• Home
  • »
  • News
  • »
  • explained
  • »
  • Diagnostic Tests: কোভিড, ডেঙ্গু, জিকা- রোগ নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা কিন্তু আলাদা, জেনে নিন

Diagnostic Tests: কোভিড, ডেঙ্গু, জিকা- রোগ নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা কিন্তু আলাদা, জেনে নিন

কোন কোন পরীক্ষা করা হয় এবং সেগুলি কী ভাবে কাজ করে, তা বোঝার লক্ষ্যে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছে News18.com।

কোন কোন পরীক্ষা করা হয় এবং সেগুলি কী ভাবে কাজ করে, তা বোঝার লক্ষ্যে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছে News18.com।

কোন কোন পরীক্ষা করা হয় এবং সেগুলি কী ভাবে কাজ করে, তা বোঝার লক্ষ্যে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছে News18.com।

  • Share this:

#কলকাতা: আরটি-পিসিআর (RT-PCR) টেস্ট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এইবার আর কোভিড-১৯ (Covid-19) সনাক্তকরণের জন্য নয়?

করোনা অতিমারীর প্রাদুর্ভাবের পর থেকে আরটি-পিসিআর টেস্ট সম্পর্কে ভারতীয়রা পরিচিত। কিন্তু, অনেকই হয় তো জানে না যে রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন-পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন পরীক্ষাটি জিকা (Zika), ডেঙ্গু (Dengue) সহ অন্যান্য বিভিন্ন অসুস্থতা সনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।

কোভিড সংক্রমণের শুরুর পর থেকে এই পরীক্ষাগুলি করার জন্য বেশ কয়েকটি নতুন ল্যাবরেটরি (Laboratories) খোলার ফলে পরীক্ষার খরচ এবং রিপোর্ট তৈরির সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে।

আরও পড়ুন- ইলেকট্রিক স্কুটার নেবেন ভাবছেন? দাঁড়ান, EV ব্যাটারি সম্পর্কে জানা আছে তো?

বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে এক সময়ে দেশে প্রায় ২০০টি ল্যাবরেটরিতে আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করা হত। সংখ্যাটি এখন ৩ হাজার ছাড়িয়েছে। কোভিড-১৯, জিকা, ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া (Chikungunya) সনাক্তকরণের জন্য কোন কোন পরীক্ষা করা হয় এবং সেগুলি কী ভাবে কাজ করে, তা বোঝার লক্ষ্যে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছে News18.com।

RT-PCR টেস্ট:

মলিকুলার টেস্টিং বা RT-PCR প্রযুক্তির অধীনে প্রথমে রক্তের বা নাক বা গলার সোয়াব (Swabs) থেকে ভাইরাস বের করা হয়। ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সকে (Genome Sequence) তখন বাইরের (শরীরের) সেটিংয়ে মাল্টিপ্লাই করার অনুমতি দেওয়া হয়।

এই প্রযুক্তিটি একটি ভালো মানের হিসাবে বিবেচিত হয় কারণ এটি শরীরে অল্প পরিমাণে থাকা ভাইরাসও সনাক্ত করে। রিপোর্ট ২-৪ ঘন্টার মধ্যে তৈরি করা হয়। প্যাথোজেন (Pathogen) প্রবেশের প্রথম দুই থেকে তিনদিনে ভাইরাসের সংখ্যা কম হয়। তাই কোনও উপসর্গ দেখা দেবে না।

যদিও এই ভাইরাস বা প্যাথোজেনগুলি প্রতি ঘন্টায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে, তাই কোভিডের উপসর্গ দেখা যেতে সাধারণত পাঁচ থেকে সাতদিনের প্রয়োজন হয়।

এখনও পর্যন্ত বেশিরভাগ ভাইরাস সনাক্ত করার সেরা প্রযুক্তি হল আরটি-পিসিআর (RT-PCR) টেস্ট। যা মলিকুলার টেস্টিং নামেও পরিচিত। এই পরীক্ষা প্রকৃতিগতভাবে নিশ্চিতকরণ হিসাবে বিবেচিত হয় এবং সাধারণত ২-৪ ঘন্টার কম সময়ে রিপোর্ট দেওয়া যায়।

যদিও এই পরীক্ষাটি জিকার মতো অন্যান্য রোগ সনাক্তকরণের জন্য নির্ধারিত হয়েছে। এই পরীক্ষার গুরুত্ব গত এক বছরে যথেষ্ট বেড়েছে বলে জানিয়েছেন নিউবার্গ ডায়াগনস্টিকস-র ল্যাব সার্ভিসের প্রধান অমৃতা সিং (Amrita Singh)।

যদিও TrueNat এবং CBNAAT পরীক্ষাগুলিও একই রকম প্রযুক্তি ব্যবহার করে করা হয়। এই টেস্টের ফলাফল পেতে দেড় ঘন্টা পর্যন্ত সময় লাগে। কিন্তু মেশিন একবারে মাত্র দু'টি নমুনা লোড করতে পারে, যেখানে RT-PCR টেস্টে মেশিনটি এক রাউন্ডে ৪০ থেকে ৪০০ নমুনা পরীক্ষা করে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের (Ministry of Health and Family Welfare) নির্দেশিকা অনুসারে, RT PCR চিকুনগুনিয়ার প্রাথমিক সনাক্তকরণের জন্যও ব্যবহৃত হয়।

পুণে-ভিত্তিক মলিকুলার ডায়াগনস্টিক ফার্ম মাইল্যাব ডিসকভারি সলিউশন-এর চিকিৎসা বিষয়ক ডিরেক্টর গৌতম ওয়াংখেড়ের মতে, “কোভিড-১৯ যেহেতু সংক্রামক এবং প্রাণঘাতী, তাই এর প্রাথমিক সনাক্তকরণ গুরুত্বপূর্ণ। তাই, কোভিড-১৯ সনাক্ত করার জন্য RT-PCR হল সবচেয়ে পছন্দের পদ্ধতি।

জিকা ভাইরাস সনাক্তকরণের জন্যও RT-PCR একটি পছন্দের পদ্ধতি। যদিও জিকার সেরোলজিক্যাল রোগ নির্ণয় (Serological Diagnosis) করা কঠিন, পিসিআর-ভিত্তিক নিউক্লিক অ্যাসিড সনাক্তকরণ একটি প্রস্তাবিত পদ্ধতি। এমনকি অ্যান্টিবডি পরীক্ষাও নির্ভরযোগ্য ফলাফল দেয় না কারণ তারা ডেঙ্গুর মতো একই পরিবারের অন্যান্য ভাইরাসের সঙ্গে ক্রস-রিয়্যাকশন করে।

আগে খরচের সীমাবদ্ধতা ছিল, কারণ পরীক্ষাগুলি ব্যয়বহুল ছিল এবং অনেক ল্যাব এই পরীক্ষাগুলি করছিল না। যাই হোক, কোভিডের কারণে আমাদের এখন ভারতে ৩ হাজারের বেশি ল্যাব রয়েছে, আগে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ২০০।"

র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা (RAT):

র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে (আরএটি), মানবসৃষ্ট বা সিন্থেটিক অ্যান্টিবডি ব্যবহার করে মানবদেহের টিস্যু পরীক্ষা করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, কোভিড-১৯ সিন্থেটিক অ্যান্টিবডি নমুনার উপর ব্যবহার করা হবে নমুনায় অনুরূপ ভাইরাস আছে কি না তা জানতে।

যাই হোক, রিপোর্ট পজিটিভ হওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট ন্যূনতম সংখ্যক ভাইরাসের প্রয়োজন, তাই কয়েকটি ক্ষেত্রে ভাইরাস না থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কোভিড-সহ বিভিন্ন রোগের জন্য সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী, নেগেটিভ র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষার জন্য রোগীর আরটি-পিসিআর করতে হবে সংক্রমণ হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য।

অন্য দিকে, যেখানে র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষার রিপোর্ট আসবে, সেটা ধরে নিতে হবে পজিটিভই। মানে রোগী সত্যিই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। র‍্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা দ্রুত হয় এবং এক ঘন্টার মধ্যে ফলাফল দেওয়া যায়। কখনও কখনও ১৫ মিনিটের মধ্যেও রিপোর্ট দিয়ে দেওয়া যায়।

ডেঙ্গু সনাক্তকরণে এলিসা (Antibody ELISA) পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি হল এনজাইম-সংযুক্ত ইমিউনোসর্বেন্ট অ্যাস, যেখানে এই পরীক্ষাটি রক্তের নমুনায় অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডি সনাক্ত করে। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে এনএসওয়ান (NS1) অ্যান্টিজেন এলিসা (ELISA) হল পছন্দের পদ্ধতি। যার অধীনে ডেঙ্গু ভাইরাসের নন-স্ট্রাকচারাল প্রোটিন এনএসওয়ান (NS1) সনাক্ত করা হয়। এই প্রোটিন সংক্রমণের সময় রক্তে নিঃসৃত হয়।

আরও পড়ুন- ভ্যাকসিনের ডবল ডোজ নিয়ে ঘরে থাকলেও করোনা হওয়ার আশঙ্কা, চিন্তায় বিশেষজ্ঞরা

এখন তো এমন কিট বাজারে কিনতে পাওয়া যাচ্ছে যা ব্যবহার করে বাড়ি বসেই র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট করা যাবে। এই র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট তাঁরাই ব্যবহার করতে পারবেন যাঁদের করোনার উপসর্গ রয়েছে অথবা যে সকল ব্যক্তি পজিটিভ আসা ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসেছেন। তবে যথেচ্ছ ব্যবহার না করতেই বলা হয়েছে।

অ্যান্টিবডি টেস্ট (Antibody Tests):

যে কোনও প্যাথোজেন মানবদেহে প্রবেশ করলেই অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। দেহের প্রতিরোধ শক্তি বা ইমিউন সিস্টেমের অংশ হচ্ছে অ্যান্টিবডি। ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে অ্যান্টিবডি। এরা প্রোটিন দিয়ে তৈরি। ভাইরাস শরীরে হামলা চালালে এরা ঝাঁপিয়ে পড়ে।

রক্ত পরীক্ষায় এই অ্যান্টিবডিগুলির সনাক্তকরণ সাম্প্রতিক বা অতীতের সংক্রমণ দেখায়। যাই হোক, এই অ্যান্টিবডিগুলি সংক্রমণ হলেই শরীর দ্বারা অবিলম্বে তৈরি হয় না। তাই, সাধারণত, এই পরীক্ষাগুলি সনাক্তকরণের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয় না। কোভিড-১৯ বা ডেঙ্গুর মতো কিছু রোগে, যেখানে রোগের অগ্রগতি মারাত্মক প্রমাণিত হতে পারে, সেখানে অ্যান্টিবডি পরীক্ষার কোনও মূল্য নেই।

অ্যান্টিবডি পরীক্ষা রোগ নির্ণয়ের উদ্দেশ্যে জনপ্রিয় বা নির্ধারিত নয়, কিন্তু নজরদারির উদ্দেশ্যে জনপ্রিয়। এটি রোগ নির্ণয়ের উদ্দেশ্যে শেষ বিকল্প হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

অ্যান্টিবডি এলিসা পরীক্ষা ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া সনাক্ত করে। কিন্তু রোগ নির্ণয়ের জন্য পছন্দ করা হয় না। কারণ অসুস্থতার ৫-৭ দিন পরে নির্ভরযোগ্য ফলাফল দেখায়। এই পরীক্ষাগুলি শুধুমাত্র সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া বা টিকা নেওয়ার পরেই কাজে আসে।

First published: