Home /News /local-18 /
Bengal news| Rahul Basak: উত্তরের ছেলে আজ দক্ষিণের এক নামকরা মুখ! বাঙালি উদ্যোক্তা রাহুল বসাকের বিশেষ সাক্ষাৎকার

Bengal news| Rahul Basak: উত্তরের ছেলে আজ দক্ষিণের এক নামকরা মুখ! বাঙালি উদ্যোক্তা রাহুল বসাকের বিশেষ সাক্ষাৎকার

photo source local 18

photo source local 18

Bengal news| Rahul Basak: নবীনদের ভালো মতো প্রশিক্ষণ দিতে এসেছে নতুন প্রজন্মেরই (Young Generation) এক বাঙালি (Bengali)। নাম রাহুল বসাক (Rahul Basak)।

  • Share this:

    #শিলিগুড়ি: বাংলা ও বাঙালির কৃতকর্ম, এই কথা প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে বিদেশ, সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। বাঙালির গুণ ও বাঙালির বাজিমাত অজানা নয়  বিশ্বের কাছে। তবে বর্তমান সময়ে নবীনদের ঝোঁক বেড়েছে ব্যবসায়ী বা Entrepreneurএর দিকে। নিজের মতো করে কে না কাজ করতে চায়? সেই পথেই নবীনদের ভালো মতো প্রশিক্ষণ দিতে এসেছে নতুন প্রজন্মেরই (Young Generation) এক বাঙালি (Bengali)। নাম রাহুল বসাক (Rahul Basak)।

    শুধুমাত্র বাংলার বললে ভুল হবে। গোটা ভারতেই ইতিমধ্যে নাম করে নিয়েছেন রাহুল। শিলিগুড়ি পলিটেকনিক কলেজ (Siliguri Government Polytechnic College) থেকে কম্পিউটার সায়েন্স ও টেকনোলজি (Computer Science & Technology) নিয়ে পড়াশোনা। পড়াশোনার পাশাপাশি রাহুলের আকর্ষণ ছিল সৌর জগৎ ও মহাকাশের প্রতি। তাই তিনি যুক্ত হয়েছিলেন শিলিগুড়ির বিখ্যাত স্কাই ওয়াচারস অ্যাসোসিয়েশনের (Siliguri Sky Watchers Association -SWAN) সঙ্গে। সেখানে বড়দের তত্ত্বাবধানে নিজের ইচ্ছে ও নিজের স্বপ্নকে মেলে ধরেছিলেন তিনি। এরপর স্পেকট্রাম ল্যাবে (Spectrum Colour Lab) নিজেকে ফটোগ্রাফির (Photography) সঙ্গে যুক্ত করা থেকে দক্ষিণবঙ্গে তথা ভারতে নিজের পরিচিতি বানিয়ে নেওয়া, সবটাই একা হাতে, দক্ষ হাতে সামলেছেন রাহুল।

    এদিন নিউজ ১৮ লোকালে (News 18 Local)বিশেষ সাক্ষাৎকারে  অনেক কিছুই জানান তিনি। কম্পিউটার সায়েন্স (Computer Science) নিয়ে পড়াশোনা, তারপর বিভিন্ন মহলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। পডকাস্ট হোস্ট (Podcast host) থেকে ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফার (Documentry Photographer), মোটিভেশনাল স্পিকার (Motivational Speaker) থেকে সফল বিজনেসম্যান (Successful Businessman)। এরপর আর্ট ও ক্রাফট (Art & Crafts),  রাহুল বসাক (Rahul Basak) নাম ইতিমধ্যেই  ব্র্যান্ড (Brand)। তবে এসবের বাইরে কি রাহুলের অন্য কোনও পরিচয় রয়েছে? যা এখনও বাংলার মানুষ জানে না? নিউজ ১৮ লোকালকে (News 18 Local) তিনি বলেন, ‘আমার একটা অংশ রয়েছে যেটা খুব বেশি মানুষ জানেন না। সেটা হচ্ছে আমার বই পড়ার নেশা। বই সংগ্রহ করতে ভীষণ ভালোবাসি। মোটামোটি দুই থেকে আড়াই হাজার বই সংগ্রহ করেছি আমি। বইয়ের সঙ্গে সময় কাটাতে বড্ড ভালো লাগে’। রাহুল একগাল হাসি নিয়ে বলেন, ‘আরেকটা জিনিস সেটা এর থেকেও ভালোবাসি সেটা হচ্ছে ভ্রমণ করতে। একা একা ঘুরতে চলে যাই। আমি ভ্রমণপ্রেমী’।

    রাহুল বসাকের এত পরিচয়ের মধ্যে কোন পরিচয়টা সর্বপ্রথম? এই প্রশ্নের উত্তরে রাহুল বলেন, ‘একজন আর্টিস্ট (Artist)। আমার ভেতরে একজন আর্টিস্টকে আমি খুঁজে পেয়েছিলাম। আমার আকর্ষণ (Attraction) ছিল বিজনেস (Business)। এবার এক থেকে দেড় বছর আমি বিজনেস নিয়ে ঘাটাঘাটি, পড়াশোনা করে বুঝি যে ব্যবসাকে সাধারণ মানুষ সাধারণ চোখে দেখলেও সেখানে কিন্তু একটা আর্ট (Art) লুকিয়ে রয়েছে। বিজনেসও একটি আর্ট। সেই ক্ষেত্রে আমি প্রাথমিকভাবে নিজেকে আর্টিস্ট (Artist) বলেই পরিচয় দিতে পছন্দ করি।'

    দক্ষিণবঙ্গে নিজের পরিচিতি বিস্তার করলেও সেই শেকড় উত্তরবঙ্গে (North Bengal)। রাহুল  বললেন, 'উত্তরবঙ্গ (North Bengal) থেকেই তো সব শুরু। আমার জন্ম দক্ষিণ দিনাজপুরের (South Dinajpur) গঙ্গারামপুরে (Gangarampur)। সেখানে দীর্ঘ ১৮ বছর কাটাই। তারপর শিলিগুড়িতে (Siliguri) তিন বছর পলিটেকনিক (Polytechnic) পড়ি। আজকে যদি আমার জার্নি (Journey) দেখা হয়, তাহলে বলব আমার জেদ, আমার মধ্যে কাজ করার যে আগুন, সেটা শুরু হয়েছিল শিলিগুড়ির (Siliguri) বুক থেকেই। ২০১১ সালে শিলিগুড়িতে (Siliguri) ঢুকেছিলাম। শিলিগুড়ির (Siliguri) একটি ফটোগ্রাফি স্কুল (Photography School) থেকে তাবড় তাবড় মেন্টরের (Mentor) তত্ত্বাবধানে ফটোগ্রাফি (Photography) শিখি। ২০১৩ সালে সিকিম (Sikkim) এবং সমগ্র উত্তরবঙ্গে (North Bengal) একটি ফটোগ্রাফি (Photography) চ্যাম্পিয়নশিপে (Championship) প্রথম স্থান (First Position) অধিকার করি। এরপর কলকাতার (Kolkata) বিভিন্ন একাডেমি (Academy) থেকে ডাক আসে। শিলিগুড়িতে ফিরে আসি, এবং সেখানেও নানা পদক ও সম্মান পাই।'

    পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং (Personal Branding) ও মার্কেটিং (Marketing) নিয়ে আজকালকার ছেলেমেয়ের মনে প্রচুর প্রশ্ন ভিড় করেছে। নতুন প্রজন্মের কাছে  Entrepreneurship মানে জাঁকজমক ব্যাপার। কিন্তু তা যে আদৌও সোজা নয় সেটা অনেকেই জানে। এনিয়ে রাহুলকে প্রশ্ন করা হলে তাঁর উত্তর, 'প্রথমেই যেটা দরকার সেটা নিয়ে বলতে গেলে হচ্ছে Entrepreneurship। যাঁরা মনে করছেন ভবিষ্যতে  Entrepreneur হয়ে উঠবেন। একটা বিজনেস মডেল (Business model) তৈরি করতে হবে। ট্রেডিশনাল বিজনেস মডেল (Traditional business model) কী হয়? এমন অনেককিছু হয় যেটা আমার নিজস্ব ইনোভেশন (innovation) হয় না। অনেকেই সেই এক জিনিসই করতে পারে। সে যদি চেষ্টা করে, এমন সমসাময়িক জিনিস কীভাবে একটু আলাদা করে করা যায়। বিজনেস মডেল রেডি করতে হবে। আমরা যখন বিজনেস মডেল রেডি করি, প্রথমেই আমরা সেটাকে এক্সপেরিমেন্টাল (experimental) হিসেবে লঞ্চ (launch) করি। এরপর মানুষের যতো অভিজ্ঞতা বাড়তে থাকে, তত তাঁদের ব্যবসা আরও শক্তিশালী হতে থাকে। পথে চলতে চলতে অনেককিছু শেখা যায়। সবসময় প্রথাগত নিয়ম মেনে যে সেভাবেই জীবন চলবে, তা কিন্তু নয়।'

    মার্কেটিংয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, 'মার্কেটিং (Marketing) মানেই হচ্ছে আমি বা আমার কোম্পানি (company) যেই জিনিস বানাচ্ছি, সেটা যাতে আর ৫ টা মানুষের কাছে পৌঁছায়। এটা যেমন টার্গেট (target) ফুলফিল করতে সাহায্য করে, তেমন আবার মানুষের চাহিদাও মেটাতে সাহায্য করে। পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং (personal branding) নিয়ে বলতে গেলে একটা উদাহরণ দিতে হবে। সেটা হচ্ছে ধরুন আমি প্যারাগ্লাইডিং (paragliding) করলাম, এবং সেটা আমার কাছে একটা গর্বের বিষয়। আমি ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় (social media) দিলাম, সেটা হল একপ্রকারের পার্সোনাল ব্র‌্যান্ডিং (personal branding)। কিন্তু নেগেটিভ পার্সোনাল ব্র্যান্ডিংও (negative personal branding) হয়, সেটা আবার ক্ষতিকারক। তবে কেউ যদি আমার কোনও পোস্ট (post) দেখে আমার মতো হতে চায়, তবে সেটা হবে পজিটিভ পার্সোনাল ব্র‌্যান্ডিং।'

    এতকিছু একসঙ্গে সামলানো, এতদূর পথচলা, কোথাও কখনও মনে হয়নি, যে নিজেকে হারিয়ে ফেলছি? বা এর থেকে আরও ভালো কিছু করতে পারতাম? এর উত্তরে রাহুলের জবাব, 'আমার সবসময় এই কথা মনে হয়। পুরোটাই একটা এক্সপেরিমেন্টাল (experimental) জিনিস। যেহেতু অনেককিছু একসঙ্গে করা, তাই যেটা যেভাবে সবচেয়ে বেশি জরুরি, তার উপর বিশেষ নজর দেওয়া, এভাবেই চলছে। কিছু মাস বা বছর এক্সপেরিমেন্ট (experiment) করার পর কিছু না কিছু নির্যাস বের হয়। এবং সেটাকে নিয়েই চলি। তবে খেই আমিও হারাই, আমিও বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি।'

    আত্মবিশ্বাস বড্ড দরকারি সবক্ষেত্রেই। নবীনদের মধ্যে এই আত্মবিশ্বাসের অভাব চরমে। তাঁদের মধ্যে নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফেরাতে রাহুল নিউজ ১৮ লোকালের (News 18 Local) মাধ্যমে একটি বার্তা দিলেন। বলেন, 'জীবনে একবার বা একাধিকবার ফেইলার হওয়া দরকার, তবেই আমরা উঠে দাঁড়াতে পারব। আমিও পড়াশোনা ও ব্যবসার ক্ষেত্রে ফেইলার হয়েছি। আমিও মুখ থুবড়ে পড়েছি, কিন্তু আত্মবিশ্বাস হারাইনি। ফেল করতে বা অসফল হতে ভয় পেলে চলবে না। ভয় পেলেই হেরে গেলে। ভয় না পাওয়াই সবচেয়ে জরুরী, এবং এটা আত্মবিশ্বাসে একধরণের ইন্ধন।'

    একটা পার্সোনাল ব্রান্ড (Personal Brand) 'রাহুল বসাক (Rahul Basak)' আরেকটা অফিশিয়াল (official), 'মাই ক্যানভাস (My Canvas), এই দুই নিয়ে কখনও কোনও বিবাদ হয় না? কারণ সৃষ্টিকর্তা তো একই। এই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করায় রাহুল খানিকটা হেসে নিলেন। বললেন, 'না! না! এতো বাবা-ছেলের সম্পর্ক।'  নিউজ ১৮ লোকালেরও (News 18 Local) সপাটে প্রশ্ন, 'কে বাবা, আর কে ছেলে?'। রাহুলের বক্তব্য, 'সরি, বাবা না। প্যারেন্টস্ (Parents) বলা যেতে পারে। কারণ আমার এক বন্ধু অমিতেরও এই কাজে, এই ওয়েবসাইটে (Website) হাত রয়েছে। তার বাড়িতে গিয়েই এই আইডিয়া (idea) রাখি। এবং তারপরই একের পর এক পথচলা।'

    প্রথম বাংলা ওয়েবসাইট (website) নিয়ে রাহুল বলেন, 'বিভিন্ন কলেজে (college) যখন বক্তা (speaker) হিসেবে যেতাম, তখন ছাত্রদের মুখে এক আলাদাই চমক থাকত। ওরা মন দিয়ে আমার কথা শুনত। ওদের সঙ্গে কথা বলার পর বুঝলাম ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যারিয়ার (language barrier) বিশাল এক সমস্যা। তাই বাংলায় ওয়েবসাইট (Bengali website)। এবং মাঝেমধ্যেই শিক্ষামূলক (educational) নানা আর্টিকেল (article), ব্লগ পোস্ট (Blog post) রয়েছে সেখানে।'

    পরবর্তী প্ল্যান (Future plan) নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে ,'মাই ক্যানভাস (My Canvas'-এর সৃষ্টিকর্তা রাহুল (Rahul Basak) বলেন, 'কলকাতার (Kolkata) সবচেয়ে বড় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম (Social Media Platform) বাঙালিয়ানা। বিভিন্ন মার্চেন্ডাইজ (Merchandise) নিয়ে আসতে চলেছি সেখানে। টি-শার্টের (T-shirt) উপর থাকবে ব্র্যান্ড লোগো (brand logo) এবং নাম। এছাড়াও আগামীর প্ল্যান ও সমস্ত নতুন প্রজেক্ট (New project) পেয়ে যাবেন www.rahulbasak.com এ লগইন করলেই।'

    কিছু চটজলদি প্রশ্ন করা হল রাহুলকে। নিউজ ১৮ লোকালের (News 18 Local) তরফের কিছু একান্তই প্রশ্ন করা হলে, তার যথাযথ উত্তরও রাহুলবাবু দেন। যেমন; সিনেমা  না, নাটক : সিনেমা।  মিষ্টি ,  টক  ঝাল : মিষ্টি।  পাহাড় না,  সমুদ্র : পাহাড়।  পছন্দের ঋতু : বসন্তকাল। পছন্দের খাবার (বাইরে না বাড়ির) : অবশ্যই, বাড়ির খাবার। বিশেষ করে গরম গরম সেদ্ধো ভাত। বিরিয়ানি  না ফ্রায়েড রাইস) : বিরিয়ানি। রাজনৈতিক  না, অরাজনৈতিক : মনুষ্যপন্থী।  ঘোরার জন্য পছন্দের স্থান , দেশ  না  বিদেশ : বিদেশ। চা  না কফি: : ক্যাপেচিনো। তবে রবীন্দ্র সংগীতের সঙ্গে চা-টাই বেশি পছন্দ।

    মাছে-ভাতে বাঙালির এই বিরাট পথচলা, এই সাফল্য অবশ্যই প্রেরণা জোগাবে আগামী প্রজন্মকে। বড় হতে কে না চায়। তবে, বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের ভিত এবং নিজের পায়ের তলে মাটি, সেটাতেই বজায় রাখতে হবে নিজেকে। মাটির মানুষ, নবীনদের প্রশিক্ষক, টেড-এক্স (TedX) স্পিকার (speaker), এমটিভি'তে (Mtv) একাধিকবার ফিচার (feature) হওয়া বাঙালি রাহুলের (Rahul Basak) গল্প নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেবে।

    ভাস্কর চক্রবর্তী

    Published by:Piya Banerjee
    First published:

    Tags: Bengal News, Exclusive Interview of rahul basak, Rahul basak, Siliguri, রাহুল বসাক

    পরবর্তী খবর