corona virus btn
corona virus btn
Loading

মেট্রোর কাজ শুরু হতেই একের পর এক বাড়িতে ফাটল, ফের আতঙ্ক বউবাজারে

মেট্রোর কাজ শুরু হতেই একের পর এক বাড়িতে ফাটল, ফের আতঙ্ক বউবাজারে
বাড়ির ফাটল দেখাচ্ছেন এক বাসিন্দা।

গৌর দে লেনের বাড়ির বাসিন্দারা বেশ জোরের সঙ্গেই বলছেন, এই ফাটল টানেল বোরিং মেশিন পুনরায় কাজ শুরু করার পর ফের শুরু হয়েছে।

  • Share this:

#কলকাতা: মেট্রোর কাজ শুরু হতেই ফের ফাটল। বউবাজারের গৌর দে লেনের প্রায় ২৩টি বাড়িতে ফাটল ধরা পড়েছে। বেশ কয়েকটি বাড়িতে ফাটল যথেষ্টই চওড়া। বেশ কয়েকটি বাড়িতে খসে পড়ছে ছাদের সিলিংয়ের প্লাস্টার। দেওয়ালের পলেস্তারাও খসে পড়ছে। এমন কী, ফাটল ধরেছে মেঝেতেও।

এমনই অভিযোগ বউবাজারের গৌর দে লেনের একাধিক বাড়ির বাসিন্দাদের। গৌর দে লেন বউবাজারের অন্যতম পুরনো একটি জায়গা। কলকাতার ইতিহাস বলছে, বউবাজারের সোনাপট্টি এখানে। এই গলিতেই বেশ কিছু সংস্কার হওয়া বাড়ি থাকলেও বহু পুরনো বাড়ি আজও রয়েছে এখানে। রয়েছে একটি ছোট বস্তি। এই সব বাড়ির বাসিন্দাদের মনে ভয় তৈরি হয়েছে। কারণ মেট্রোর কাজের জন্য নতুন করে ফাটল ধরা দিয়েছে। গত অগাস্ট মাসেও এই বাড়িগুলিতেই ফাটল ধরা পড়েছিল। তখন অবশ্য এই সব বাসিন্দাদের পাঠানো হয়েছিল হোটেলে। ফাটলের মেরামতি করা হয়েছিল। আবার সেই ফাটল যেমন ফিরে এসেছে, তেমনই নতুন কিছু ফাটল দেখা গিয়েছে। ওই বাড়িগুলির বাসিন্দাদের দাবি, মেট্রো কর্তৃপক্ষ তাঁদের জানিয়েছিল, এই সমস্ত বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূর দিয়ে টানেল বোরিং মেশিন নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার পরেও কেন ফাটল তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তাঁরা।

গৌর দে লেনেই থাকেন পিকা সরকার। ২০১২ সাল থেকে ৩/২ গৌর দে লেনের একটি ছোট ঘরে তিনি পরিবার নিয়ে থাকেন। বাড়ির ফাটল দেখে তিনি ভয় পেয়ে গিয়েছেন। রীতিমতো কান্নাকাটি করছেন তিনি। পিকাদেবীর শাশুড়ি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার মধ্যেই ফের বাড়িতে ফাটল। তাঁর বক্তব্য, 'মেট্রোর ইঞ্জিনিয়াররা এসে আমাদের সঙ্গে ন্য়ূনতম কথাটুকু বলুক। আমাদের জীবনের কি কোনও দাম নেই? যদি আবার এই বাড়ি ভেঙে পরে তখন কী হবে? আমাদের ঘর হারানোর যন্ত্রণা ওনারা বুঝবেন না। মেট্রো হবে বলে আমি আমার  সব হারিয়ে ফেলব, এটা তো হতে পারে না।'

কিন্তু তাঁদের এই কথা কে শুনবে?  প্রশ্ন গৌর দে লেনের বাকি বাসিন্দাদের। ফলে ফাটল ধরা বাড়িতে ভয়ে সিঁটিয়ে রয়েছেন তাঁরা। একই অভিযোগ ত্রিলোচন কেশরীর। নিজের সদ্য সংস্কার হওয়া বাড়ি দেখিয়ে তাঁর অভিযোগ, 'ছাদে অজস্র ফাটল। মেঝেও অসমান হয়ে পড়েছে। দেওয়ালের চাঙর খসে খসে পড়ছে। এমন কী, মেঝেতেও ফাটল ধরা পড়েছে।'

গৌর দে লেনের বাড়ির বাসিন্দারা  বেশ জোরের সঙ্গেই বলছেন, এই ফাটল টানেল বোরিং মেশিন পুনরায় কাজ শুরু করার পর ফের শুরু হয়েছে। তাই নিজেদের বাড়ি নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন এই পাড়ার বাসিন্দারা। গৌর দে লেনের এই ফাটল প্রথমে নজরে আসেনি মেট্রো আধিকারিকদের। এমনই অভিযোগ এলাকার বাসিন্দাদের। তবে  গোটা ঘটনা জানার পর এলাকায় বিশেষজ্ঞদের দল পাঠাচ্ছে কেএমআরসিএল। ফাটল বিপজ্জনক বলে মনে না করলেও, দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে চাইছেন মেট্রো কর্তারা। গৌর দে লেনের ফাটল ধরা বিভিন্ন বাড়ি পরিদর্শন করেন স্থানীয় কাউন্সিলর সত্যেন্দ্রনাথ দে। তিনিও কেএমআরসিএল আধিকারিকদের অনুরোধ করেন, এই বাড়িগুলির বাসিন্দাদের যেন আপাতত অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। তিনিও আশঙ্কা, ফের বাড়ি ভেঙে পড়বে না তো? তবে কেএমআরসিএল আধিকারিকরা তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন।

ABIR GHOSHAL

Published by: Debamoy Ghosh
First published: March 12, 2020, 4:58 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर