Home /News /explained /
Climate Resilient Crop In India: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অভিনব উদ্যোগ, জলবায়ু স্থিতিস্থাপক ফসল কেন এদেশে গুরুত্বপূর্ণ?

Climate Resilient Crop In India: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অভিনব উদ্যোগ, জলবায়ু স্থিতিস্থাপক ফসল কেন এদেশে গুরুত্বপূর্ণ?

Climate Resilient Crop: কৃষকদের ফসলভিত্তিক আয়ের ব্যবস্থা থেকে বের করে আনার প্রচেষ্টা চলছে এবং তাদের অন্যান্য কৃষিকাজের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।

  • Share this:

#কলকাতা: জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্ব জুড়ে উদ্বেগের কারণ। শুধু সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের (Climate Change) প্রকৃত প্রভাব বোঝা যাবে, এমন একটি প্রধান ক্ষেত্র হল কৃষি। কারণ, শুষ্ক আবহাওয়া ফসলের বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি কৃষিকাজে প্রভাব ফেলতে পারে, তাই এর মোকাবিলার জন্য ভারতের বিজ্ঞানীরা জলবায়ু স্থিতিস্থাপক (Climate Resilient Crop) ফসলের জাত (Crop Varieties) নিয়ে কাজ করছেন।

জলবায়ু স্থিতিস্থাপক মানে জলবায়ু যে রকমই হোক না কেন, ফসল উৎপাদনে তার প্রভাব পড়ে না। সম্প্রতি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) বিশেষ বৈশিষ্ট্য-সহ এই ধরনের জাতগুলির প্রকাশ করেছেন। জলবায়ু স্থিতিস্থাপক প্রযুক্তি গ্রহণের জন্য জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকরা। কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে আয়োজিত ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নতুন ফসলের জাত দেশের জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে।

ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "কৃষকদের নতুন শস্য, বীজ এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সজাগ করতে হবে। আমাদের প্রচেষ্টা হবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে দেশের কৃষি ক্ষেত্রকে বাঁচানো। এতে সমৃদ্ধ হবেন কৃষকরা, শক্তিশালী হবে দেশ।" প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নতুন রোগ, কীট এবং মহামারী ছড়িয়ে পড়ছে। এতে মানবজীবন এবং শস্যের প্রভূত ক্ষতি হচ্ছে। তাই বিজ্ঞান, সমাজ এবং সরকার এক হয়ে কাজ করলে সমস্যার সমাধান হবে। নরেন্দ্র মোদি এই প্রসঙ্গে আরও বলেন যে, কৃষককে ফসলভিত্তিক আয়ের ব্যবস্থা থেকে বের করে আনার প্রচেষ্টা চলছে এবং তাদের অন্যান্য কৃষিকাজের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর (Narendra Singh Tomar) বলেন, দেশের ৮৬ শতাংশ কৃষক ক্ষুদ্র কৃষক। প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের আয় বৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে কৃষকদের অন্যের সহানুভূতির উপর নির্ভরশীল হওয়ার দরকার নেই। বরং তাদের নিজেদের শক্তিতেই বেড়ে উঠতে হবে। বীজ থেকে শুরু করে বাজার পর্যন্ত, কৃষকদের আয় দ্বিগুণ নিশ্চিত করতে এবং কৃষিখাতে ভারতকে স্বাবলম্বী করতে তাদের অবদান বাড়াতে অনেক কাজ করা হচ্ছে।

নতুন বৈশিষ্ট্য-সহ ফসলের জাতগুলি কী কী ?

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (Prime Minister’s Office) বলেছে যে জলবায়ু স্থিতিস্থাপক এবং উচ্চ পুষ্টিগুন (Nutrition) সরবরাহের জন্য ৩৫টি ফসলের জাত আবিষ্কার করেছে ভারতীয় কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (Indian Council of Agricultural Research)। মূলত জলবায়ু পরিবর্তন এবং অপুষ্টি (Malnutrition), এই দু'টির মোকাবিলা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে খরা সহ্য করতে পারে এমন ছোলা (Chickpea), মরা-ধ্বসা রোগ প্রতিরোধী অড়হর ডাল (Pigeonpea), সয়াবিন (Soybean)। এছাড়াও, গম, বাজরা ভুট্টা, ছোলা কুইনো, শিম চালেরও নানা ধরনের বীজ তৈরি করা হয়েছে, যেগুলি জৈব সুরক্ষিত।

ভারতীয় কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (Indian Agricultural Research Institute) আবিষ্কার করা বাসমতী ধানের (Basmati Rice) দু'টি জাতেরও প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই জাতগুলি জেনেটিকালি মডিফাইড (GM) নয় এমন সহনশীল ধানের জাত, যা দিয়ে সরাসরি বীজতলা করা যায়। এই ধানের চাষ করলে জল এবং মজুর কম লাগে।। এছাড়াও, বিশেষ বৈশিষ্ট্যযুক্ত সয়াবিন, জোয়ার এবং বেবি কর্নও আবিষ্কার করা হয়েছে।

জলবায়ু স্থিতিস্থাপক ফসল কেন প্রয়োজন?

