corona virus btn
corona virus btn
Loading

পর্দায় সাধারণ জীবনের গল্প, এটাই ছিল বাসু চট্টোপাধ্যায়ের মাস্টারস্ট্রোক

পর্দায় সাধারণ জীবনের গল্প, এটাই ছিল বাসু চট্টোপাধ্যায়ের মাস্টারস্ট্রোক

চামেলি কি শাদি-তে উপহার দিলেন রজনীগন্ধা, ছোটি সি বাত হয়ে গেল, খট্টা-মিঠা খেতে খেতে। বাসু চট্টোপাধ্যায়।

  • Share this:

#মুম্বই: চামেলি কি শাদি-তে উপহার দিলেন রজনীগন্ধা, ছোটি সি বাত হয়ে গেল, খট্টা-মিঠা খেতে খেতে। বাসু চট্টোপাধ্যায়। বার বার মধ্যবিত্ত মানুষের জীবন তুলে ধরেছেন তাঁর ছবির ক্যানভাসে। বৃহস্পতিবার সকালে চলে গেলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া বলিউডে।

রাজস্থানের আজমেরে জন্ম তাঁর। বাবা রেলে চাকরি করতেন। তাই নানা শহরে থাকার সুযোগ মিলেছে। ছোট থেকে, তাঁর ভ্রমণ পিপাসু মন, সফর করতে ভালবাসে। রেলওয়ে কোয়াটারে থাকার সুবাধে খুব কাছ থেকে দেখেছেন মধ্যবিত্ত জীবনযাপন। সেই ছাপই পড়েছে তাঁর সৃষ্টিতে। পরিচালক বাসু চট্টোপাধ্যায় গল্প বলেছেন সাধারণ মানুষের।

তাঁর বড় হয়ে ওঠা মথুরায়। পরিচালকের মন টানতো সিনেমা। মথুরায় তখন একটাই প্রেক্ষাগৃহ। তিন দিন পর পর ছবি পাল্টে যেত। বাসু প্রায় সব ছবি দেখতেন। মনে মনে স্থির করে ফেলেছিলেন ৭০ এমএম-এর পর্দায় নিজের বানানো ছবি দেখবেন। গ্র্যাজুয়েশন পাস করার পর পেয়ে গেলেন মুম্বই যাওয়ার সুযোগ। মিলিটারি স্কুলে লাইব্রেরিয়ানের চাকরি নিয়ে পা রাখলেন স্বপ্ন নগরীতে। পুঁথি ঘাটার কাজে মন বসলো না। রসদ খুঁজতে যেতে শুরু করলেন ফিল্ম সোসাইটি-তে। সেখানেই ওয়ার্ল্ড সিনেমার সঙ্গে পরিচয়।

লাইব্রেরিয়ানের কাজ ছেড়ে তিনি কার্টুনিস্ট হিসেবে কাজ করতে শুরু করলেন। কিন্তু মনের গভীরে সিনেমা। ছবি বানানোর আগে শিখে নিতে চেয়েছিলেন ফিল্ম মেকিং-এর খুঁটিনাটি। তাঁর এক কবি বন্ধু ছিলেন শৈলেন্দ্র। ছবিতে কাজ করতেন তিনি। বাসু তাঁকে নিজের ছবির সম্পর্কে আগ্রহের কথা বলেন। শৈলেন্দ্র তখন ‘তিসরি কসম’-এ কাজ করছিলেন। সহকারী পরিচালক হিসেবে এই ছবিতে বাসুর জায়গা করে দেন তিনি। বাসু ভট্টাচার্যের ছবি দিয়ে কাজ শুরু করেন বাসু চট্টোপাধ্যায় ‘সরস্বতীচন্দ্রা’ ছবিতেও সহকারী হিসেবে কাজ করেন বাসু। তারপর বুঝলেন শেখা হয়ে গিয়েছে. এবার নিজেই ছবি বানাতে পারবেন। ফিল্ম ফিনান্স কর্পোরেশন থেকে টাকা ধার করে প্রথম ছবি ‘সারা আকাশ’ বানান। দর্শক পান একেবারে ভিন্ন স্বাদ। ‘রজনীগন্ধা’, ‘ছোটি সি বাত’, ‘চিতচোর’, ‘খট্টা মিঠা’, ‘চমেলি কি শাদি’-র মতো ছবিতে বার বার মধ্যবিত্তের কথা বলেছেন তিনি। ‘মনজিল’-এ অমিতাভ বচ্চন, ‘চক্রভ্যিউ’-তে রাজেশ খান্না, ‘মন পসন্দ’-এ দেব আনন্দ ও মিঠুন চক্রবর্তীকে ‘শকিন’-এ একেবারে অন্য ভাবে ব্যবহার করেছেন বাসু চট্টোপাধ্যায়। আমোল পালেকর, অশোক কুমার, বিদ্যা সিনহা, বাসু চট্টোপাধ্যায়ের ছবিতে নিয়মিত অভিনয় করেছেন।

ছোট পর্দাতেও ‘ব্যোমকেশ বক্সী’ ও ‘রজনী’-তে ফেলেছেন তাঁর সিগনেচার ছাপ। ‘দুর্গা’ ছবির জন্য জাতীয় পুরষ্কার পেয়েছেন পরিচালক। বহুবার ফিল্ম ফেয়ার পুরষ্কারে সম্মানিত হয়েছেন তিনি। স্লাইস অফ লাইফ, রিয়্যালিস্টিক ছবি, যার কথা আজ আমরা বলে থাকি, তা বহু বছর আগে করে দেখিয়েছিন, বাসু চট্টোপাধ্যায়। তিনি চলে গেলেন, তবে রেখে গেলেন, আমার আপনার পাশের বাড়ির মাসিমা, মেসোমশাইদের জীবনের মতো কিছু গল্প।

Published by: Akash Misra
First published: June 4, 2020, 6:54 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर