corona virus btn
corona virus btn
Loading

এখন ফুল বা সিঁদুর দিয়ে দেওয়া যাবে না মা ভবতারিনীর পুজো, কাল খুলছে দক্ষিণেশ্বর মন্দির, দেখে নিন গাইডলাইন

এখন ফুল বা সিঁদুর দিয়ে দেওয়া যাবে না মা ভবতারিনীর পুজো, কাল খুলছে দক্ষিণেশ্বর মন্দির, দেখে নিন গাইডলাইন

মন্দির খুললেও করোনা ভাইরাস এর জেরে চেহারা বদলাচ্ছে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের। এবার একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মন্দিরের গেট খোলা হবে ও বন্ধ করা হবে। শুধু তাই নয় মন্দির ঢুকতে গেলে দর্শনার্থীদের একাধিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে তবেই ঢোকার অনুমতি মিলবে।

  • Share this:

#কলকাতা: করোনা আবহেই কাল থেকে সর্বসাধারণের জন্য খুলে যাচ্ছে দক্ষিণেশ্বর মন্দির। তবে মন্দির খুললেও করোনা ভাইরাস এর জেরে চেহারা বদলাচ্ছে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের। এবার একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মন্দিরের গেট খোলা হবে ও বন্ধ করা হবে। শুধু তাই নয় মন্দির ঢুকতে গেলে দর্শনার্থীদের একাধিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে তবেই ঢোকার অনুমতি মিলবে। মন্দিরের ভিতরে ঢুকে ও সামাজিক দূরত্ব বিধি মেনে তবেই মাকে পুজো দেওয়া যাবে।

সামাজিক দূরত্ব বিধি মানার জন্য মন্দিরের ভেতরে নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর অন্তর মার্ক করে দেওয়া হয়েছে। পায়ের ছাপ দেওয়া মার্ক গুলিতেই দর্শনার্থীরা লাইনে দাঁড়িয়ে তবেই পুজো দিতে পারবেন।দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের অছি পরিষদের সম্পাদক কুশল চৌধুরী জানিয়েছেন "কাল থেকে প্রত্যেক দিন সকাল ৭ টা থেকে ১০ টা এবং বিকেল বেলায় ৩:৩০ থেকে সন্ধ্যা ৬ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মন্দির খোলা থাকবে। মন্দির খোলার ২০ মিনিট আগেই যেমন মন্দিরের সিংহদুয়ার খোলা হবে তেমনি মন্দির বন্ধ হওয়ার ২০ মিনিটের মধ্যেই সিংহদুয়ার বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা মন্দির চত্বরে অবস্থিত বিভিন্ন মন্দির ও শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব এর ঘরের ভেতরে প্রবেশ বা অবস্থান করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।" এদিকে প্রায় দুমাস পর মন্দির খোলায় একাধিক দর্শনার্থীদের ভিড় হওয়ার আশঙ্কা করছে প্রশাসন। যার জেরে মন্দিরের বাইরে ও দর্শনার্থীদের লাইনকে কেন্দ্র করে যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় থাকে তার জন্য একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট।

অবশেষে স্বস্তির খবর দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের ভক্তদের জন্য। দীর্ঘ দু'মাসেরও বেশি লকডাউন এবং করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আবহেই অবশেষে শনিবার থেকে খুলছে দক্ষিণেশ্বর মন্দির। তবে মন্দির খুললেও একাধিক স্বাস্থ্য বিধি মেনেই মন্দিরে ঢুকতে হবে দর্শনার্থীদের। মন্দিরে ঢোকার সময়েই দর্শনার্থীদের তাপমাত্রা মাপা হবে। তাপমাত্রা মাপার পর স্যানিটাইজার টানেলের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের মন্দিরের ভেতরে ঢুকতে হবে। তবে মন্দিরের ভেতরে ঢুকলে ও সামাজিক দূরত্ব বিধি মানার জন্য নির্দিষ্ট করে মার্ক করে দেওয়া হয়েছে দর্শনার্থীদের দাঁড়ানোর জন্য।৬ ফুট দূরত্ব অনুযায়ী মার্ক করে দর্শনার্থীদের দাঁড়াতে হবে। এপ্রসঙ্গে মন্দির কমিটির অছি পরিষদের সম্পাদক কুশল চৌধুরী জানিয়েছেন " একসঙ্গে মন্দিরের ভেতর ৪০০ জন থাকতে পারবেন। কিন্তু ১০ জন থেকে ২৫ জন পর্যন্ত পুজো দিতে পারবেন। কোনভাবেই মন্দিরের ভেতরে বা মন্ত্রী সংলগ্ন এলাকায় কোন বসে থাকা বা জমায়েত করা যাবে না।"

তবে শুধু মন্দিরের ভেতর নয়, মন্দির সংলগ্ন ডালার দোকানগুলি নিয়েও একাধিক সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। মূলত জোড়-বিজোড় পদ্ধতিতে এই ডালার দোকানগুলি খুলবে। তার সঙ্গে পাশাপাশি কোনভাবেই দোকান খুলবে না। ডালার দোকানগুলো পাশাপাশি খাবারের দোকান নিয়েও একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। মন্দির সংলগ্ন এলাকাতে যে খাবারের দোকানগুলো রয়েছে সেখানে কোনো ভাবেই বসে খাওয়া যাবেনা। তবে বাড়ি অব্দি খাবার নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা থাকছে। মন্দির সংলগ্ন যে ডালার দোকানগুলি থাকবে প্রত্যেকটি দোকানেই স্যানিটাইজার এবং মাস্ক ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে মন্দিরের তরফে।

মন্দির আগামীকাল থেকে খুলে দেওয়া হলেও আপাতত প্রসাদ নিয়েই মাকে পুজো দেওয়া যাবে।কোন ফুল বা সিঁদুর দিয়ে পুজো দেওয়া যাবে না। এপ্রসঙ্গে মন্দির কমিটির তরফ এ অছি পরিষদের সম্পাদক কুশল চৌধুরী জানিয়েছেন " ফুলের মধ্যেও ভাইরাসের সংক্রমণের আশঙ্কা থাকছে। তাই ফুল দেওয়া যাবে না। সিঁদুর, চন্দন কিছুই আপাতত দেওয়া যাবে না। দর্শনার্থীদের কথা ভেবে প্রসাদ দিয়ে পুজো দিলেও সেগুলি পুরোহিতরা নেবেন একটি নির্দিষ্ট বাস্কেটে। যতটা সম্ভব চেষ্টা করা হবে যাতে পুরোহিতরা স্পর্শ থেকে দূরে থাকেন।"

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কথা মাথায় রেখে মন্দির কমিটির তরফে সব পুরোহিত দেরই পিপিই কিট পরে কাজ করতে বলা হয়েছে। মন্দিরের ভেতর থেকে শুরু করে মন্দিরের নিরাপত্তারক্ষী পর্যন্ত সবাই আপাতত পিপিই কিট পড়ে কাজ করবেন। এ প্রসঙ্গে কুশল বাবু জানান " আমাদের সব সময় সংক্রমণের আশঙ্কা থাকছে। এটা আমাদের কাছে একটা কঠিন লড়াই। আমরা চেষ্টা করব সর্তকতা মাধ্যমে যাতে নিশ্চিতভাবে সব ব্যবস্থা সুরক্ষিত করা যায়।" তবে আগামীকাল মন্দির সংলগ্ন এলাকায় কড়া পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। যাতে দর্শনার্থীদের আশাকে ঘিরে কোন সমস্যা তৈরি না হয় সেই দিকে তাকিয়েই মন্দির সংলগ্ন এলাকাতেই পুলিশ মোতায়েন থাকবে। সব মিলিয়ে শুক্রবার চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলল গোটা দক্ষিণেশ্বর মন্দির চত্বর জুড়ে।

সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়

Published by: Elina Datta
First published: June 12, 2020, 5:13 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर