Dibyendu Bhattacharya : তুরস্কে শুটিঙে মায়ের মৃত্যুসংবাদ, কষ্ট লুকিয়ে কৌতুক দৃশ্যে অভিনেতা

ছবি-ফেসবুক

সুদূর তুরস্কে বসেই অভিনেতা দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য খবর পেলেন তাঁর মা-ও চলে গিয়েছেন নামহীন এক না ফেরার দেশে ৷ শেষ দেখা হল না মায়ের সঙ্গে ৷ থাকা হল না অন্ত্যেষ্টিতেও ৷

  • Share this:
    কলকাতা : যে ওয়েবসিরিজে অভিনয়ের জন্য বিদেশে উড়ে গিয়েছিলেন, তার নাম এখনও ঠিক হয়নি ৷ সুদূর তুরস্কে বসেই অভিনেতা দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য খবর পেলেন তাঁর মা-ও চলে গিয়েছেন নামহীন এক না ফেরার দেশে ৷ শেষ দেখা হল না মায়ের সঙ্গে ৷ থাকা হল না অন্ত্যেষ্টিতেও ৷ দিব্যেন্দু এপ্রিল মাসের শেষে তুরস্ক রওনা হয়েছিলেন ৷ তাঁর মা গায়ত্রী ভট্টাচার্য অসুস্থ ছিলেন এক বছর ধরে ৷ কিন্তু দিব্যেন্দু জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহ তিনি চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছিলেন ৷ ‘মির্জাপুর’, ‘ক্রিমিনাল জাস্টিস’-এর অভিনেতা তখন দুঃস্বপ্নেও আঁচ করেননি তিনি দেশে ফেরার আগেই মা পাড়ি দেবেন দিকশূন্যপুরে ৷ সংবাদমাধ্যমে দিব্যেন্দু জানিয়েছেন, ভারত থেকে তিনি সরাসরি তুরস্ক যেতে পারেননি ৷ কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের জন্য ভারত থেকে সে দেশে সরাসরি প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল ৷ তাই ১০ দিন মলদ্বীপে কাটিয়ে দিব্যেন্দু তুরস্ক যান ৷ ৫ মে শুরু হয় শুটিং ৷ অভিনেতার কথায়, ‘‘আমি সেটে মোবাইল ফোন নিয়ে যাই না ৷ পরে আমি ফোনে বোনের মেসেজ দেখে ওকে সঙ্গে সঙ্গে ফোনে করি ৷ বোন বলেছে, হাসপাতালে শয্যা পাওয়া যায়নি ৷ রোগীর কোভিড নেগেটিভ রিপোর্ট চেয়েছিল সব হাসপাতাল ৷ ’’ তাঁর কলকাতার বন্ধুরা চেষ্টা করেছেন ৷ কিন্তু বন্দোবস্ত হওয়ার আগেই সব শেষ হয়ে যায় ৷ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন গায়ত্রীদেবী ৷ দিব্যেন্দু মনে করেন জরুরি সময়ে হাসপাতালে এত নিয়মের জটিলতা অমানবিক ৷ মাকে হারানোর খবর পেয়ে দেশে ফেরার চেষ্টাও করেছিলেন দিব্যেন্দু ৷ কিন্তু তিনি বুঝতে পারেন, কোভিডের পর্যটনবিধি ও আইসোলেশন পর্ব কাটিয়ে তিনি পনের দিনের আগে ফিরতে পারবেন না ৷ তাই আপাতত তুরস্কেই আছেন মাতৃহীন দিব্যেন্দু ৷ বোনের কাছে দুঃসংবাদ পাওয়ার পর সারা দিন কেঁদেই গিয়েছেন তিনি ৷ ‘ব্ল্যাক ফ্রাইডে’, ‘দেব ডি’, ‘বিএ পাস’, ‘লাল বাজার’-এর অভিনেতা টের পেয়েছেন, একজন যত বড়ই হয়ে যাক না কেন, বাবা মাকে হারানোর শোক সহ্য করার মতো শক্তি তৈরি হয় না ৷ তার পর সেই রাতে শুটিংও করেছেন৷ ওই মানসিক অবস্থাতেই অভিনয় করেছেন অ্যাকশন দৃশ্য এবং কৌতুক দৃশ্যে ৷ কারণ অভিনেতা জানেন, যা-ই হয়ে যাক না কেন, দ্য শো মাস্ট গো অন... মাকে হারানোর দুঃখ কিছুটা হলেও অভিনেতা লাঘব করতে চেয়েছেন সামাজিক মাধ্যমে ৷ ফেসবুকে ডিপি এবং কভার ফোটো, দু’ জায়গাতেই মায়ের সঙ্গে তাঁর ছোটবেলার ছবি ৷ ফেসবুকে পাতায় আরও কিছুটা গেলেই এখনও জ্বলজ্বল করছে জানুয়ারি মাসে করা দিব্যেন্দুর পোস্ট ৷ সেখানেও তাঁর এবং মায়ের একটা পুরনো ছবি ৷ সঙ্গে দিব্যেন্দুর ক্যাপশন, ‘শুভ জন্মদিন মা, আমি তোমায় ভালবাসি ৷’
    Published by:Arpita Roy Chowdhury
    First published: