বিনোদন

?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

দেবদাসে চন্দ্রমুখী রাইমা!‌ বলছেন, ‘‌ঋতুদা থাকলে আজ কোথায় পৌঁছে যেতাম’‌

দেবদাসে চন্দ্রমুখী রাইমা!‌ বলছেন, ‘‌ঋতুদা থাকলে আজ কোথায় পৌঁছে যেতাম’‌

অভিনয় পেয়েছেন বংশ পরম্পরায়। তবে নিজের জমি তৈরি করেছেন মেধা দিয়ে। বলিউড, টলিউডের মধ্যে বাছাই নয়। তিনি ভাল ছবি করতে চান। তিনি রাইমা সেন। সম্প্রতি 'ফরবিডেন লভ'-এ কাজ করলেন তিনি। অভিনয়, কাজ, নেপটিজম এই সব নিয়ে নিউজ 18 বাংলার সঙ্গে আড্ডা দিলেন রাইমা।

  • Share this:

প্রশ্ন- লকডাউন কেমন কাটালেন? ‌ • মোটের ওপর ভালই কেটেছে গৃহবন্দি জীবন। নিজেকে সময় দিয়েছি। অনেক এক্সারসাইজ করেছি। সিনেমা দেখেছি। বাড়ির সকলের সঙ্গে অনেক অনেক সময় কাটিয়েছি। তবে অগাস্ট মাস থেকে শ্যুটিং করছি। বিরসার সিরিজ 'ব্ল্যাক উইন্ডোজ'-এর শ্যুট চলছে।

প্রশ্ন- বেশ জমিয়ে শরীরচর্চা করেছেন। তাহলে আবির ও পরমব্রত, যে সবসময় শরীরচর্চা নিয়ে আপনার পিছনে লাগেন, সেটা আর করতে পারবে না বলছেন?

• এখন ওইটা নিয়ে আর আমাকে খ্যাপানো যাবে না। আর পরম তো আমায় নিজেই বললো 'মাই গড ইউ লস্ট সো মাচ ওয়েট।' সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বায়োপিকে আমি একটা চরিত্র করছি। পরম পরিচালক। এই ছবিটার জন্য কলকাতায় এলাম। আমাকে দেখে পরম অবাক হয়ে গেল। কিন্তু এখন আবার পর পর শ্যুট করছি। তাই শরীরচর্চা আবার কমে গিয়েছে। বিরসার প্রজেক্ট, 'হ্যালো থ্রি', তারপর 'দেবদাস'।

প্রশ্ন- পর পর হাতে প্রচুর কাজ। এই কয়েকদিন আগে 'ফরবিডেন লভ'-এ কাজ করলেন। কেমন ছিল অভিজ্ঞতা?

• আপনি তো জানেন এটা একটা শর্ট ফিল্ম। তাই ফরম্যাটটা আলাদা। মহেশ মঞ্জেরকরের সঙ্গে আমার বোন কাজ করেছে। মাও কাজ করেছেন। তবে আমি আগে কখনো করিনি। মহেশ একদিন হট করে ফোন করেই কাজের প্রস্তাব দেন। আমি ভীষণ খুশি হয়ে যাই, প্রস্তাবটা পেয়ে। ওঁ কিন্তু ভাল পরিচালকের পাশাপাশি খুব ভাল অভিনেতা। এই ছবিতেও মহেশ অভিনয় করেছেন। ওঁ আমার স্বামীর পার্টটা করলেন। শর্ট ফিল্ম, কম দিনের কাজ। তাও আমি মহেশের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। ওঁ একজন ভীষণ বুদ্ধিদীপ্ত মানুষ। অসাধারণ অভিনেতা। আর মহেশ অভিনেতাদের খুব ভাল বুঝতে পারেন।

প্রশ্ন- পরিচালক অভিনেতার আদান-প্রদান বেশ ভাল হয়েছে তাহলে?

• একদমই তাই। মহেশ একজন ভাল অভিনেতা। তাই পরিচালনা করার সময় ওঁ অভিনেতাদের দৃষ্টিভঙ্গিটা বুঝতে পারেন। আমাকে আগে থেকে খুব ভাল করে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন সব। মহেশ জানেন, ওঁ কী চায়। স্বামী-স্ত্রী তো রসায়নের প্রয়োজন ছিল। সেটা খুব ভাল ভাবে ফুটে উঠেছে।

প্রশ্ন-'ফরবিডেন লভ'-এ সম্পর্কের জটিলতা দেখানো হয়েছে। চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে একাত্ম করলেন কী করে?

• প্ৰেম বা ভালবাসা-র ভিন্ন রূপ রয়েছে। এর সঙ্গে অনেক গুলো অনুভূতি জড়িয়ে। ঈর্ষা, ঘৃণা, পাগলামি, এই গুলোর সঙ্গে ভালবাসার যোগ নিবিড়। আর সম্পর্ক জটিল হলে, অনুভূতি গুলোও আরো জটিল হয়ে যায়। এরকমই একটা জটিল অনুভূতি নিয়ে কাজ করলাম।

প্রশ্ন- আপনি প্রচুর জটিল বিষয় নিয়ে ছবি করেছেন। আচ্ছা খুব জানতে ইচ্ছে করছে, আপনি কী ভবিষ্যৎ দেখতে পান?

কেন বলুন তো?

প্রশ্ন- কেরিয়ারের গোড়া থেকে এত ভিন্ন স্বাদের ছবি চয়ন করেছেন। ওয়েবের পথেও অনেকের আগেই হেঁটেছেন। দর্শক এরকম বিষয়, এই মাধ্যম পছন্দ করবেন, বুঝলেন কী করে?

• এটা কিন্তু সত্যি। আমি অনেক আগে সিরিজ করা শুরু করে দিয়েছি। 'হ্যালো' বাংলায় সে অর্থে প্রথম ওয়েব সিরিজ। তবে আমি সিরিজের প্রস্তাব ফিরিয়েও দিই। আমি একটু খুঁতখুঁতে। যা প্রস্তাব পাই, তার মধ্যে সেরাটা করার চেষ্টা করি। 'হ্যালো'-র একের পর এক সিজন করছি। তারপর 'দেবদাস' করবো। এটা একটা আধুনিক থ্রিলার ছবি। আমি 'চন্দ্রমুখী' করছি।

প্রশ্ন- আর আপনি কখনো একটা নায়িকা হবো, এমনটা ভেবেও ছবি বাছেননি। 'পরিণীতা'তেও বিদ্যা বালন, কেন্দ্রে জেনেও কাজ করলেন।

• গল্প ভাল হলে, আর কিছু প্রয়োজন হয় না। আর একা কিছু করা যায় না, এটা আমি বিশ্বাস করি। স্ক্রিন ভাগ করে নিতে আমার আপত্তি নেই, ছিলও না কোনো দিন।

প্রশ্ন- তাছাড়াও, ছবির ক্ষেত্রেও আপনি একেবারে অন্য পথে হেঁটেছেন। আপনার ডেবিউর সময়, বাণিজ্যিক ছবিরই রমরমা ছিল। তবে সে রাস্তায় আপনি যাননি।

• আমার শুরুটাই অন্য রকম। 'গড মাদার' আমার প্রথম ছবি।

প্রশ্ন- হ্যাঁ তারপর ঋতুপর্ণ ঘোষের সঙ্গে প্রচুর কাজ করলেন। আপনার প্রশংসা ঋতুদা বার বার করেছেন। আপনি নাকি খাকি গলায় খুব ভাল রবীন্দ্রসঙ্গীত গান? রেওয়াজ করেন?

• না, একেবারে করা হয় না।

প্রশ্ন- ঋতুদা আপনাকে, অনেক বার গান নিয়ে চর্চা করার জন্য অনুরোধ করতেন। তাই না?

• করতেন তো। ঋতুদার ছবির জন্য গান করা। তখন ওঁর সব অনুরোধ রেখেছিলাম। পরে আর চর্চা করা হয়নি। ঋতুদা থাকলে হয়তো করতাম। ওরকম পরিচালক তো আর পেলাম না। ঋতুদা আমাকে দিয়ে কত কিছুই না করিয়েছেন। আমার মধ্যে এত কিছু ছিল, আমি সত্যি জানতাম না। 'গড মাদার' দিয়ে শুরু করলাম ঠিকই। কিন্তু 'চোখের বালি' করার পরই সেভাবে অভিনেতা হলাম। ওঁ সেরাটা বের করে নিতে জানতেন।

প্রশ্ন- মন খারাপ হয় নিশ্চয়ই ঋতুদার জন্য?

• হবে না? ঋতুদা থাকলে আজ কোথায় পৌঁছে যেতাম। কত কিছু হল না। (ধরা গলায় কথা গুলো বললেন রাইমা)

প্রশ্ন- আপনি অনেকবার বলেছেন। আপনি নিজে থেকে কিছু করতেন না। ঋতুদাকে নকল করতেন। অন্য পরিচালকের সঙ্গে যদিও বিষয়টা এমন নয়। ঋতুদার পর কোনো পরিচালক পেলেন, যাঁকে নকল করতে ইচ্ছে হল?

• আসলে ঋতুদা আর আমার বোঝাপড়াটা অসাধারণ ছিল। আমি ওঁকে কার্বন কপি করতে পারতাম। কেজি মানে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় অনেকটা এরকম। অপর্ণা সেনও এই ঘরানার। আর কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় খুব ভাল সিন বোঝান। তা ছাড়াও, এখন নিজের ওপর ভরসা করতে শিখে গিয়েছি।

প্রশ্ন- তা তো বটেই। ২২ বছর হয়ে গেল, আপনি অভিনয় করছেন। প্রচুর অভিজ্ঞতা হল তো।

• হ্যাঁ অনেক উত্থান-পতন দেখলাম। কত মানুষের সঙ্গে আলাপ হল। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে জানার সুযোগ পেলাম। কত ঘুরলাম। সবচেয়ে বড়, একই জীবনে কত জীবন বাঁচার অভিজ্ঞতা হল। অভিনেতা না হলে তো এসব হতো না।

প্রশ্ন- ২২ বছরে নিশ্চয়ই, ২২ কোটিবার শুনেছেন, আপনি আপনার দিদা, সুচিত্রা সেনের মত দেখতে?

• আরে ছোট ছিলাম যখন একটু কেমন লাগতো। এখন এটা শুনতে দারুণ লাগে। আমি ওঁর নাতনি। এসব কমপ্লিমেন্ট তো আমিই পাবো। আর কে পাবে বলুন? আমি এই কথাটা শুনলে খুব খুশি হই।

প্রশ্ন- আচ্ছা একেবারে অন্য একটা কথা জানতে ইচ্ছে করছে। আপনার মনে হয় বাংলা আপনাকে যা দিয়েছে, তা কখনই বলিউড দেয়নি?

• খানিকটা সত্যি। ৬ বছর আগে পাকাপাকি ভাবে কলকাতায় ফিরে আসি। যদি থেকে যেতাম, তাহলে হয়তো ভাল ছবি পেতাম। সেই সময় কলকাতায় খুব ভাল সব ছবির প্রস্তাব পাচ্ছিলাম। তাই চলে আসি। এখন যেরকম, গত দু বছর ধরে আবার মুম্বাইয়ে ফিরে গিয়েছি। ওখানে অনেক কাজ করছি।

প্রশ্ন- ৬ বছর আগে চলে এলেন কেন?

• দেখুন, অনেক অভিনেতাকে টিকে থাকার জন্য খারাপ ছবি করতে হয়। কিন্তু আমার কাছে বিকল্প ছিল। বাংলার বড় পরিচালকরা কাজ করতে চাইছিলেন। পরে থাকার কোনো মানে হয় না। এই ব্যাকআপটা ছিল আমার।

প্রশ্ন- আপনি সুচিত্রা সেনের নাতনি। মুনমুন সেনের মেয়ে। স্বজনপোষণ নিয়ে এত কথা হয়। এই বিষয়ে আপনার কী মত? • নেপটিজম নিয়ে সকলে যেটা বলছে, সেটা কিন্তু সবটা সত্যি নয়। কত স্টার কিড বাজে ভাবে ব্যর্থ হয়েছে, বলুন তো। প্রতিভা না থাকলে কেউ টেকে না। স্টার কিডের ক্ষেত্রেও, এটাই প্রযোজ্য। আচ্ছা রণবীর কাপুর শুধু নেপটিজমের জোরে ছবি পায়? এটা ওঁর প্রতিভাকে লঘু করা নয়?

প্রশ্ন- প্রথম ছবি পাওয়া সহজ এটা তো মানবেন? এটাও কি কম? • হ্যাঁ প্রথম সুযোগ পাওয়া যায়। আমিও তো 'গড মাদার' পেলাম। তারপর আর কিছুই সোজা ছিল না। 'সার্ভিভ্যাল অফ দ্য ফিটেস্ট'-ই হয়। এটাই সত্যি।

‌Arunima Dey

Published by: Uddalak Bhattacharya
First published: October 4, 2020, 9:43 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर