• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • টোকেন চুরির জেরে বিপুল ক্ষতির মুখে মেট্রো রেল

টোকেন চুরির জেরে বিপুল ক্ষতির মুখে মেট্রো রেল

মেট্রো চালু হয়ে গেলে মাত্র ১ ঘণ্টায় নিউ গড়িয়া থেকে পৌছে যাবেন দক্ষিণেশ্বর।

মেট্রো চালু হয়ে গেলে মাত্র ১ ঘণ্টায় নিউ গড়িয়া থেকে পৌছে যাবেন দক্ষিণেশ্বর।

গোটা ঘটনায় হতবাক মেট্রো। কিভাবে আটকানো যাবে এই বদ অভ্যাস, তা নিয়ে দিশেহারা  

  • Share this:

#কলকাতা: নানা টালবাহানার পর, চালু হয়েছে ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রোর প্রথম ফেজ। স্বল্প দুরত্বে মেট্রো চালিয়ে যে লাভ হবে না তা ভালই বুঝেছেন মেট্রোরেলের আধিকারিকরা। তাই তারা চাইছেন, যে কোনও ভাবে ফুলবাগান অবধি মেট্রো পরিষেবা চালু করতে।

এরই মধ্যে স্বল্প অংশে মেট্রো চালাতে গিয়ে টোকেন চুরি নিয়ে জেরবার মেট্রো। চুরির বদ অভ্যাস কাটাতে যাত্রীদের সচেতন করতে প্রতি স্টেশনে চলছে ঘোষণা। মেট্রোয় টিকিট হিসেবে ব্যবহার করা হয় টোকেন। পুরনো মেট্রোর চেয়ে ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রোর টোকেন একটু হলেও আলাদা। একদিকে ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রো রেকের ছবি, আর অন্যদিকে স্বচ্ছ রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে বিজ্ঞাপন পেলে সেখানে সেই সংস্থার নাম জুড়ে দেওয়া হবে। যেহেতু মেট্রো টিকিটিং এরিয়া গেট ইটিসি, তাই টোকেন পাঞ্চ করে ঢুকতে হবে আর বেরোনোর সময় ইটিসি'তে টোকেন ফেলে দিলেই গেট খুলে যাবে।

আর এরই মাঝে পরিষেবার প্রথম ৬ দিনে টোকেন চুরি গেছে প্রায় ১০৭০ খানে। একনজরে প্রথম ৬ দিনের টোকেন চুরির তালিকা দেখে নেওয়া যাক -১৪ ফ্রেব্রুয়ারি টোকেন ইস্যু হয়েছে ১১৯১০টি। চুরি গিয়েছে ৪০০টি।১৫ ফ্রেব্রুয়ারি টোকেন ইস্যু হয়েছে ৯৮৮৩ টি। চুরি গিয়েছে ২১৭ টি।১৬ ফ্রেব্রুয়ারি টোকেন ইস্যু হয়েছে ১১১০১ টি। চুরি গিয়েছে ৩১১ টি।১৭ ফ্রেব্রুয়ারি টোকেন ইস্যু হয়েছে ৫৯২৮ টি। চুরি গিয়েছে ৪৯ টি।১৮ ফ্রেব্রুয়ারি টোকেন ইস্যু হয়েছে ৫১০৬ টি। চুরি গিয়েছে ৫৭ টি।১৯ ফ্রেব্রুয়ারি টোকেন ইস্যু হয়েছে ৪৮৭২ টি। চুরি গিয়েছে ৩৬ টি।সব হিসেব করে দেখা যাচ্ছে প্রথম ছয় দিনে টোকেন ইস্যু করা হয়েছে ৪৮৮০০ টি। আর তার মধ্যে চুরি গেল ১০৭০ টি। ইস্যু হওয়া টোকেন তাতে চুরি যাওয়ার সংখ্যা কম হলেও চুরি থেকে ক্ষতির বহর ভালই হয়েছে মেট্রোর। কারণ যে সমস্ত টোকেন চুরি গেছে তার টিকিট হিসেবে মুল্য ছিল মাত্র ৫ টাকা। কিন্তু এই সব টোকেন তৈরি করতে খরচ হয় প্রায় ২০ টাকা করে। ফলে সব মিলিয়ে মেট্রো রেলের টোকেন বাবদ ক্ষতি হল ২১৪০০ টাকা।

কিন্তু চুরি যাচ্ছে কিভাবে টোকেন? কারণ টোকেন বা স্মার্ট কাড না থাকলে কাউন্টার ছেড়ে টিকিটিং এরিয়াতে ঢোকা সম্ভব নয়। বেরোনোর সময় গেটে টোকেন না ফেললে গেট খুলবে না তাহলে কি করে হল? সূত্রের খবর, প্রথম দিন, প্রথম চার ঘন্টা ইলেকট্রনিক গেটের পাশাপাশি, সাধারণ স্টাফ গেট বা এমারজেন্সি গেট খুলে রাখা ছিল। ভ্যালেন্টাইন্স ডে'র দিন প্রচুর অভ্যাগত প্রথম দিনের রাইডের মজা নিতে এসেছিলেন। তারাই বিভিন্ন স্টেশন দিয়ে স্টাফ গেট ব্যবহার করে চলে গেছেন। যা গোটাটাই নজরদারির অভাব বলে মনে করছে মেট্রো। আর তারপর থেকে যে টোকেন চুরি গেছে তাতে যাত্রীদের অনেকে কাউন্টার থেকে টিকিট বা টোকেন ইস্যু করিয়েছেন।

কিন্তু ওই টোকেন দিয়ে মেট্রো না চেপে চলে গেছেন। টোকেন রেখে দিয়েছেন স্নারক হিসাবে। যার জেরেই মেট্রোর ক্ষতি হয়ে গিয়েছে ২১৪০০ টাক্স। আপাতত প্রতি স্টেশনে টোকেন নিয়ে যেমন চলছে কড়া নজরদারি তেমনি স্টেশনে চলছে ঘোষণা যাতে কেউ টোকেন না চুরি করে চলে যান। তবে ঘোষণাই সার। কে শোনে কার কথা, ফাঁক পেলেই স্মারক করতে চেয়ে টোকেন নিয়ে হাপিস যাত্রী।

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published: