• Home
  • »
  • News
  • »
  • local-18
  • »
  • SOUTH24 DRESS CODE MANDATORY FOR RECEIVING VACCINE IN SONARPUR RAJPUR MUNICIPALITY

Coronavirus Vaccine: করোনা ভ্যাকসিন নিতে গেলেও এবার ড্রেস কোড, হাফপ্যান্ট পরে যাওয়ায় টিকা পেলেন না যুবক

ভ্যাকসিন সেন্টারে পোশাক ফতোয়া

Rajpur Sonarpur Municipality: ভ্যাকসিন দিতে গেলেও কি প্রয়োজন ড্রেস কোড! রাজপুর সোনারপুর পৌরসভার পোশাক ফতোয়ায় সে প্রশ্নই উঠেছে

  • Share this:

    রুদ্র নারায়ন রায়, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভ্যাকসিন নিতে গেলেও কি প্রয়োজন নির্দিষ্ট পোশাক! রাজপুর সোনারপুর পৌরসভার (Rajpur Sonarpur Municipality) একটি নোটিশ ঘিরেই উঠছে এখন সেই প্রশ্ন। রাজপুর সোনারপুর পুরসভার বোড়াল কার্যালয়ের অফিস ঘরের বিভিন্ন দেওয়ালে সাটা রয়েছে নোটিশ। যেখানে নির্দিষ্টভাবে বলে দেওয়া হয়েছে হাফপ্যান্ট পরে কোন রকম ভাবেই অফিস চত্বরে প্রবেশ করা যাবে না। ঘটনাচক্রেই এদিনই, হাফপ্যান্ট পরে, অসুস্থ মাকে নিয়ে পুরসভার অফিসে ভ্যাকসিন নিতে গিয়ে চরম হেনস্তা হওয়ার অভিযোগ তুললেন স্থানীয় এক যুবক।

    শীর্ষ নাথ পন্ডিত এদিন অসুস্থ মা রুনু পন্ডিত কে সঙ্গে নিয়ে, থ্রি কোয়াটার হাফপ্যান্ট ও টি-শার্ট পরে বোড়াল কার্যালয়ে আসেন ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য। এরপরই হেনস্তার শিকার হন শীর্ষ বাবু। কিভাবে তাকে হেনস্থা করা হল শুনুন...

    'বাড়িতে বাবা অসুস্থ। দু’বছর ধরে বিছানায় শয্যাশায়ী। তাঁকে বাড়িতে একলা রেখেই বয়স্ক মা-কে নিয়ে দুপুর তিন-টে নাগাদ রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার বোড়াল কার্যালয়ে টিকা নিতে গিয়েছিলাম। কুপনও ছিল আমাদের হাতে। কিন্তু টিকা শিবিরে ঢুকতে যেতেই পুরসভার কিছু লোক এবং স্থানীয় কয়েক জন আমাদের আটকে দিলেন। কারণ, আমি নিয়মবিরুদ্ধ পোশাক পরে এসেছি। আমায় বলা হল, ‘‘হাফপ্যান্ট পরে ঢোকা যাবে না।’’ তখনও জানি না, কী ব্যাপার। জিজ্ঞাসা করলাম, ‘‘হাফপ্যান্ট পরে ঢোকা যাবে না কেন? এখানে তো কোনও পোশাকবিধি থাকার কথা নয়।’’ তখন আমাকে বলা হল, ‘‘ভিতরে গিয়ে দেখুন, নোটিস টাঙানো রয়েছে। দেখে চুপচাপ বাড়ি চলে যান।’’ অত্যন্ত অপমানিত বোধ করলাম।

    তা-ও ভিতরে গেলাম। দেখলাম সত্যিই তাই। এক গাদা পোস্টার টাঙানো। তাতে লেখা, ‘হাফপ্যান্ট পরিধান অবস্থায় প্রবেশ নিষেধ’, ‘অশোভনীয় বা দৃষ্টিকটু পোশাক পরে পৌরসভায় প্রবেশ নিষিদ্ধ’ ইত্যাদি। শেষ পর্যন্ত আমায় ওঁরা টিকা নিতে দিলেন না। তা-ও আমি মা-কে লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলাম। মা-ও অসুস্থ ছিলেন। কিছু ক্ষণ পর পিছনে দাঁড়ানো এক মহিলা মা-কে ভিতরে নিয়ে গিয়ে ওঁদের অনুরোধ করতে বললেন আমায়। সেটাই করলাম। তখন অবশ্য মা-কে টিকা দেওয়া হয়েছে।

    আমার মা ভিতরে যেতেই দেখলাম খালি গায়ে এক যুবক টিকা নিয়ে বেরিয়ে এলেন। আমি সঙ্গে সঙ্গেই পাশে দাঁড়ানো এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘‘খালি গায়ে টিকা নিতে আসা বৈধ, আর হাফপ্যান্ট পরে আসা অবৈধ?’’ জবাব এল, ‘‘তুমি এখানে ঝগড়া করতে এসেছ নাকি?’’ মা বেরিয়ে আসতে তাঁকেও বললেন, ‘‘আপনি আপনার ছেলেকে কিছুই শিক্ষা দেননি!’’ লাইন থেকে উটকো মন্তব্য উড়ে এল, ‘‘এর পর তো অন্তর্বাস পরে আসবে।’’এ কোন সমাজ! এ ভাবে নীতি-পুলিশের উদ্‌যাপন হয় নাকি আজকাল কোথাও? বয়স্ক, অসুস্থ মানুষের সঙ্গেও এঁরা এই রকম ব্যবহার করবেন? টিকা না পেয়ে ফিরে আসতে হল শুধুমাত্র আমি হাফপ্যান্ট পরে গিয়েছিলাম বলে! শুধু তাই নয়, আমাকে মানসিক ভাবে হেনস্থাও করা হয়েছে। অপমানিত লাগছে খুব। কোথায় অভিযোগ জানাব, বুঝতে পারছি না।'

    এভাবে হেনস্তার শিকার হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ওই যুবক। প্রশ্ন উঠেছে স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশ ছাড়া কিভাবে পৌরসভা এহেন পোশাক ফতোয়া জারি করতে পারে। করোনার মতো মারণব্যাধি রোধে ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে। স্থানীয় বাসিন্দারা আরো প্রশ্ন তুলছেন, যেখানে অল্প বৃষ্টিতেই জমে যায় জল সেখানে এহেন পোশাক বিধি চালু করার যৌক্তিকতা কতটা রয়েছে। যদিও পৌরসভার তরফ থেকে জানানো হয়েছে মিটিং করেই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published: