নেতাজিনগরে দম্পতি খুনে চাঞ্চল্যকর তথ্য, খুনের আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল বৃদ্ধাকে

নেতাজিনগরে দম্পতি খুনে চাঞ্চল্যকর তথ্য, খুনের আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল বৃদ্ধাকে
  • Share this:

#কলকাতা: জুলাই মাসের শেষ দিকে এই ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল শহরবাসী ৷ নেতাজিনগরে নিরপরাধ, মিশুকে বয়স্ক দম্পতি খুনে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে ৷ প্রায় তিন মাস পর সেই খুনের চার্জশিট জমা পড়ল ৷

সেই চার্জশিটে উঠে এল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য ৷ শুধু নৃশংসভাবে খুনই নয় ৷ খুনের আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল বৃদ্ধা স্বপ্না মুখোপাধ্যায়কে ৷ ধর্ষণের পরেও নৃশংসভাবে অত্যাচার করা হয় তাঁকে ৷ এটিকে বিরলতম ঘটনা বলে উল্লেখ করা হয় ৩০০ পাতার চার্জশিটে ৷ নেতাজিনগর খুনের মামলায় সাক্ষী রয়েছেন ৫০ জন ৷

২৯ জুলাই নেতাজিনগরে খুন হন দম্পতি দিলীপ মুখোপাধ্যায় ও স্বপ্না মুখোপাধ্যায় ৷ নেতাজিনগরে একটি দোতলা বাড়িতে থাকতেন নিঃসন্তান বৃদ্ধ দম্পতি দিলীপ ও স্বপ্না মুখোপাধ্যায়। এটি স্বপ্না মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাড়ি। দিলীপ মুখোপাধ্যায় একটি কেমিক্যাল ফ্যাক্টরিতে চাকরি করতেন। স্ত্রীর সঙ্গে তিনিও এই বাড়িতে থাকতেন। বাড়ি থেকেই দু’জনের দেহ উদ্ধার হয়। বাড়িতে ঢোকার দরজার পাশেই চিত হয়ে পড়েছিল বৃদ্ধার দেহ। মুখে ঢোকানো ছিল প্লাস্টিকের পাইপ। মুখ,নাক,কান দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছিল। বৃদ্ধের দেহ পড়েছিল দোতলার ঘরে বিছানার উপর। খাটের উপরে পড়েছিল তাঁর মোবাইলও।

পরিচারিকা দাবি করেছিলেন, বাড়ি বিক্রির জন্য লাগাতার ফোন আসত প্রোমোটারের। দম্পতির আপত্তি সত্ত্বেও প্রোমোটাররা চাপ দিত। তাহলে কী প্রমোটার চক্রেই খুন ? প্রতিবেশীদের দাবি, এই মিশুকে দম্পতির বাড়িতে সকলেরই ছিল অবাধ যাতায়াত। ব্যাঙ্কে রাখা টাকা থেকেই চলত তাঁদের সংসার। ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তুলতে পরিচিত কাউকেই নিয়ে যেতেন ষাটোর্ধ্ব দিলীপ মুখোপাধ্যায়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, কিছুদিন আগেই বাড়ি রং করিয়েছিলেন ওই দম্পতি ৷ ঠিকাদার একজন হলেও মাঝেমধ্যেই কর্মী বদল হত ৷ ঘরের মধ্যে তাঁদেরও অবাধ যাতায়াত ছিল। ফলে, দম্পতির গতিবিধি সম্পর্কে তাঁদেরও ধারনা থাকতে পারে। সবদিক খতিয়ে দেখে রংয়ের মিস্ত্রি হামরুজ আলমকে গ্রেফতার করে পুলিশ ৷ খুনের পরেই গা ঢাকা দিয়েছিল সে ৷ শেষ পর্যন্ত খুনের ৫ দিন পর বিহার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় ৷ জেরায় খুনের কথা স্বীকারও করে নেয় হামরুজ ৷

First published: 10:08:58 AM Oct 26, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर