'মমতার পাল্টা প্রতিষ্ঠিত মুখই তুলে ধরা যায়নি', এবার সরব সব্যসাচী

সব্যসাচী দত্ত৷

  • Share this:

    #কলকাতা: নির্বাচনের আগে এঁদের অনেকের গলাতেই শোনা গিয়েছিল রাজ্যে ক্ষমতা দখলের হুঙ্কার৷ ভোটে পরাজয়ের পর এখন প্রায় প্রতিদিনই দল বদল করে বিজেপি-তে আসা সেই নেতাদের মুখেই নিজেদের দলের রণকৌশল নিয়ে সমালোচনার সুর৷ কয়েকদিন আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের সমালোচনা না করে বিজেপি নেতাদের আত্মসমালোচনা করার বার্তা দিয়েছিলেন শুভ্রাংশু রায়৷ এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন নির্বাচনে পরাজিত আর এক বিজেপি নেতা সব্যসাচী দত্ত৷ রাখঢাক না করেই তিনি এ দিন স্বীকার করে নিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠিত মুখ তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে বিজেপি৷ ঘটনাচক্রে এ দিনই সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়ে কার্যত একই ধরনের মতপ্রকাশ করেছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ও৷ একই দিনে রাজীব- সব্যসাচী দলের নীতি নিয়ে প্রকাশ্যেই সরব হওয়ায় বিজেপি-র অস্বস্তি অনেকটাই বেড়ে গেল৷

    রাজীবের পাশাপাশি সব্যসাচীও এভাবে সরব হওয়ায় স্বভাবতই প্রশ্ন উঠে গেল, শুধু কি দলের রণনীতির সমালোচনা, নাকি তারই আড়ালে পুরনো দলকে বার্তা দিলেন মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই নেতা?

    বিধাননগর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের সুজিত বসুর কাছে পরাজিত হন সব্যসাচী দত্ত৷ এর পর এ দিনই নির্বাচনে দলের রণকৌশল নিয়ে মুখ খুলেছেন বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র৷ সব্যসাচী বলেন, 'আমার ভাল লাগতে পারে বা না লাগতে পারে৷ কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন প্রতিষ্ঠিত মুখ৷ দশ বছর ধরে তিনি মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাজ্য সরকার পরিচালনা করেছেন৷ সেই দশ বছরের উল্টো দিকে একটা তো কোনও মুখ দরকার ছিল৷ সেরকম কোনও মুখ আমরা তুলে ধরতে পারিনি৷ '

    এখানেই শেষ নয়, সব্যসাচীর মতে কেন তাদের ক্ষমতায় আনতে হবে তা মানুষকে বোঝাতেই ব্যর্থ হয়েছে বিজেপি৷ বরং বিজেপি নেতৃত্ব ধরেই নিয়েছিলেন যে তৃণমূলের উপরে রাগ করেই মানুষ তাদের ক্ষমতায় নিয়ে আসবে৷ সব্যসাচীর কথায়, 'শুধু নেতিবাচক ভোটে নির্বাচন জেতা যায় না৷ ইতিবাচক উদ্দেশ্য নিয়ে এগোতে হয়৷ আপনাকে খারাপ বলে গেলেই তো লোকে আমাকে গ্রহণ করবে না, আমার ভাল দিকটাও তো মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে৷'

    এ দিন অনেকটা একই অভিযোগ করে ট্যুইট করেছেন আর এক বিজেপি নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ও৷ তবে নির্বাচনী রণকৌশল নয়, বরং ভোটের পরে বিজেপি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে যে কৌশল নিয়েছে, তারই সমালোচনা শোনা গিয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন বনমন্ত্রীর গলায়৷ বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রীর ক্রমাগত সমালোচনা এবং কথায় কথায় ৩৫৬ ধারা প্রয়োগের ভয় দেখানো যে রাজ্যবাসী ভাল ভাবে নেবে না, নাম না করেই বিজেপি নেতাদের সেই বার্তা দিয়েছেন রাজীব৷ কয়েক দিন আগে ফেসবুক পোস্টে একই বার্তা দিয়েছিলেন মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায়৷ ফলে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, দলের বিরোধিতায় বিজেপি-র এই বেসুরো নেতাদের সুর যেভাবে মিলে যাচ্ছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে ফের দলবদলের চেনা ছবি রাজ্য রাজনীতিতে ফিরলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না৷ যেভাবে প্রতিদিন বেসুরো নেতাদের সংখ্যা বাড়ছে, বিশেষত তৃণমূল ছেড়ে আসা নেতাদের অনেকেই যেখানে অন্য সুরে কথা বলতে শুরু করেছেন, তাতে বিজেপি নেতৃত্বের কপালে চিন্তার ভাজ বাড়ছে৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: