কলকাতা

?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

স্মার্টফোন না থাকায় 'মিস' হচ্ছে স্কুল ও টিউশনের ক্লাস, হতাশায় আত্মঘাতী দশম শ্রেণীর পড়ুয়া

স্মার্টফোন না থাকায় 'মিস' হচ্ছে স্কুল ও টিউশনের ক্লাস, হতাশায় আত্মঘাতী দশম শ্রেণীর পড়ুয়া
Representational Image

বৃহস্পতিবার হাওড়ার নিশ্চিন্দার প্রফুল্ল নগরের বাসিন্দা শিবানী সাউয়ের (১৬) ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে নিশ্চিন্দা থানার পুলিশ ।

  • Share this:

#হাওড়া: বছর ঘুরলেই জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা । তার আগেই নিজের জীবন দিয়ে সমাজকে অনেক বড় পরীক্ষার সামনে ফেলে দিল দশম শ্রেণীর ছাত্রী । স্মার্টফোনে না থাকায় দীর্ঘ লকডাউনে স্কুলে এবং গৃহশিক্ষকের অনলাইন ক্লাসে যোগ দিতে পারছিল না বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী শিবানী সাউ (১৬) । পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়বে আশঙ্কায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয় সে ।

বৃহস্পতিবার হাওড়ার নিশ্চিন্দার প্রফুল্ল নগরের বাসিন্দা শিবানী সাউয়ের (১৬) ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে নিশ্চিন্দা থানার পুলিশ ।  প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, শিবানী ও তাঁর পরিবার নিশ্চিন্দা এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া করে থাকে । শিবানীর বাবা , মা ও তার এক ছোট ভাই লকডাউনের কয়েকদিন আগে পারিবারিক জমি সংক্রান্ত সমস্যা মেটাতে বিহারের সমস্তিপুর দেশের বাড়িতে যায় । এরপর লকডাউন চালু হয়ে যাওয়ার তাঁরা এখনও ফিরতে পারেননি । শিবানী তাঁর  এক বছরের বড় দাদার সঙ্গে হাওড়ার ভাড়া বাড়িতে ছিল । দুই ভাই-বোনের সব রকম দেখাশোনা করতেন প্রতিবেশী ও বাড়ির মালিক ।

শিবানীর দাদা বলেন , "বৃহস্পতিবার বিকালে আমি বাইরে বেরিয়েছিলাম । বোন একাই  ছিল ঘরে । সন্ধেবেলা বাড়ি ফিরে দরজা ধাক্কা দিলেও দরজা খুলছিল না ।  তখনই খবর দিই বাড়ির মালিককে । প্রতিবেশীরা অনেক চেষ্টা করে দরজা খুলতে না পেরে ঘরের জানালা ভেঙে ফেলেন । ঘরের ভিতরে গলায় শাড়ির ফাঁস লাগিয়ে জানলার সাথেই ঝুলছিল বোনের দেহ । পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে উদ্ধার করে ওই ছাত্রীর দেহ ।

শিবানীর ভাইয়ের দাবি , কয়েকদিন ধরে বোন তাঁর পড়াশোনা নিয়ে খুব চিন্তায় ছিল ।  বার বার জানাতো স্মার্টফোন না থাকায় সে স্কুলের অনলাইন ক্লাস করতে পারছে না । এমনকি গৃহশিক্ষকরাও অনলাইনে পড়াচ্ছেন, সেটাই করতে পারছে না সে । বছর ঘুরলেই মাধ্যমিক । এই ভাবে চলতে থাকলে সে তার সহপাঠীদের থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়বে । এমনকি পরীক্ষায় ফেল করার আশঙ্কা করছিল ।

ছোট থেকেই মেধাবী ছাত্রী শিবানী ।  বিহারে আটকে পড়া বাবা মা কেও সে বার বার জানিয়েছে তার আক্ষেপের কথা । শিবানীর বাবা মিন্টু বাবু মেয়েকে বলেন ,  খুব  তাড়াতাড়ি মেয়েকে ফোনের ব্যবস্থা করে দেবেন । মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বিহার থেকে গাড়ি ভাড়া করে সকালেই হাওড়াতে ফেরেন । মিন্টু সাউয়ের দাবি , মেয়ে বার বার তাঁর আক্ষেপের কথা জানিয়েছিল ।  আমরাও চেষ্টা চালাচ্ছিলাম মেয়েকে টাকা পাঠানোর । কিন্তু সেটাও সম্ভব হয়নি । পড়াশোনা ভালোবাসা মেধাবী ছাত্রী কাছে দীর্ঘ কয়েকদিন দুঃস্বপ্নের মতো কাটছিল , বলেন শিবানীর এক প্রতিবেশী । তিনি জানান , বিভিন্নসময় দুই ভাই-বোনকে সাহায্যের জন্য ঘরে ঢুকলেই দেখতাম শিবানী পড়াশোনা করছে । ইতিমধ্যেই মৃতদেহ নিয়ে বিহারের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে সাউ পরিবার ।

Debasish Chakraborty

Published by: Shubhagata Dey
First published: June 20, 2020, 6:11 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर