• Home
  • »
  • News
  • »
  • explained
  • »
  • LAC: ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধের মধ্যেই চিন নতুন সীমান্ত আইন আনল কেন?

LAC: ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধের মধ্যেই চিন নতুন সীমান্ত আইন আনল কেন?

ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধের মধ্যেই চিন নতুন সীমান্ত আইন আনল কেন?

ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধের মধ্যেই চিন নতুন সীমান্ত আইন আনল কেন?

EXPLAINED| LAC : নতুন আইনটির লক্ষ্য আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে আইনি পর্যায়ে জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং সীমান্ত-সম্পর্কিত বিষয়গুলি পরিচালনা করা।

  • Share this:

#কলকাতা: চিন প্রথমবার দেশের স্থল সীমান্ত অঞ্চলগুলির সুরক্ষা ও শাসনের বিষয়ে একটি সীমান্ত আইন (New Border Law) এনেছে। বেজিংয়ের এই পদক্ষেপের সময়টি তাৎপর্যপূর্ণ।

কারণ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (LAC) নিয়ে ভারতের সঙ্গে তাদের বিবাদ জারি রয়েছে। চিনা মিডিয়া বলেছে যে নতুন আইনটির লক্ষ্য আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে আইনি পর্যায়ে জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং সীমান্ত-সম্পর্কিত বিষয়গুলি পরিচালনা করা। ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এই নয়া আইন লাগু হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে নয়া আইনের ফলে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (People’s Liberation Army) আরও শক্তিশালী হল। এতে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারবে তারা।

নতুন আইনে কী বলা হয়েছে ?

জার্মানির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ডিডব্লিউ জানিয়েছে, আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া নতুন আইনের বলে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA) দেশের স্থল সীমান্তে যে কোনও আক্রমণ, দখল, অনুপ্রবেশ, উসকানির মোকাবিলা করতে পারবে। প্রয়োজন দেখা দিলে সীমান্ত বন্ধও পর্যন্ত করে দিতে পারবে তারা।

চিনা কমিউনিস্ট পার্টি-নিয়ন্ত্রিত সংবাদপত্র চায়না ডেইলি বলেছে যে আইনে বলা হয়েছে, সীমান্ত প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে সহায়তা করার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় জনসেবা ও পরিকাঠামোর উন্নতি, জনগণের জীবন ও সেখানে কর্মসংস্থানকে উৎসাহিত ও সমর্থন করার জন্য এবং সীমান্ত প্রতিরক্ষার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে রাষ্ট্র।

পরিকাঠামো ক্ষেত্রে ভারী বিনিয়োগের মাধ্যমে বিতর্কিত সীমান্ত এলাকাগুলির নিষ্পত্তি করতে চায় চিন, এমন প্রেক্ষাপটেই নতুন আইনটিকে দেখা যেতে পারে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে জনসংযোগ ও টহল চালানোর সুবিধার্থে ঠিক এই ভাবেই সীমান্তে গ্রামগুলি তৈরি করেছে চিন। এখানে সাধারণ নাগরিকরাই প্রথম লাইন অফ ডিফেন্স। নতুন আইনে সীমান্ত প্রতিরক্ষা এবং সীমান্ত এলাকায় সামাজিক, অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যে সমন্বয় আরও উন্নত হবে বলে দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে।

জাপানি দৈনিক নিক্কেই বলেছে যে আইনে আরও বলা হয়েছে যে নাগরিক এবং সংস্থাগুলি সীমান্ত টহল এবং নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে পুরোপুরি সমর্থন করবে। প্রয়োজনে পিপলস আর্মড পুলিশ ফোর্স (People’s Armed Police Force) এবং পাবলিক সিকিউরিটি ব্যুরোকে (Public Security Bureau) সেনার সঙ্গে সীমান্ত পাহারা দিতে মোতায়েন করা যেতে পারে।

এই আইনে ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ?

চিনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ট্যাবলয়েড গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে যে আঞ্চলিক উত্তেজনাগুলির মধ্যে ভারতের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে নতুন আইন আনার দিকে ঝুঁকেছে বেজিং। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে আইনটির একটি বিস্তৃত পরিসর রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সীমান্ত বিষয়ক ও আঞ্চলিক সীমান্তের কাজে নেতৃত্বের ব্যবস্থা গ্রহণ, সরকারি দায়িত্ব ও সামরিক কাজ, স্থল সীমানার ছবি ও জরিপ, স্থল সীমানা ও সীমান্তগুলির প্রতিরক্ষা ও ব্যবস্থাপনা এবং স্থল সীমান্ত বিষয়ক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।

চিনের সঙ্গে ১৪টি দেশের ২২ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত স্থল সীমান্ত রয়েছে। যার বেশিরভাগ নিয়েই বিরোধ রয়েছে। চিনের সঙ্গে ভারতের ৩ হাজার ৪৮৮ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে, যা উত্তর-পূর্বে অরুণাচল প্রদেশ (Arunachal Pradesh) থেকে উত্তরে জম্মু ও কাশ্মীর (Jammu & Kashmir) পর্যন্ত বিস্তৃত। এই সীমান্ত সম্পূর্ণরূপে চিহ্নিত করা হয়নি। এলএসি (LAC) স্পষ্ট ও নিশ্চিত করার কাজ চলছে। এলএসি সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকার কারণেই মাঝেমাঝেই চিনা ও ভারতীয় সেনাদের মধ্যে বচসা, কখনও কখনও ঠেলাঠেলি ও সংঘর্ষ হয়।

চিনা মিডিয়া বলেছে যে নতুন সীমান্ত আইনে বলা হয়েছে যে বেজিং সমতা, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং বন্ধুত্বপূর্ণ পরামর্শের নীতি অনুসরণ করবে। প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে বিরোধ এবং দীর্ঘস্থায়ী সীমান্ত সমস্যাগুলি সঠিকভাবে সমাধানের জন্য আলোচনা করবে।

নতুন স্থল সীমান্ত আইনটি আন্তঃসীমান্ত নদী এবং হ্রদের ক্ষেত্রেও কার্যকরী। তাই এটা বলা যেতে পারে যে ভারতের কথা মাথায় রেখেই নতুন আইনটি আনা হয়েছে। ভারতের ব্রহ্মপুত্র নদীর উৎস চিনের তিব্বত সায়ত্তশাসিত অঞ্চল থেকে। ভারতের কাছে এই নদীর গুরুত্ব আছে। তাই এমন আশঙ্কা রয়েছে যেখানে সংঘাতের সময় চিন এই নদীর জল প্রভাবে কোনও ব্যাঘাত করতে পারে। আর সেটা করতে পারে এই নতুন আইনের বলেই।

ভারত-চিন সীমান্ত বিরোধের অবস্থা কী?

গত বছরের মে মাসে পূর্ব লাদাখে (Eastern Ladakh) সংঘর্ষের পরে উত্তেজনা প্রশমিত করতে দুই দেশ সামরিক-স্তরের বহুবার আলোচনায় বসেছে। যদিও গালওয়ান উপত্যকায় (Galwan Valley) সমস্যা জারি রয়েছে। এখানেই ভারতীয় এবং চিনা সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। প্যাংগং লেক এবং গোগরা, পূর্ব লাদাখের হট স্প্রিংস এবং ডেপসাং সমভূমিতে অচলাবস্থা জারি রয়েছে। অক্টোবরের শুরুতে ১৩ দফার কোর কমান্ডার স্তরের বৈঠকে মেলেনি কোনও সমাধানসূত্র।

আলোচনা একেবারেই ব্যর্থ হয়। পূর্ব লাদাখে এখনও উভয় সেনাবাহিনীর ৫০ হাজারের বেশি করে সেনা মোতায়েন রয়েছে। অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং ও উত্তরাখণ্ডে চিনা সেনাদের নতুন করে অনুপ্রবেশের খবর পাওয়া গিয়েছে। ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। তবে ভারতীয় সেনার তরফে জানানো হয়েছে যে সীমান্তে চিনা সেনা গতিবিধি বাড়িয়েছে। পাশাপাশি সেখানে রিজার্ভ ফোর্সও মোতায়েন করেছে পিএলএ।

অক্টোবরের শুরুতে দিল্লিতে কথা বলার সময় সেনাপ্রধান এমএম নারাভানে (Army chief MM Naravane) বলেছিলেন যে চিনের ক্রমাগত সেনার সংখ্যা বাড়ানো উদ্বেগের বিষয়। তিনি উল্লেখ করেন যে যদি তারা (চিনা সেনা) সেখানে থাকে, আমরাও সেখানে থাকব।

সেনাপ্রধান বলেন, "উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় সেনা মোতায়েন করেছে চিন, সংখ্যা বাড়িয়েছে, অবশ্যই তা উদ্বেগের বিষয়। পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, যে কোনও ধরনের থ্রেটের মোকাবিলা করার জন্য।" ইতিমধ্য়েই অরুণাচল প্রদেশে সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টারের সংখ্যা বাড়িয়েছে ভারতীয় সেনা। তাওয়াং সীমান্তে আনা হয়েছে এম-৭৭৭ আলট্রা লাইট হাউৎজার (M-777 Ultra-Light Howitzers), এল-৭০ বিমানবিধ্বংসী বন্দুক ও বোফর্স (Bofors) কামান।

এছাড়াও অসম সীমান্তে পিনাকা (Pinaka) ও স্মার্চ মাল্টিপল রকেট লঞ্চার সিস্টেম (Smerch Multiple Rocket Launcher System or MRLS) মোতায়েন করা হয়েছে। পিনাকা রকেট আর্টিলারি সিস্টেম। ১৯৯৬ সালে কার্গিল যুদ্ধে (Cargil War) এই রকেট লঞ্চার কাজে লাগানো হয়েছিল। ৪৪ সেকেন্ডে একসঙ্গে ৭২টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে সক্ষম পিনাকা।

ভারত ও ভুটান হল দু'টি দেশ, যাদের সঙ্গে চিন এখনও সীমান্ত চুক্তি চূড়ান্ত করতে পারেনি। অন্য ১২টি প্রতিবেশীর সঙ্গে তারা সীমান্ত বিরোধের সমাধান করেছে। যদিও ১৪ অক্টোবর চিন এবং ভুটান একটি সমঝোতায় স্বাক্ষর করেছে, যা সীমানা বিরোধ নিয়ে আলোচনার গতি বাড়াতে রোডম্যাপ তৈরি করবে।

Published by:Piya Banerjee
First published: