COVID-19: উপসর্গ থাকলেও রিপোর্ট নেগেটিভ! আপনি করোনা আক্রান্ত কি না তা নির্ভুল ভাবে জানাবে এই টেস্ট

নিউক্লিক অ্যাসিড (Soul) অর্থাৎ RNA সনাক্ত করার জন্য বেশ কিছু পদ্ধতি বা পরীক্ষা রয়েছে, জেনে নিন

নিউক্লিক অ্যাসিড (Soul) অর্থাৎ RNA সনাক্ত করার জন্য বেশ কিছু পদ্ধতি বা পরীক্ষা রয়েছে, জেনে নিন

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: কোভিড হল SARS COV 2 দ্বারা সৃষ্ট যা করোনাভাইরাস নামে পরিচিত। ফুসফুসে গুরুতর এবং তীব্র সংক্রমণের কারণ হয়ে থাকায় এই ভাইরাসটির এমন নামকরণ করা হয়েছে। করোনা ভাইরাসের প্রথম কেসটি পাওয়া যায় চিনে ২০১৯ সালে। তখনই এই ভাইরাসের নাম দেওয়া হয় কোভিড ১৯। ২০০২ সালে পূর্ব এশিয়ার সীমিত অংশে ভাইরাসটি এসেছিল, এর নাম দেওয়া হয়েছিল SARS COV 1। এই ভাইরাসটি DNA (deoxy-ribo nucleic acid) বা RNA (ribose nucleic acid) ভাইরাস হতে পারে। করোনা ভাইরাস হল RNA ভাইরাস। নিউক্লিক অ্যাসিড হল ভাইরাসগুলির জেনেটিক উপাদান যা মানবদেহের আত্মার মতো। সুতরাং মানবদেহে ভাইরাস সংক্রমণ সনাক্ত করার জন্য আমাদের ভাইরাসের আত্মা সনাক্ত করতে হবে। নিউক্লিক অ্যাসিড (Soul) অর্থাৎ RNA সনাক্ত করার জন্য বেশ কিছু পদ্ধতি বা পরীক্ষা রয়েছে, সেই সম্পর্কে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিকেত রাই (Niket Rai), MBBS, মৌলানা আজাদ মেডিক্যাল কলেজ (Maulana Azad Medical College) এবং লোকনায়ক হসপিটাল, দিল্লির (Lok Nayak Hospital, Delhi) অ্যাসোসিয়েট।

১. কোভিড-১৯ সনাক্ত করার জন্য কী কী পদ্ধতি উপলব্ধ?

সাধারণত কোভিড সৃষ্টিকারী ভাইরাস সনাক্ত করতে দুটি পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়, সেগুলি হল- RTPCR এবং RAT (কার্ড টেস্ট)।

২. RTPCR কী?

RTPCR-এর অর্থ রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন (Reverse Transcription)। এটি রিয়েল টাইম পিসিআর (Real Time PCR) নামেও পরিচিত। RT-র পুরো অর্থ রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন এবং PCR-এর পুরো অর্থ পলিমিরেজ চেন রিয়্যাকশন। এই পদ্ধতিটি খুব কম পরিমাণে ভাইরাসযুক্ত নমুনায় RNA বর্ধিত করতে ব্যবহৃত হয়, যাতে প্রদত্ত নমুনায় নির্ভুল ভাবে এবং কম সময়ে ভাইরাসের উপস্থিতি সনাক্ত করা সম্ভব হয়। যদিও মেশিনটি ফলাফল প্রদানে মাত্র ৩-৬ ঘন্টা সময় নেয়, তবে বিপুল সংখ্যক নমুনা সংগ্রহ করায় রিপোর্ট দিতে বিলম্ব হতে পারে।

৩. পজিটিভ ও নেগেটিভ রিপোর্টের অর্থ কী?

সত্যি পজিটিভ মানে, ভাইরাসটি যখন নমুনায় উপস্থিত থাকে তখন পরীক্ষায় ভাইরাস সনাক্ত করা যায়।

মিথ্যা পজিটিভ মানে, টেস্টে ভাইরাসের সনাক্তকরণ ভুল হয়েছে। এটা তখনই হয় যখন, ভাইরাসটি নমুনায় আসলেই উপস্থিত থাকে না।

সত্যি নেগেটিভের অর্থ, পরীক্ষায় কোনও ভাইরাস শনাক্ত করা যায়নি, নমুনায় আসলেই কোনও ভাইরাস নেই।

মিথ্যা নেগেটিভ মানে, নমুনায় ভাইরাস থাকলেও পরীক্ষা করে সেই ভাইরাস সনাক্ত করা যায়নি।

সুতরাং RTPCR রিপোর্ট পজিটিভ হলে শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি আছে বলে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে নেগেটিভ রিপোর্ট মানেই যে শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নেই, তা নিশ্চিতভাবে বলা মুশকিল।

৪. RTPCR কতটা সংবেদনশীল?

সংবেদনশীলতা মানে ভাইরাসযুক্ত নমুনায় ভাইরাস সনাক্ত করার শক্তিকে বোঝায়। অর্থাৎ এটি হল সত্যিকারের পজিটিভ রেজাল্ট দেওয়ার জন্য পরীক্ষার শক্তি। নাক এবং গলা থেকে সোয়াব নমুনার মাধ্যমে SARS COV 2 সনাক্ত করতে RTPCR-এর সংবেদনশীলতা প্রায় ৮৫ শতাংশ। যার অর্থ, ১০০টি নমুনার মধ্যে ৮৫টি নমুনারই ইতিবাচক রেজাল্ট দেয়। এখানে সম্ভাবনা রয়েছে, ১৫টি নমুনায় ভাইরাস থাকলেও তা RTPCR সনাক্ত নাও করতে পারে ((False negative)। সেক্ষেত্রে পরে আবার RTPCR করে ভাইরাস সনাক্ত করা যেতে পারে।

৫. RTPCR কতটা সুনির্দিষ্ট?

সুনির্দিষ্টতার অর্থ, ভাইরাসটি যখন নমুনায় উপস্থিত থাকে না তখন তা প্রত্যাখ্যান (সনাক্ত না করা) পরীক্ষার শক্তি। অর্থাৎ সত্যি নেগেটিভ রেজাল্ট দেওয়ার পরীক্ষা শক্তি। সোয়াব নমুনা থেকে SARS COV 2 সনাক্ত করার ক্ষেত্রে RTPCR-এর নির্দিষ্টতা প্রায় ৯৮ শতাংশ। এর অর্থ হ'ল ১০০টি নমুনায় মাত্র ২টি নমুনা পরীক্ষায় এটি মিথ্যা পজিটিভ রেজাল্ট দেয়।

৬. RTPCR রিপোর্টে CT Value বলতে কী বোঝায়?

CT ভ্যালু চক্রের সংখ্যা উল্লেখ করে যার পরে ভাইরাস সনাক্ত করা যায়। CT ভ্যালু যত কম, ততই আপনার শরীরের ভাইরাল লোড বেশি। ৩৫-এর কাছাকাছি সংখ্যা যদি আপনার CT ভ্যালু হয়, তাহলে বুঝতে হবে ভাইরাল লোড ততটাও বেশি নয় ।

৭. RAT কী?

RAT মানে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট। RTPCR থেকে পৃথক যা নিউক্লিক অ্যাসিড (RNA) সনাক্ত করে, RAT সোয়াব নমুনায় প্রোটিন সনাক্ত করে।

৮. RTPCR-এর চেয়ে RAT-এর সুবিধা?

RAT দ্রুত পরীক্ষা হয়। এটি ১৫-৩০ মিনিটের মধ্যে রেজাল্ট দেয়।

৯. RTPCR-এর তুলনায় RAT-এর অসুবিধে?

RAT-এর সংবেদনশীলতা ৫০ শতাংশেরও কম। সুতরাং উপসর্গযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রেও RAT নেগেটিভ রিপোর্ট দিতে পারে।

১০. এই পরীক্ষাগুলি সম্পাদনের জন্য শরীর থেকে কোন নমুনা প্রয়োজন?

নাক এবং গলা থেকে সোয়াব নমুনার প্রয়োজন।

১১. এই পরীক্ষাটি কখন করা হয়?

উপসর্গ দেখা দিলে বা কোভিড রোগীর সংস্পর্শে এলেই তড়িঘড়ি পরীক্ষা করা উচিত।

১২. পরীক্ষার পুনরাবৃত্তি কখন করা উচিত?

-যদি রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে এবং উপসর্গমুক্ত হয়ে যায় তবে পরীক্ষার পুনরাবৃত্তি করার প্রয়োজন নেই।

-কেবলমাত্র অফিসে আবার যাওয়া শুরু করার আগে পরীক্ষার পুনরাবৃত্তি করা যেতে পারে।

-অথবা ভ্রমণ উদ্দেশ্যে পুনরায় পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।

Published by:Ananya Chakraborty
First published: