Narada Case: নারদে এবার নতুন মোড়, নজর হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চে  

কলকাতা হাইকোর্ট৷

গত ১৭ মে সাত সকালে সিবিআই নারদকাণ্ডে (Narada Case) চার হেভিওয়েট নেতা ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে।

  • Share this:

#কলকাতা: নারদ কাণ্ডে হেভিওয়েটদের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে এবার নতুন করে মামলা দায়ের কলকাতা হাইকোর্টে। নতুন মামলায় অস্বস্তিতে পড়তে পারেন হেভিওয়েট নেতারাও, এমনটাই মত আইনজীবী মহলের একাংশের।

গত ১৭ মে সাত সকালে সিবিআই নারদকাণ্ডে চার হেভিওয়েট নেতা ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে। ওই দিনই সকাল ১০টার পর পরিস্থিতি বদলাতে থাকে।  নিজাম প্যালেসে সিবিআই অফিস চত্বরে জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ। জননেতাদের সমর্থনে জনতার প্রতিবাদ শুরু হয়। নিজামের গেটের বাইরে জমায়েত থেকে বিক্ষোভ, বিশৃঙ্খলা হয়। অথচ সময়কাল বলছে তখন নবান্নের নির্দেশে রাজ্যজুড়ে বিপর্যয় মোকাবিলা আইন মেনে কড়া বিধিনিষেধ লাগু ছিল। কোভিড রুখতে রাজ্য জুড়ে ভিড় নিয়ন্ত্রণের উল্টো ছবি নিজামে কেন?  এমনই একাধিক প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা ঠুকেছেন উত্তর কলকাতার বাসিন্দা শরদ কুমার সিং।

মামলাকারী তাঁর যুক্তিতে জানিয়েছেন, 'কার্যত' লকডাউনে বিধি ভেঙে রাস্তায় বেরোলে গোটা রাজ্যে ধরপাকড় হলেও সেদিন নিজামে তা করা হলো না কেন? হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা পুলিশ আধিকারিকরা সেদিন কী করছিলেন? ঘটনার তিন দিন পরে মাত্র ৪জন আটক কেন হবে? আইনের দুই রকম প্রয়োগ কেন হবে রাজ্যে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন মামলাকারী। মামলায় আবেদন করা হয়েছে,  রাজ্যের বাইরের নিরপেক্ষ সংস্থাকে দিয়ে ঘটনার তদন্ত করা হোক। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিকদের সাসপেন্ড  এবং বিভাগীয় তদন্ত শুরুর দাবিও জানিয়েছেন মামলাকারী।

মামলাকারী জনস্বার্থের কথা ভেবে মামলা করার কথা জানালেও প্রাথমিকভাবে কলকাতা হাইকোর্টের  ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল শুক্রবার সেই আবেদনে সাড়া দেননি। সিঙ্গেল বেঞ্চে বিষয়টির দৃষ্টি আকর্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। নারদে ৪ হেভিওয়েটের জামিন ও মামলা স্থানান্তর নিয়ে ৫ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চে শুনানি চলছে। মঙ্গলবার আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি সওয়াল করতে গিয়ে সিবিআই-কে 'খাঁচাবন্দি তোতাপাখি' থেকে শুরু করে 'উড়ন্ত প্রজাপতি' বলে বিঁধেছেন। একটা সীমার পর 'তোতাপাখিকে' আটকানোর কথাও বলেছেন এ দিন। বৃহত্তর বেঞ্চের বিচারের বড় অংশ জুড়েই থাকছে নিজাম প্যালেসের বাইরে জমায়েতের প্রসঙ্গ। সিবিআই-এর দাবি, এই ধরনের জমায়েত এবং বিক্ষোভ করা হয় বিশৃঙ্খলা তৈরির জন্য। আর হেভিওয়েট চার নেতার আইনজীবীদের যুক্তি, ওই বিক্ষোভ আসলে  জনতার প্রতিবাদ। এই অবস্থায় নিজামের জমায়েত নিয়ে নতুন মামলায় গোটা বিষয়টি অন্যমাত্রা পেয়েছে। শরদ কুমারের আইনজীবী  বিকাশ সিং জানান,  '১৭ই মে-র  আগের দিন বিপর্যয় মোকাবিলা আইনে শিলিগুড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় তিন বিজেপি বিধায়ককে। অথচ হাজার হাজার মানুষের জমায়েতে গ্রেফতার মাত্র ৪!। বুধবার বিষয়টি আদালতের নজরে আনবো।'

Arnab Hazra

Published by:Debamoy Ghosh
First published: