Home /News /local-18 /
ভেঙে দেওয়া হল অবৈধ সেতু

ভেঙে দেওয়া হল অবৈধ সেতু

ভেঙে দেওয়া হল অবৈধ সেতু

ভেঙে দেওয়া হল অবৈধ সেতু

অবৈধ সেতু ভেঙে দিল সেচ দপ্তর। আসানসোল পুরসভার সহযোগিতায় সেচ মন্ত্রীর নির্দেশে অবৈধ সেতুটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। সেচ দপ্তরের আধিকারিক?

  • Share this:

    অবৈধ সেতু ভেঙে দিল সেচ দপ্তর। আসানসোল পুরসভার সহযোগিতায় সেচ মন্ত্রীর নির্দেশে একটি অবৈধ সেতু ভেঙে ফেলা হয়। সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে ভাঙ্গা হয়েছে সেতুটি। আসানসোলে তপস্বী বাবা মন্দির এর কাছে  অবৈধভাবে এই সেতুটি তৈরি করা হয়েছিল।

    প্রশাসনিক সূত্রে খবর, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আসানসোলে অবৈধ এই সেতুটির খবর পায় আসানসোল পুরসভা। ব্রিজ তৈরী হওয়ার খবর যায় সেচ দপ্তরে। তারপরই অবৈধভাবে তৈরি এই সেতুটির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সে সময় নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার ফলে, সেই নির্দেশ কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। তারপর এদিন অবৈধ ব্রিজটি ভেঙে ফেলা হয়েছে।

    সূত্রের খবর, প্রথমে সেতুটি নিয়ে সেচ দপ্তরের তরফ থেকে আসানসোল পুরসভার কাছে খবর যায়। আসানসোল পুরসভা তদন্ত করে জানতে পারে, তপস্বী বাবা মন্দির এর কাছে ব্রিজটি অবৈধভাবে তৈরি করা হয়েছে। তারপর সেচ মন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, আসানসোল পুরসভা সেচ দপ্তর এবং জেলাশাসক উদ্যোগ নেয়। সেইমতো পুলিশ বাহিনী নিয়ে এলাকায় হাজির হন সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা। তাদের উপস্থিতিতে জেসিবি মেশিন দিয়ে ভেঙে ফেলা হয় অবৈধ নির্মাণ।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রশাসনের থেকে কোনরকম অনুমতি না নিয়ে এই সেতুটি কেউ বা কারা তৈরি করেছিল। ফলে নদীর গতিপথ অবরুদ্ধ হচ্ছিল। ব্রিজের ওপারে থাকা মানুষজন জল সংকটে ভুগছিলেন। পাশাপাশি সেতুটি নিয়মিতভাবে ব্যবহার করছিলেন এলাকার মানুষজন।

    অন্যদিকে অবৈধ এই সেতুর কারণে, নদীসহ পারিপার্শ্বিক অনেক বিষয়ে ক্ষতি হচ্ছিল। ওই আধিকারিকের অনুমান, এক্ষেত্রে অসাধু মাটি কারবারিদের প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে। অসাধু মাটি কারবারিরা এই ব্রিজটি ব্যবহার করে, তাদের অবৈধ কারবার চালানোর পরিকল্পনা করেছিল। তাতে পরিবেশের ক্ষতি হত। নদীর ক্ষতি হত। প্রশাসনের রাজস্ব ক্ষতি হত। তাই অবৈধ সেতুটির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে বলা হয়। সেই মত সেচ দপ্তরের তরফে পদক্ষেপ গ্রহণ করে এটি ভেঙে ফেলা হয়েছে।

    এ বিষয়ে আসানসোল পুরসভার প্রশাসক অমরনাথ চ্যাটার্জী জানিয়েছেন, সেচ মন্ত্রী এবং জেলাশাসকের নির্দেশে এবং সহযোগিতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যাতে এলাকায় কোনও অশান্তির সৃষ্টি না হয়, তার জন্য অনেক পুলিশকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আগামী দিনে এই রকম আরও অবৈধ ব্রিজ ভেঙে ফেলা হবে।

    এদিনের পদক্ষেপ শুধুমাত্র অবৈধ নির্মাণকারীদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য করা হয়েছে। প্রমাণ করে দেওয়া হয়েছে, সেচ দপ্তর, প্রশাসন, জেলাশাসক চাইলে কি করতে পারেন। তাই অবৈধ নির্মাণকারীদের সাবধান হওয়া উচিত।

    তবে আসানসোলের তপস্বী বাবা মন্দির এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সেতুটি ভেঙে ফেলার ফলে তাদের বিভিন্ন সমস্যা হবে। বিশেষ করে যাতায়াতের সমস্যা হবে স্থানীয় মানুষের।

    উল্লেখ্য সেতুটি ভেঙে ফেলার সময়, স্থানীয় মানুষজনকে আগ্রহী ওই জায়গায় ভিড় করতে দেখা গিয়েছিল। তবে প্রচুর সংখ্যক পুলিশ কর্মী উপস্থিত থাকার ফলে কোনরকম উত্তেজনাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। এই প্রসঙ্গে প্রশাসন সূত্রে খবর, অবৈধভাবে নির্মিত সেতু ভেঙে ফেলার ফলে অনেক মানুষের সুবিধা করে দেওয়া হল। আর ওই এলাকার মানুষের যাতে কোনওরকম অসুবিধা না হয়, সেদিকেও প্রশাসন নজর দেবে।

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published:

    Tags: Asansol, Irrigation

    পরবর্তী খবর