ন্যাশনাল ইনোভেশন ইন ক্লাইমেট রেজিলেয়েন্ট এগ্রিকালচার (NICRA) অনুসারে, জলবায়ু পরিবর্তন ভারতের জন্য উদ্বেগের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। এছাড়া ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষির উপর নির্ভরশীল ও প্রচুর জনসংখ্যা, এই দুইয়ের বিবেচনায় ভারতের মতো দেশগুলি বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। মনে করা হচ্ছে যে জলবায়ু পরিবর্তন ভারতীয় কৃষিতে উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। উষ্ণতার মাত্রা এবং বিতরণের উপর নির্ভর করে ফসলের উৎপাদন ৪.৫ শতাংশ থেকে ৯ শতাংশ কমতে পারে।

ভারতের মোট জিডিপির (GDP) প্রায় ১৬-২০ শতাংশ কৃষির উপরে নির্ভরশীল। NICRA বলছে, উৎপাদনের হারে ৪.৫ শতাংশ থেকে ৯ শতাংশ নেতিবাচক প্রভাব মানে জলবায়ু পরিবর্তনের খরচ প্রতি বছর জিডিপির প্রায় ১.৫ শতাংশ হতে পারে। কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গবেষণা এবং উন্নয়ন হল উচ্চ অগ্রাধিকার গবেষণার একটি ক্ষেত্র। চলতি বছরের জুন মাসে অর্থমন্ত্রক (Finance Ministry) উল্লেখ করেছিল যে আগে গবেষণার ফোকাস ছিল উচ্চ ফলনশীল ফসলের জাতের আবিষ্কারের উপরে, এখন জলবায়ু স্থিতিস্থাপক ফসলের জাতগুলিতে কাজ হচ্ছে। এই জাতগুলি পুষ্টিগুণে ভরপুর। অর্থমন্ত্রক বলেছিল যে রোগ, কীটপতঙ্গ, খরা, লবণাক্ততা এবং বন্যার জন্য সহনশীল জাতের ফসলও আবিষ্কারের কাজ চলছে। এই ফসলগুলি চাষ করা সহজ, আর যন্ত্রের সাহায্যে যাতে কাটা যায় সেটা মাথায় রাখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন- কোভিড ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ-এর ক্ষেত্রে কি মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ পদ্ধতি নিরাপদ?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই বছর স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে বলেছিলেন যে, রেশনে যে চাল দেওয়া হয় তাতে যাতে পুষ্টিগুণ থাকে তা দেখা হবে। আর এটা করা হবে ২০২৪ সালের মধ্যেই। পুষ্টির অভাবের সমস্যা মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ নেবে কেন্দ্রীয় সরকার। ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ প্রয়োজনীয় মাত্রায় না থাকার কারণেই অপুষ্টির শিকার হতে হয় বেশিরভাগ ভারতীয়দের। খাবারে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির ঘনত্ব প্রয়োজনীয় স্তরের চেয়ে অনেক কম বলে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রকের রিপোর্টে বলা হয়েছে যে নতুন জৈব-সুরক্ষিত ফসলের জাতগুলি প্রোটিন (Protein), আয়রন (Iron), জিঙ্ক (Zink), ভিটামিন-এ-র (Vitamin A) মতো পুষ্টিগুণে ভরপুর।

কী ভাবে নতুন এই ফসলের জাতগুলি পুষ্টির অভাব মেটাবে?

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, ৩৫টি ফসলের জাতের মধ্যে এমনও রয়েছে যেগুলির কয়েকটি ফসলে পাওয়া পুষ্টিবিরোধী বিষয়গুলির মোকাবিলা করে, যা মানুষের ও পশুর স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। পিএমও বলেছে যে এই ধরনের পুষ্টিবিরোধী বিষয়গুলির মোকাবিলা করার জন্য উন্নত ফসলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল 'Pusa Double Zero Mustard 33'। এই সরষের তেলে রয়েছে ইরুসিক অ্যাসিড। ইরুসিক অ্যাসিড হল রেপসিড এবং সরষের তেলের মধ্যে পাওয়া একটি মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড।

ভোজ্য তেলে এই অ্যাসিডের উচ্চ ঘনত্ব হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে এবং রক্তে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করে। তাছাড়া, গ্লুকোসিনোলেটের বেশি ব্যবহার পশুদের জন্য ক্ষতিকর। খাদ্যে গ্লুকোসিনোলেটের বেশি উপস্থিতির কারণে ওজন বাড়তে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে তা থাকবে না। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কুনিটজ ট্রিপসিন ইনহিবিটারের দু'টি পুষ্টি-বিরোধী উপাদান থেকে মুক্ত একটি সয়াবিনের জাতও চালু করেছেন। যা মানুষের বৃদ্ধির উপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে না, বদহজম থেকে রক্ষা করবে দেশবাসীকে।

Published by:Suman Majumder
First published:

Tags: Crop, Narendra Modi

পরবর্তী খবর