ফাস্ট্যাগ আছে গাড়িতে, এই সমস্যাগুলো জানা আছে তো ?

ফাস্ট্যাগ আছে গাড়িতে, এই সমস্যাগুলো জানা আছে তো ?
আর হাতে টাকা নয়, অনলাইনেই টোল ট্যাক্স মেটানো যাবে।

লং ড্রাইভে বেরিয়েছেন? ফাস্ট্যাগ আছে গাড়িতে? না হলে ব্যাপক ভুগতে হবে টোল প্লাজায়

  • Share this:

ABIR GHOSHAL

#কলকাতা: এক সপ্তাহ পেরিয়ে গিয়েছে। ফাস্ট্যাগ নিয়ে সমস্যা অবশ্য মিটছে না। এখনও রাজ্যের অধিকাংশ গাড়ি ব্যবহারকারী ফাস্ট্যাগ ব্যবহারে অনীহা দেখাচ্ছে। ফলে নিত্যদিন যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতিটি টোল প্লাজায়। আমাদের রাজ্যে টোল প্লাজার সংখ্যা ছিল ১৭। রয়েছে এখন ১৬। কাজ করছে ১৪। আর বাকি গুলো নিয়ে দিনভর চলছে ফাস্ট্যাগ নিয়ে। গত শনিবার ১৪ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদের একটি টোল প্লাজায় আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। লুঠ হয়ে যায় প্রায় ১৭ লাখ টাকা। এছাড়া পুড়েছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের গাড়ি ও অফিস। প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাদের। আর এই ঘটনার পরে টেনশন বাড়তে শুরু করেছে আধিকারিকদের। ফলে দুই জেলা মালদা ও মুর্শিদাবাদের টোল প্লাজা এখনও ফাস্ট্যাগ নিয়ে স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি। যদিও বাড়তি টাকা তুলতে হবে এই আশঙ্কায় কেউ ফাস্ট্যাগ লেনে গাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন না। সোমবার টোল প্লাজাগুলির পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক হয় জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের অফিসে।

সোমবার সকাল থেকেই চিফ জেনারেল ম্যানেজার বারবার ফোন করে খোঁজ নিতে শুরু করেন প্রজেক্ট ডিরেক্টরদের থেকে। যদিও তার কাছে বেশ কিছু প্রজেক্ট ম্যানেজার কার্যত তাদের অসহয়তা প্রকাশ করতে শুরু করেন। এর মধ্যে নানা জায়গায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় টোলের প্রাথমিক কাজ সারতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন তারা।

১৫ ডিসেম্বর রবিবার থেকে রাজ্যে চালু হয়েছিল ফাস্ট্যাগ ব্যবস্থা। যদিও সেই ব্যবস্থা পুরোপুরি কাজ করতে না করতেই সোমবার সকাল থেকে নানা জায়গায় পরিষেবা বন্ধ হওয়ার খবর আসতে থাকে। এন এইচ এ আই সূত্রে খবর, জার্মান থেকে আনা বিশেষ যন্ত্র দিয়ে ফাস্ট্যাগ ব্যবস্থা কাজ করবে। সেই যন্ত্র কাজ করতে গিয়ে তৈরি হচ্ছে সমস্যা। সার্ভার সংযোগ না থাকার কারণে জটিলতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রবিবার ছুটির দিন থাকায় এমনিতেই জাতীয় সড়ক ধরে অনেক গাড়ি কম গেছে বলে হিসেব দিয়েছিল জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। ফলে অতটা সমস্যা ধরা যায়নি। সোমবার সকাল থেকেই অবশ্য ডানকুনি, ধুলাগড, ডেবরা, বহরমপুর, মালদা ও ডালখোলার টোল প্লাজা নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে। এই সমস্ত জায়গা থেকে অভিযোগ আসছে, ফাস্ট্যাগ লেন ও সাধারণ লেন চিহ্নিত করে দেবার জন্য মার্শাল নিয়োগের কথা বলেছিল এন এইচ এ আই। যদিও বহু জায়গায় সেই কর্মী নেই। থাকলেও এত অল্প সংখ্যক কর্মী যে তাদের পক্ষে যানজট সামলানো সহজ হচ্ছে না। একই সঙ্গে রাজ্য পরিবহণ দফতরের সাথে বৈঠকে ঠিক হয়েছিল সাধারণ লেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে। যেহেতু অধিকাংশ গাড়ি চালকই এই ফাস্ট্যাগ ব্যবস্থা সম্পর্কে জানেন না। তবুও এক মাস আগে সেই কাজ করার কথা বলা হলেও তা এখনও কার্যকর করা যায়নি। রাতের বেলা সবচেয়ে বেশি সমস্যা পড়ছে ছোট গাড়িগুলো। কারণ লরি চলাচল শুরু হয়ে যাওয়ায় টোল প্লাজার সাধারণ লেন জুড়েই ব্যাপক যানজট তৈরি হয়ে থাকছে। অভিযোগ অবশ্য মেনে নিচ্ছেন এন এইচ এ আইয়ের চিফ জেনারেল ম্যানেজার আর পি সিংহ। তবে তার ব্ক্তব্য, ব্যবস্থা একেবারেই নতুন। তাই একটু অসুবিধা হচ্ছে। তবে সমস্যা মিটে যাবে। পুলিশের সাথে সমস্ত জেলায় কথা হয়েছে। যানজট যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।

মালদা, মুর্শিদাবাদ, হাওড়ার যে সমস্ত টোল প্লাজা আছে এন এইচ এ আই জানাচ্ছে সেখানে দৈনিক আয় প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ লক্ষ টাকার কাছাকাছি। ফলে এই সমস্ত জায়গায় গাড়ির চাপও অনেক বেশি। আর এখানেই মাঝে মাঝে ফাস্ট্যাগ ব্যবস্থা সমস্যা করছে। এন এইচ এ আইয়ের ব্ক্তব্য সার্ভার সমস্যা করার জন্যই এই হাল। কিছু ফাস্ট্যাগ ব্যবহারকারীর অভিযোগ, বেশি টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। যদিও সেই টাকা কীভাবে ফেরত আসবে তা টোল প্লাজা বা ব্যাঙ্ক কেউই জানাতে পারছেন না। কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, আসা যাওয়ার জন্য সাধারণ উপায়ে টোল কাটলে মিলত ডিসকাউন্ট। কিন্তু এখন বেশি টাকা লাগছে। ফলে যাতায়াতের খরচ বেড়েছে।

বাস ইউনিয়নগুলির তরফ থেকে তাই স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে তারা কোনও ভাবেই ফাস্ট্যাগ ব্যবহার করবেন না। যদিও এন এইচ এ আই আধিকারিক জানাচ্ছেন আজ হোক বা কাল ফাস্ট্যাগ সকলকেই ব্যবহার করতে হবে।

First published: 05:55:13 PM Dec 23, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर