হবে। কারণ অভ্যন্তরীণ বিমান পরিষেবার জন্য উড়ানের সংখ্যা বাড়ছে।

মন্ত্রীর দাবি, এর আগে তিনি নিজেই বলেছিলেন যে প্রাক-কোভিড অবস্থায় পৌঁছতে নভেম্বর থেকে আগামী বছরের প্রথম দিক হয়ে যাবে। তবে এখনও তিনি হলফ করে বলছেন যে ২০২১-এর প্রথম তিন মাসের মধ্যেই প্রাক-কোভিড পর্বের চেয়ে বেশি উড়ান চালানোর মতো পরিস্থিতিতে চলে আসবে দেশ। সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা বলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অতিমারীর আবহেই আকাশপথে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহন পরিষেবা চালু করার লক্ষ্যে ১৬টি দেশের সঙ্গে এয়ার বাবল চুক্তি স্বাক্ষরিত করেছে ভারত। সপ্তাহ দুয়েক আগেই ১০টি দেশের সঙ্গে এয়ার বাবল চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল ভারত। এই দশটি দেশ হল- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফ্রান্স ,জার্মানি, ব্রিটেন, মলদ্বীপ, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, আফগানিস্তান এবং বাহরিন। নতুন করে চুক্তি হল আরও ৬টি দেশের সঙ্গে। কোভিড পরিস্থিতিতে আকাশপথে যোগাযোগের জন্য ইতালি, কাজাকাস্তান, বাংলাদেশ এবং ইউক্রেনের সঙ্গেও আলোচনা চলছে ।

এখন জানা দরকার এয়ার বাবল চুক্তি আসলে কী!

করোনা পরিস্থিতিতে বিগত বেশ কিছু মাস ধরে আন্তর্জাতিক উড়ান পরিষেবা বন্ধ রেখেছিল ভারতসহ অন্যান্য অনেক দেশ। এ বার অতিমারীর আবহেই বাণিজ্যিক উড়ান পরিবহন ফের চালু করার উদ্দেশ্য নিয়ে একটি সাময়িক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বিভিন্ন দেশের মধ্যে, এটিই এয়ার বাবল চুক্তি। দু'দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার অর্থ দুটি দেশ সমান সুবিধা ভোগ করবে। নির্দিষ্ট বিমানসংস্থার ওয়েবসাইট এবং ট্র্যাভেল এজেন্ট, এঁদের মাধ্যমে বিমানের টিকিট কাটা যাবে।

বন্দে ভারত মিশনের সঙ্গে কিন্তু এর পার্থক্য রয়েছে। বন্দে ভারত মিশনে আকাশ পথে যাত্রা করতে গেলে ভারতীয় দূতাবাসে নিজের নাম নথিভুক্ত করাতে হয়। যে সব দেশে বিমান পরিবহন বন্ধ রয়েছে, সেখান থেকে যাত্রী দেশে ফিরতে চাইলে সে ক্ষেত্রেই বন্দে ভারত মিশনের আওতায় তাঁদের ঘরে ফেরানো হয়। অন্য দিকে এয়ার বাবল দুটি দেশের মধ্যেকার দ্বিপাক্ষিক চুক্তি। চুক্তিবদ্ধ দেশের মধ্যেই বিমান পরিবহন হবে এ ক্ষেত্রে।

Published by:Elina Datta
First published: