ইন্দিরার দেওয়া উপহার নিয়ে বিধানসভায় সুব্রত মুখোপাধ্যায়

ইন্দিরার দেওয়া উপহার নিয়ে বিধানসভায় সুব্রত মুখোপাধ্যায়

সেই উপহার সযত্নে রাখা ছিল গড়িয়াহাটের বাড়িতেই। বুধবার সকালে উঠেই ঠিক করলেন সংবিধান নিয়ে বলতে গিয়ে ইন্দিরাজীর উপহার সঙ্গে করেই বিধানসভায় ঢুকবেন।

  • Share this:

Sourav Guha

#কলকাতা: বিধানসভায় চলছে সংবিধান দিবসের অনুষ্ঠান । সেই উপলক্ষে বিধানসভায় বসেছে দু’দিনের বিশেষ অধিবেশন আর তাতেই রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রী  দ্বৈরথ নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি ৷ সাংবিধানিক অধিকার আর নিয়ম নীতি নিয়ে বিধানসভার লবি সরগরম।  এরই মাঝখানেই সংবিধান হাতে আগমন রাজ্যের এক বিশিষ্ট মন্ত্রীর ৷ ডুব দিলেন স্মৃতিচারণে । সংবিধান নিয়ে আলোচনার পরিসর তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে ফেলে আসা দিন আর ইন্দিরা গান্ধীর স্মৃতিতে ।

সালটা ছিল ১৯৭৭ ।  প্রবল প্রতিষ্ঠান  বিরোধী ঝড়ে হেরে গিয়েছেন ইন্দিরা গান্ধী । প্রধানমন্ত্রী পদ খোওয়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই ছাড়তে হবে প্রধানমন্ত্রীর  বাসভবনও। এটাই রীতি।  ইন্দিরাজী ও তার বিখ্যাত ১২ নম্বর বাংলো ছাড়ার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মনটা একটু ভার।।  তবে দমে যাওয়ার পাত্রী তিনি নন।  হেরে গিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াবার প্রস্তুতি  নিচ্ছেন জোরকদমে। দিল্লির বাড়িতে নেতা কর্মীদের ভিড়। ওই ভিড়েই ছিলেন বাংলার কনিষ্ঠতম মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়।  ছাত্র রাজনীতির  দিনগুলি থেকেই সুব্রতকে ভারী পছন্দ ইন্দিরাজীর।  ভিড়ের মধ্যে প্রিয় মুখটা দেখতে পেয়েই বাংলোর ভেতরে  ডাকেন ইন্দিরাজী। এটা ওটা কথা বলার পরই সুব্রতকে ইন্দিরাজী বললেন  ‘ভালই হয়েছে তুমি এসেছ।  আমার একটা কাজে সাহায্য করতো।  সুব্রত অবাক এবং উত্তেজিত।  ইন্দিরা জীর কোন কাজে আসতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করবে সে।

‘বলুন ইন্দিরাজী ’ উত্তর দিলেন সুব্রত ৷ ‘চলো লাইব্রেরিটা গোছাই’, এই বলে সুব্রতর হাত ধরে বাংলোর লাইব্রেরি রুমে পৌঁছেছিলেন ইন্দিরাজী ।  আসলে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ছাড়তে তো হবে কিন্তু এত ব্যক্তিগত  বইগুলো তো আর ফেলে যেতে পারেন না।  অগত্যা সুব্রতকে নিয়ে বই গোছাতে মন দিলেন ইন্দিরা গান্ধি।

সংবিধানের পাতায  জ্বল জ্বল করছে রাজেন্দ্র প্রসাদ,  জহরলাল নেহেরু সহ একাধিক নেতার স্বাক্ষর সংবিধানের পাতায জ্বল জ্বল করছে রাজেন্দ্র প্রসাদ, জহরলাল নেহেরু সহ একাধিক নেতার স্বাক্ষর

এদিকে লাইব্রেরিতে ঢুকে তো চোখ ছানাবড়া  সুব্রত মুখার্জির।  এতো বই!  আর কী বিচিত্র  বই।  কোনও কোনো বইয়ে জহরলাল নেহেরুর স্বাক্ষর ।  কোনও বইয়ে স্বয়ং মহাত্মার আশীর্বাদ  বাণী ।।  বিস্ময়ের ঘোর যেন  কাটেনা সুব্রতর।  কী দেখছেন এসব৷ নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না সুব্রত।  বিস্ময়ের সীমা আকাশ ছুঁল,  ঘরের এক কোণায় তাকিয়ে দেখেন সেখানে রাখা ভারতীয় সংবিধান।।  চমকে গেলেন বইটার পাতা উল্টোতেই ।  জ্বল জ্বল করছে রাজেন্দ্র প্রসাদ,  জহরলাল নেহেরু সহ একাধিক নেতার স্বাক্ষর।  আপ্লুত হয়ে পড়লেন সুব্রত ।

Indira-Gandhi-ili-50-img-1

‘এ তো অসামান্য জিনিস’, ইন্দিরা জীকে বলেই ফেললেন সুব্রত। এখানেই শেষ নয় ৷ ‘এটা হাতে নিয়ে আমার কান্না পাচ্ছে।’ ইন্দিরাজীকে তাও বললেন সুব্রত মুখোপাধ্যায় ৷  সুব্রতর আবেগ বুঝতে পেরে ইন্দিরাজী বললেন,  ‘তব এক কাম করো তুম হী ইসকো রাখ দো’ ৷

জবাব শুনে চোখে জল সুব্রতর। হাত পেতে নিলেন উপহার।  সেই উপহার সযত্নে রাখা ছিল গড়িয়াহাটের বাড়িতেই।  বুধবার সকালে উঠেই ঠিক করলেন সংবিধান নিয়ে বলতে গিয়ে ইন্দিরাজীর উপহার সঙ্গে করেই বিধানসভায় ঢুকবেন।  করলেনও তাই।।  সুব্রতর হাতে ইন্দিরাজীর দেওয়া সংবিধান দেখতে এম.এল.এ-রা উপচে পড়ল।  গল্পে-কথায় সুব্রতর ইন্দিরা স্মৃতিচারণায় মাতলেন স্পিকার থেকে বিধায়ক সবাই।।  হঠাৎ সদনের বেল বেজে উঠল ৷  গল্প থামিয়ে সুব্রত মুখোপাধ্যায় বললেন, ‘অনেক অতীত হল, চল এবার বর্তমান সামলাই।’

First published: 02:47:18 PM Nov 27, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर