Exclusive: সৃজিতের পরিচালনায় বিদিতা বাগ ! জানালেন 'রে'-তে অভিনয়ের খুঁটিনাটি

Bidita Bag

'রে' (Ray) সিরিজে কাজ করতে পেরে দারুণ উৎসাহিত অভিনেত্রী বিদিতা বাগ (bidita bag)। মুম্বই থেকেই ফোনে জানালেন তাঁর মনের কথা।

  • Share this:

#মুম্বই: 'উমরো ভর গালিব এহি ভুল করতা রাহা, ধুল চেহরে পে থি আয়না সাফ করতা রাহা'... রে (Ray)। নেটফ্লিক্সে সদ্য মুক্তি পাওয়া সিরিজ। সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত এই সিরিজের 'বহুরূপিয়া' নিয়ে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা শুরু হয়েছে। তার প্রধান কারণ কেকে মেনন, সত্যজিত রায়ের ছোট গল্প, সৃজিত মুখোপাধ্যায় এবং বাঙালি মেয়ে বিদিতা বাগ।

কলকাতার গল্প যখন বাঙালিআনা তো থাকবেই। সেই সঙ্গে মেলবন্ধন যখন সত্যজিৎ-সৃজিতের তাতে চমক থাকবেই। এ গল্পেও চমক আছে। বলি-টলির অভিনেতাদের মেল বন্ধনও রয়েছে। তবে এই সিরিজে কাজ করতে পেরে দারুণ উৎসাহিত অভিনেত্রী বিদিতা বাগ। মুম্বই থেকেই ফোনে জানালেন তাঁর মনের কথা।

'রে' সেই সঙ্গে সত্যজিৎ-সৃজিতের মেল। বুক কাঁপেনি?

সত্যজিৎ রায়ের গল্পে কাজ করতে পারাটা সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। এত দিন পর তাঁর গল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে পারাটাই অনেক। তবে বুক কাঁপেনি। আনন্দ হয়েছিল। সত্যজিতের ছোট গল্পে মেয়েদের যতটুকু ব্যবহার ছিল সেটাতে আমি সবটা দিয়ে কাজ করেছি। বাকিটা তো সিরিজ বলবে।

সৃজিতের সঙ্গে প্রথমবার কাজ?

হ্যাঁ, সৃজিতদার সঙ্গে এটি প্রথম কাজ। তবে আমি সৃজিতদাকে অনেক আগে থেকেই চিনি। তখন সৃজিত আজকের সৃজিত মুখোপাধ্যায় হয়ে ওঠেননি। আমার দাদার বন্ধু ছিলেন সৃজিতদা। জেএনইউ-তে একসঙ্গে পড়তেন তাঁরা। সেই সূত্রে আমি অনেক আগে থেকেই চিনি। কিন্তু কাজ করা হয়নি।

কেমন লাগলো কাজ করে?

অসাধারণ। সৃজিতদা এত সুন্দর করে সব কিছু দেখেন, যা সত্যিই অবাক করে। প্রত্যেকের চরিত্র বুঝিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে, স্ক্রিপ্ট কোথায় কি হবে সবটা নজরে থাকে তাঁর। এক কথায় বলতে গেলে কাজ করে এক অসাধারণ অনুভূতি হয়েছে।

'বহুরূপিয়া'তে আপনার চরিত্র কোন গতি পথে এগোবে?

এখানে আমি একজন উঠতি নায়িকা। যাঁকে সফলতার চাবিকাঠি ছুঁতে হবে। সে জানে সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে কি করতে হয়। এই উঠতি নায়িকার মনে কেকে মেননের জন্য একটা সফ্ট কর্নার তৈরি হয়। এর পর সহজ সরল মানুষটাকে কষ্ট দিতে ইচ্ছে করে না। এই নিয়েই এগোবে আমার চরিত্র।

কেকে মেননের সঙ্গেও তো প্রথমবার কাজ করলেন?

হ্যাঁ, ওঁর সঙ্গেও এটাই আমার প্রথম কাজ। দশ বছর আগে একবার আমি 'পৃথবী থিয়েটার'-এ ওঁর সঙ্গে দেখা করেছিলাম। সে সময় আমার লড়াই অনেক কঠিন ছিল। কিন্তু উনি এতটাই মাটির মানুষ, সে সময় আমার সঙ্গে বসে কথা বলেছিলেন। তা এখানে যখন শ্যুটিং শুরু হল। আমি যাই ওঁর কাছে। দশ বছর আগের সেই কথা বলি। অবাক কাণ্ড উনি সবটা মনে করতে পারলেন। উনি একজন অসাধারণ অভিনেতা। ভাবিনি কখনও আমি ওঁর সঙ্গে এক স্ক্রিনে কাজ করবো।

শ্যুটিংয়ে কেকে মেননের সঙ্গে আড্ডা হত?

আমার মাত্র দু'দিনের সিডিউল ছিল। তার মধ্যেই কথা হয়েছে অনেক। তবে উনি বেশি কথা বলতেন না। তার প্রধাণ কারণ ওঁর মুখে প্রস্থেটিক মেক-আপ করা ছিল। বেশি কথ বললে সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া আমরা যখন শ্যুটিং করেছি তখন খুব গরম। ঘেমে নেয়ে একাকার অবস্থা। তবুও আড্ডা তো হয়েছেই।

এই প্রোজেক্টের কাজ কিভাবে এল?

এই কাজটা নিয়ে আমরা ২০১৯ থেকে আলোচনা করছি। শায়ন্তনদার মাথায় প্রথম আসে বিষয়টা। এরকম করলে কেমন হয়। সে সময় নেটফ্লিক্স কোথাও ছিল না। পরে এই বিষয়টা অনেক বড় ব্যাপার হয়ে গেল। নেটফ্লিক্স এল। বড় বড় নাম জুড়ল এর সঙ্গে। দারুণ একটা ব্যাপার হয়ে গেল। আমি এই কাজের সঙ্গে প্রথম থেকেই যুক্ত। তবে সব মিলিয়ে 'রে' একটা দারুণ কাজ।

কলকাতায় এতদিন পর এলেন বাড়ি গিয়েছিলেন?

গিয়েছিলাম এক দিনের জন্য। প্রথম দিন আমি হোটেলেই থাকি। পর দিন দেখা করতে গিয়েছিলাম। সময় তো তেমন নিয়ে আসিনি।

নতুন কি কাজ করছেন?

কাজ তো অনেকগুলো রয়েছে। কিন্তু এই মুহূর্তে বলা বারণ। এক একটা করে সব জানিয়ে দেব। তবে হট স্টারে আমার একটা কাজ রিলিজ করেছে 'তিন দো পাঁচ'। কয়েক দিন আগেই 'দ্য শোলে গার্ল' খুব ভালো রেসপন্স পেয়েছে। এর পর আছে আরও কিছু। একে একে জানাব।

করোনা, লকডাউন এসবে জীবন কতটা কঠিন হয়েছে?

করোনায় আমি সত্যিই খুব ভয় পেয়েছি। ভ্যাকসিন নিয়েছি। কিন্তু বাড়ি থেকে না বেরোলেও তো চলবে না। আমরা অভিনয় জগতের মানুষরা বোধহয় একমাত্র যাঁরা মাস্ক ছাড়া কাজ করতে বাধ্য। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে হবে। কারণ কাজ না থাকলে চলবে না। আমার স্ট্রাগল তো কম নয় জীবনে। এই খারাপ সময়ে আরও একটা লড়াই দেখছি। তবে জানি সব কিছু একদিন আবার ঠিক হয়ে যাবে। সবাই ভালো থাকুক এটুকুই চাওয়া। এত মৃত্যু মিছিল আর নেওয়া যাচ্ছে না।

Published by:Piya Banerjee
First published: