দুধের শিশুকে নিয়ে হাওড়া স্টেশনে আটকে পড়লেন দুই মা, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করল হাওড়া পুলিশ

মঙ্গলবার অসম থেকে হাওড়া স্টেশনে পৌঁছানোর পর তাঁরা জানতে পারেন ইয়াস-এর কারণে বাতিল হয়ে গিয়েছে ট্রেন চলাচল | ফলে কেরল যেতে পারবেন না তাঁরা ।

মঙ্গলবার অসম থেকে হাওড়া স্টেশনে পৌঁছানোর পর তাঁরা জানতে পারেন ইয়াস-এর কারণে বাতিল হয়ে গিয়েছে ট্রেন চলাচল | ফলে কেরল যেতে পারবেন না তাঁরা ।

  • Share this:

Debasish Chakraborty

#হাওড়া: সব কিছুই ঠিকঠাক থাকলে পৌঁছে যেতে পারতেন স্বামীর কাছে, নিজের ছোট্ট সন্তানকে দেখবেন বলে উদগ্রীব কেরলে থাকা পিতাও | সব কিছুই যেন উলটপালট করে দিল "ইয়াস" | ইয়াসের জেরে বন্ধ প্রায় সব শাখার ট্রেন চলাচল | অসম থেকে হাওড়াতে এসে বিপাকে নিজের সন্তান-সহ দুই মহিলা | অসম থেকে কেরলে কর্মরত স্বামীর কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে অসমের মরিগাঁও থেকে হাওড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন দুই মহিলা। সঙ্গে ছিল তাঁদের দুই সন্তান, একজনের বয়স ৭ বছর আর একজনের বয়স মাত্র ৫ মাস | গতকাল, মঙ্গলবার হাওড়া স্টেশনে পৌঁছানোর পর তাঁরা জানতে পারেন ইয়াস-এর কারণে বাতিল  হয়ে গিয়েছে ট্রেন চলাচল | কেরল যাওয়ার টিকিট থাকলেও আজ তাঁরা যেতে পারবেন না |

এ দিকে অসমে ফের ফিরে যাওয়ার রাস্তাও বন্ধ | অগত্যা ঠাঁই হয় খোলা আকাশের নীচে | ঘূর্ণিঝড়ের জেরে শুরু হয় বৃষ্টি, বৃষ্টি মাথায় নিয়ে খোলা আকাশের নিচে শিশুদের নিয়ে বসেছিলেন দুই মহিলা | এ সময় শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা  থমকে দাঁড়ান | খবর যায় হাওড়া ব্রিজ হাওড়া স্টেশন এলাকায় ট্রাফিক ইনস্পেক্টর সুকান্ত কর্মকার এর কাছে | তড়িঘড়ি সেখানে আসেন সুকান্ত বাবু | সুকান্ত বাবু এবং কর্তব্যরত পুলিশ কর্মী এবং বরণ মুখোপাধ্যায়ের বদন্যতায় ও মানবিকতায় দুধের শিশুসহ মহিলাদের জন্য জোগাড় হয় আস্তানা | লকডাউনের জেরে হাওড়া শহরে বন্ধ সব হোটেল | পুলিশকর্মীদের উদ্দ্যোগে একটি হোটেলের ঘর জোগাড় হয় এই মহিলা এবং শিশুদের জন্য | মাথার উপর ছাদ পেয়ে মেহেরজান বেগম জানান, ‘‘ভিন রাজ্য থেকে এসে প্রায় বিপাকেই পড়েছিলাম পাঁচ মাসের সন্তানকে নিয়ে | একটা সময় মনে হচ্ছিল কী করব, সন্তানকে কী করে বাঁচাবো এই খোলা আকাশের নিচে | কতদিন এইভাবে রাস্তায় পড়ে থাকতে হবে তা একেবারেই বুঝে উঠতে পারছিলাম না | দুই পুলিশকর্মী আমাদের প্রায় মৃত্যুর মুখ থেকে বাঁচিয়ে আনলেন |’’

উদ্ধারকারী পুলিশকর্মী অরুণ বাবু জানান, ‘‘প্রতিদিনের মতই আজও হাওড়া স্টেশনে নিউ কমপ্লেক্স এলাকায় কাজ করছিলাম হঠাৎ করেই শুনতে পাই শিশুর কান্না| নজরে আসে পাঁচ মাসের শিশুকে নিয়ে বসে রয়েছেন দুই মহিলা রয়েছে আরও একটি সাত বছরের সন্তান | ওঁদের কাছে পুরো ঘটনার কথা শুনে খবর দিই বড়বাবু সুকান্ত কর্মকারকে | সুকান্ত বাবুর নির্দেশেই তাঁদের খাবার জোগাড় করা হয় এবং পরবর্তীকালে এই লকডাউন এর মধ্যেই একটি হোটেল খুঁজে বার করে তাঁদেরকে সেখানে আস্তানা তৈরি করে দিয়েছি |’’ অন্যদিকে সুকান্ত বাবু জানান, ‘‘লকডাউনে প্রতিদিনই কেউ বা কারা আসছেন যাঁরা সমস্যায় পড়ছেন হাওড়া স্টেশনে এসে | লকডাউন এর মধ্যেই ভিন রাজ্য থেকে আসা মানুষজন পৌঁছতে পারছেন না গন্তব্যস্থলে । তাঁদেরকে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেওয়া এবং কিছু মানুষকে খাবার দাবার জোগাড় করে দেওয়া প্রতিদিনই চলছে হাওড়া সিটি পুলিশের তরফ থেকে | তবে এই দুই মহিলা একেবারে অসহায় ছিলেন  । স্বামীর কাছে পৌঁছানোর জন্য তাঁদের যেতে হবে কেরলে । ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের না অসম ফেরত পাঠানো যেত, না কেরলে যাওয়ার কোনও রাস্তা ছিল | এমনকি হোটেল বা ঘর কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না | অনেক কষ্টে গোলাবাড়ি এলাকায় একটি হোটেল খোলা পাওয়া যায় এবং সেখানেই তাঁদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে | বুধবার তাঁদের কেরল যাওয়ার কথা থাকলেও ট্রেন বাতিল হওয়ায় তাঁরা সেখানে যেতে পারবেন না | যতদিন না তাঁরা কেরলের উদ্দেশ্য রওনা দিতে পারছেন ততদিন তাঁদের থাকা খাওয়ার ভার নিয়েছে হাওড়া সিটি পুলিশ | ট্রেন চালু হলেও ট্রেনের টিকিটের একটা সমস্যা থেকেই যাবে সে ক্ষেত্রে তাঁদেরকে কেরল যাওয়ার টিকিটের ব্যবস্থাও করবে হাওড়া সিটি পুলিশ’’, জানালেন হাওড়া ব্রিজ হাওড়া স্টেশন এলাকায় ট্রাফিক ইনস্পেক্টর সুকান্ত কর্মকার | একদিকে লকডাউন অন্যদিকে ইয়াসের মতন ঝড় সঙ্গে বৃষ্টি অবস্থায় দুধের শিশুটিকে বাঁচাতে পেরে আমরা অনেকটাই ধন্য | এখন আমাদের একটাই লক্ষ্য এই শিশুটিকে তার পিতার কাছে পৌঁছে দেওয়া |

Published by:Simli Raha
First published: