রথযাত্রা স্পেশাল: পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রয়েছে অবাক করা কিছু বৈশিষ্ট্য

Photo Collected

পুরী মানেই উত্তাল সমুদ্র, নীলজল ৷ পুরী মানেই জিভে গজা ৷ পুরী মানেই ক্ষীর ৷ আর অবশ্যই পুরী মানে জগন্নাথ মন্দির, জগন্নাথ দেব দর্শন ৷

  • Share this:

    #পুরী: পুরী মানেই উত্তাল সমুদ্র, নীলজল ৷ পুরী মানেই জিভে গজা ৷ পুরী মানেই ক্ষীর ৷ আর অবশ্যই পুরী মানে জগন্নাথ মন্দির, জগন্নাথ দেব দর্শন ৷ আমরা প্রায় সবাই পুরীতে গিয়েছি ৷ পুরীর জগন্নাথ মন্দিরও দর্শন করেছি৷ তবে এই মন্দিরের নেপথ্যে রয়েছে অনেক ইতিহাস ৷ এই মন্দিরের রয়েছে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যও ৷

    পুরীর জগন্নাথ মন্দির ১০৭৮ সালে তৈরি হয়। ১১৭৪ সালে তা মেরামতির পর আজকের জগন্নাথ মন্দিরর রূপ ধারণ করে। এই পুরী জগন্নাথ মন্দিরের কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট আছে। যা কিনা অবিশ্বাস্য ৷

    পুরীর মন্দিরের চূড়ায় যে পতাকাটি লাগানো রয়েছে তা সবসময় হাওয়ার বিপরীত দিকে ওড়ে। অন্যদিকে, মন্দিরের সুদর্শন চক্র পুরীর যে কোনও জায়গা থেকে তাকালে মন্দিরের চুড়ার সুদর্শন চক্র আপনার সম্মুখীন থাকবে।

    হাওয়ার চলন সাধারণত দিনের বেলায় হাওয়া সমুদ্রের দিক থেকে সমুদ্রতটের দিকে আসে। আর সন্ধ্যের সময় সমুদ্রতটের দিক থেকে সমুদ্রের দিকে হাওয়া চলে। কিন্তু পুরীর ক্ষেত্রে তা ঠিক উল্টো। সকালে তটের দিক থেকে সমুদ্রের দিকে হাওয়া চলে, এবং সন্ধ্যায় সমুদ্রের দিকে থেকে তটের দিকে হাওয়া বয়।

    মন্দিরের উপর কোনও পাখি বা বিমান পুরী মন্দিরের উপর দিয়ে উড়তে পারে না। মন্দিরের ছায়া মন্দিরের সবচেয়ে বড় প্রাসাদটির ছায়া দিনের যে কোনও সময় অদৃশ্য থাকে।

    আরও পড়ুন 
    রথ স্পেশাল: জগন্নাথকে দেওয়া হয় ৫৬ ভোগ, জানেন এই ভোগে কী কী থাকে?

    পুরী মন্দিরের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য বৈশিষ্ট হল প্রসাদ। সারা বছর ধরেই সমপরিমান প্রসাদ রান্না করা হয়। কিন্তু ওই একই পরিমান প্রসাদ দিয়ে কয়েক হাজার মানুষ হোক বা ২০ লক্ষ মানুষকে খাওয়ানো হোক তবু প্রসাদ কখনও নষ্ট হয় না বা কখনও কম পড়ে না।

    মন্দিরের হেঁশেলে একটি পাত্রের উপর আর একটি এমন করে মোট ৭টি পাত্র আগুনে বসানো হয় রান্নার জন্য। এই পদ্ধতিতে যে পাত্রটি সবচেয়ে উপরে বসানো থাকে তার রান্না সবার আগে হয়। তার নিচের তারপরে। এভাবে করতে করতে সবচেয়ে দেরিতে সবচেয়ে নিচের পাত্রের রান্না হয়।

    পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের ভিতরে সিংহদ্বারের মন্দিরে প্রবেশ করার পর প্রথম সিঁড়িতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্রের আওয়াজ আর শুনতে পারবেন না। কিন্তু ওই সিঁড়িটি টপকে গেলে আবার সমুদ্রের শব্দ শুনতে পাবেন। সন্ধেবেলায় এই বিষয়টি সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়।

    First published: