এক বর্ণময় ও দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ইতি, প্রয়াত অরুণ জেটলি

তাঁর প্রয়াণে দেশিয় রাজনীতিতে এক অপূর্ণীয় ক্ষতি হয়েছে

Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Aug 24, 2019 02:08 PM IST
এক বর্ণময় ও দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ইতি, প্রয়াত অরুণ জেটলি
প্রয়াত অরুণ জেটলি ৷ ফাইল ছবি ৷
Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Aug 24, 2019 02:08 PM IST

#নয়াদিল্লি: প্রয়াত প্রাক্তন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী অরুণ জেটলি ৷ দিল্লি AIIMS-এ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন ৷ প্রয়াণের সময়ে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর ৷ গত ৯ অগাস্ট স্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি ৷ কেন্দ্রীয়মন্ত্রী হিসাবে একাধিক দায়িত্ব সামলেছেন তিনি ৷

Arun-Jaithley-HI2

কখনও, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী তো কখনও কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী, তথ্য ও সম্প্রচার-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক সামলেছেন তিনি ৷ এমনকী মোদি প্রথম মন্ত্রীসভার অর্থ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বও সামলে ছিলেন তিনি ৷ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই ক্রমশই তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হচ্ছিল ৷ আজ দিল্লি AIIMS-সূত্রে জানানো হয়েছে বেলা ১২.০৭ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি ৷

তিনি এক বিরলতম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন সংসদে বিরোধীদের সঙ্গে যতই মত পার্থক্য থাকুক না কেন ৷ তিনি অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ ছিলেন সবার সঙ্গেই ৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে বিরোধীদলের বহু নেতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত নিবিড় ৷ রাজনৈতিক মতাদর্শের উপরে উঠে এক আলাদা সৌজন্যের নজির সৃষ্টি করেছিলেন ৷

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা করেছিলেন ৷ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই স্নাতকোত্তর পাশ করেছিলেন আইন সংক্রান্ত বিষয়ে ৷ অমিত শাহ, রাজনাথ সিং, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবাই শোকপ্রকাশ করেছেন ৷ ১৯৭৭ সালে অরুণ জেটলি এবিভিপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসাবে মনোনীত হয়েছিলেন ৷

Loading...

১৯৮০ সাল পর্যন্ত সেই পদেই আসীন ছিলেন তিনি ৷ ১৯৮০ সালে দিল্লি বিজেপির সম্পাদক হয়েছিলেন তিনি ৷ ১৯৯১ সালে জাতীয় এক্সজিকিউটিভ হয়েছিলেন তিনি ৷ ১৯৯৯ সালে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র হয়েছিলেন তিনি ৷

১৯৯৯ সালেই তিনি তথ্য সম্প্রচারমন্ত্রী হয়েছিলেন, একই সঙ্গে আইনমন্ত্রকের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি ৷ ২০০০ সালে প্রথমবার গুজরাত থেকে রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছিলেন তিনি ৷ রাম জেটমালানি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরে কেন্দ্রীয়মন্ত্রী সভায় আইনমন্ত্রক দেখার দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি ৷

২০০৬ ও ২০১২ পরপর ২ বার গুজরাত থেকে রাজ্যসভার সাংসদ হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি ৷ ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি বিরোধী দলনেতা ছিলেন ৷ মহিলা সংরক্ষণ বিলের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা ছিল অরুণ জেটলির ৷ আন্না হাজারের লোকপাল বিলের সমর্থন করেছিলেন তিনি ৷ ২০১৪ সালে প্রথম মোদি মন্ত্রীসভায় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে প্রতিরক্ষাও সামলে ছিলেন তিনি ৷ পরে প্রয়াত বিজেপি নেতা মনোহর পারিকরকে প্রতিরক্ষামন্ত্রকের দায়িত্ব দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি ৷

শুধুই রাজনীতি নয় ক্রিকেটের সঙ্গেও জেটলির মধুর সম্পর্ক ছিল, দীর্ঘদিন ধরে দিল্লি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়শনের সভাপতি ছিলেন তিনি ৷ তিনিই বিজেপির প্রথম কর্পোরেট মুখ ৷ একদিকে মিষ্টভাষী, সুবক্তা, সুদর্শন, উচ্চশিক্ষিত-সহ বহু গুণের অধিকারী ছিলেন তিনি ৷

শুধুই বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা ছিলেন না তিনি একাধারে বর্ষীয়ান আইনজীবীও ছিলেন ৷ ১৯৭৭ সাল থেকে সুপ্রিম কোর্ট ও অনেক হাইকোর্টে ওকালতি প্র্যাকটিস করেছিলেন ৷ ছত্তীসগড়, ছাড়খণ্ড, উত্তরাখণ্ডের হাইকোর্টের প্রতিষ্ঠা তাঁর অনুপ্রেরণাতেই হয়েছিল ৷

২০০২ সালে গুজরাত বিধানসভা নির্বাচনে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি ১৮২ আসনের মধ্যে ১১৭ আসনে জয়ী হয়েছিল বিজেপি ৷ অরুণ জেটলি, অটলবিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আদবানির সান্নিধ্যে রাজনৈতিক জীবন সমৃদ্ধ করেছিলেন তিনি ৷

সব মিলিয়ে এক বর্ণময় অরুণ জেটলির প্রয়াণে জাতীয় রাজনীতিতে এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে ৷

First published: 01:49:48 PM Aug 24, 2019
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर