G7 বৈঠকে চিনের বিরুদ্ধে দাদাগিরির অভিযোগ জাপানের

পূর্ব চিন সাগরে ড্রাগনের শক্তি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে সোচ্চার জাপান

পূর্ব ও দক্ষিণ চিন সাগরের অবস্থা পরিবর্তনে চিনের একতরফা প্রচেষ্টা ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জি-৭ এর টেলিকনফারেন্সে অংশ নিয়ে এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

  • Share this:

    #টোকিও: সময় বদলায়, পরিস্থিতি বদলায়, ক্ষমতা বদলায়। কথায় বলে আজ যে রাজা, কাল সে ফকির। চিন বনাম জাপান সম্পর্ক নিয়ে এমন শব্দবন্ধ ব্যবহার খুব একটা অতিরঞ্জিত করার মতো ব্যাপার নয়। একটা সময় ছিল দুই কোরিয়া সহ চিনের পূর্ব প্রান্তে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ছিল জাপানি সেনার। চিনে কম অত্যাচার করেনি জাপান। নানকিং শহরে কয়েক সপ্তাহ ধরে অসংখ্য চিনা নাগরিককে খুন করেছিল জাপানের ইম্পেরিয়াল আর্মি। দুই লাখ বা তারও বেশি সংখ্যা বলে দাবি করে চিন। পূর্ব এশিয়ার দুটি দেশের সম্পর্কের উন্নতি ক্ষেত্রে বাধা হয়ে এসেছে এই ইতিহাস।

    আজ পরিস্থিতি ভিন্ন। জাপানকে সরিয়ে আর্থিক দিক থেকে এগিয়ে গিয়েছে চিন। বিশ্বের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ আর্থিক শক্তি চিন। তাই সুযোগ পেলেই জাপানকে চাপে রাখার চেষ্টা করে তাঁরা। সম্প্রতি জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা পূর্ব ও দক্ষিণ চিন সাগরের অবস্থা পরিবর্তনে চিনের একতরফা প্রচেষ্টা ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জি-৭ এর টেলিকনফারেন্সে অংশ নিয়ে এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। জাপান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

    এমনিতেই সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দুই দেশের বিবাদ অনেক দিনের। চিন নিজের বিমান বাহিনী এই জায়গায় পাঠিয়ে শক্তি প্রদর্শন করলে জাপানও নিজেদের বিমান বাহিনী নিয়ে হানা দেয় একই জায়গায়। এছাড়া সাগরে দুই দেশের জাহাজ বেশ কয়েকবার মুখোমুখি হয়েছে। জাপানের অভিযোগ নিজেদের এলাকার বাইরেও বাড়তি এলাকা দাবি করে আসা পুরনো অভ্যাস চিনের। তাইওয়ান, মালয়েশিয়ার মত দেশকে চমকে ভয় দেখালেও জাপানকে নিয়ে কিছুটা সতর্ক থাকে চিন।

    যদিও চরম পরিস্থিতি তৈরি হয়নি এতদিন। কিন্তু জাপান জানিয়েছে ভবিষ্যতে চিন শক্তি প্রদর্শন করলে তাঁরাও জবাব দিতে জানে। গত শুক্রবার রাত ১১টার টেলিকনফারেন্সের আয়োজন করা হয়। জানা গেছে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘির এটি প্রথম জি-৭ বৈঠক।

    করোনা ভাইরাস মহামারির ব্যাপারে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত বছরের সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জনগণের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তিনি। পাশাপাশি টোকিও অলিম্পিক নির্বিঘ্নে আয়োজন করবে জাপান কথা দিয়েছেন তিনি।

    Published by:Rohan Chowdhury
    First published: