
ইরানের ‘হিট লিস্টে’ এ বার উপসাগরীয় অঞ্চলের আটটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু। তাদের সবচেয়ে দীর্ঘতম সেতু বি ১-এ আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ওই সেতুগুলির মানচিত্র এবং তালিকা প্রকাশ করে দুই দেশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল ইরান। তাদের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ় এজেন্সি-তে সেই তালিকা ছবি-সহ প্রকাশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইরানের কারাজে সে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘতম সেতু বি ১-এ বোমাবর্ষণ করে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা। সেতুতে হামলার ভিডিয়ো প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, এখনও সময় আছে। না হলে এর থেকেও আরও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে। এর পর শক্তিকেন্দ্রগুলিকেও নিশানা বানানো হবে বলেও হুঙ্কার দেন ট্রাম্প। কিন্তু ট্রাম্পের সেই হুঁশিয়ারি বা হুঙ্কারের কাছে তারা যে মাথা নোয়াতে রাজি নয়, বি ১ সেতুতে মার্কিন এবং ইজ়রায়েলি বাহিনীর হামলার পরই পাল্টা আটটি সেতুর তালিকা প্রকাশ করে বুঝিয়ে দিতে চাইল ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ফার্স নিউজ়-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ‘হিট লিস্টে’ রয়েছে কুয়েতের শেখ জাবের আল-আহমেদ আল-সাবা সমুদ্র সেতু, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শেখ জায়েদ, আল মাকতা এবং শেখ খলিফা সেতু। এ ছাড়াও বাহরিনের কিং ফাহদ কজ়ওয়ে (সৌদি এবং বাহরিনের সংযোগকারী সেতু), জর্ডনের কিং হুসেন, দামিয়া এবং আবদুন সেতু।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা কি এবার চরম রূপ নিল? ফের ইরানের বুকে আছড়ে পড়ল আমেরিকার শক্তিশালী ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা। লক্ষ্য— ইরানের পরমাণু প্রকল্পের প্রাণকেন্দ্র বলে পরিচিত ইস্ফাহান শহর। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওটি নিজেই শেয়ার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণে কেঁপে উঠছে ইস্ফাহানের মাটি। ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই অভিযান সম্পূর্ণ সফল। তাঁর কথায়, “আমরা আমাদের অত্যন্ত সফল একটি হামলা সম্পন্ন করেছি। মূল লক্ষ্যবস্তুতে পূর্ণ মাত্রায় বোমা ফেলা হয়েছে।” কিন্তু কেন ইস্ফাহান? বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের পরমাণু পরিকাঠামোর অন্যতম প্রধান কেন্দ্র এই শহর। এখানে ইউরেনিয়াম প্রক্রিয়াকরণ এবং জ্বালানি উৎপাদনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ল্যাবরেটরি রয়েছে। শুধু তাই নয়, এই শহরের মাটির নিচে রয়েছে ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা এবং গোপন সামরিক ঘাঁটি। মাটির অনেক গভীরে অবস্থিত এই গোপন দুর্গগুলোকে ধ্বংস করতেই আমেরিকা ব্যবহার করেছে ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা। সাধারণ মিসাইল যেখানে ব্যর্থ, সেখানে এই বোমা কংক্রিটের পুরু স্তর ভেদ করে মাটির গভীরে ঢুকে ধ্বংসলীলা চালাতে সক্ষম। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের কৌশলগত শক্তিকে গুঁড়িয়ে দিতেই ওয়াশিংটনের এই সরাসরি আঘাত।
প্রশান্ত মহাসাগর, ভারত মহাসাগর ও আর্কটিক সাগরের গভীরে এক নীরব অভিযান চালাচ্ছে চিন। সমুদ্রের তলদেশের বিস্তারিত মানচিত্র তৈরি করছে দেশটি এবং সমুদ্রের নিচে গড়ে তুলছে নেটওয়ার্ক । লক্ষ্য একটাই—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সাবমেরিন যুদ্ধে এগিয়ে থাকা। নৌবিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের তলদেশ সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান ছাড়া সাবমেরিন যুদ্ধে জেতা সম্ভব নয়। জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণ করে রয়টার্স দেখেছে, চিনের ওশান ইউনিভার্সিটির গবেষণা জাহাজ ‘ডং ফাং হং–৩’ ২০২৪ ও ২০২৫ সালে তাইওয়ান ও যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি গুয়ামের কাছের সমুদ্রসীমায় বারবার যাতায়াত করেছে। ভারত মহাসাগরের কৌশলগত এলাকাগুলোতেও জাহাজটিকে দেখা গেছে। ওশান ইউনিভার্সিটির তথ্যমতে, জাপানের নিকটবর্তী সমুদ্রের তলদেশে চিন শক্তিশালী সেন্সর নেটওয়ার্ক স্থাপন করেছে, যা জলের নিচে যে কোনও বস্তুর চলাচল শনাক্ত করতে পারে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে ‘ডং ফাং হং–৩’ এই নজরদারিব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহের কাজ করেছে, যা ওই এলাকায় মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর সাবমেরিনের ওপর নজরদারি আরও জোরদার করবে। গত মে মাসেও জাহাজটি একই এলাকায় গিয়েছিল। ২০২৫ সালের মার্চে এটি শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যবর্তী জলসীমায় আঁকাবাঁকা পথে চলেছে। এই এলাকা বিশ্ববাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ মালাক্কা প্রণালির প্রবেশমুখ। নৌবিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনও জাহাজ যখন নির্দিষ্ট একটি এলাকায় বারবার সমান্তরালে এপাশ-ওপাশ করে, তখন বুঝতে হবে, সেটি সমুদ্রের তলদেশের নিখুঁত ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করছে।
৩০শে মার্চ, কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ জল শোধন কেন্দ্র বা Desalination Plant-এ হামলা চালায় ইরান। কুয়েত সরকার কনফার্ম করেছে যে, এই স্ট্রাইকে একটি সার্ভিস বিল্ডিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখানেই কর্মরত এক ভারতীয় শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই নিয়ে মোট ৭ জন ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারালেন। এর আগে ওমান, সৌদি আরব এবং UAE-তেও ভারতীয়দের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এখানে প্রশ্ন জাগতে পারে, যুদ্ধ তো হচ্ছে ইরান আর ইজরায়েল-আমেরিকা জোটের মধ্যে, তাহলে কুয়েতে হামলা কেন? কুয়েত তো সরাসরি যুদ্ধে নেই, তাহলে কুয়েত কেন টার্গেট? আসলে গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে পরিস্থিতি বদলে গেছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলায় ইরানের সুপ্রিম লিডার Ayatollah Ali Khamenei-এর মৃত্যুর পর ইরান এখন অল-আউট মুডে। তারা টার্গেট করছে সেই সব গালফ দেশগুলোকে (যেমন কুয়েত, ওমান, ইউএই), যারা আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি বা US Assets হোস্ট করছে।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল সমুদ্রপথে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ ‘স্ট্রেইট অব হরমুজ’ বা হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে দানা বাঁধছে নতুন বিতর্ক। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংস্থা লয়েডস লিস্টের (Lloyd’s List) একটি রিপোর্ট চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে। দাবি করা হচ্ছে, এই জলপথে একতরফা ‘টোল বুথ’ বসিয়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বা আইআরজিসি (IRGC)। কী বলছে এই রিপোর্ট? লয়েডস লিস্টের দাবি, গত ১৩ই মার্চ থেকে অন্তত ২৬টি জাহাজকে এক বিশেষ ‘টোল বুথ’ ব্যবস্থার মাধ্যমে পার হতে হয়েছে। নিয়মটা বেশ কড়া— জাহাজকে পূর্ণ নথিপত্র জমা দিতে হবে, নিতে হবে ক্লিয়ারেন্স কোড, আর পার হতে হবে আইআরজিসি-র এসকর্ট করা একটি নির্দিষ্ট করিডোর দিয়ে। গত ১৫ই মার্চের পর থেকে এই পথে আর কোনও জাহাজকে ‘স্বাভাবিক’ রুটে যাতায়াত করতে দেখা যায়নি। গত এক মাস যাবৎ পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে বিশ্ব নজরে রয়েছে হরমুজ প্রণালী। এতদিনে এই জলপথ কেন গুরুত্বপূর্ণ তা জেনে গেছে সবাই। যুদ্ধের মধ্যেও ইরান সরকারের তরফে হরমুজ নিয়ে ইতিবাচক বার্তাই আসছিল। বারবার ইরানি বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন হরমুজ বিশ্বের জন্য খোলা আছে। কিন্তু এবারে বড় ঘোষণা করল ইরান। বন্ধ হল হরমুজ। এমনকি এতদিন আমেরিকা ও ইজরায়েল বাদে বাকি সমস্ত দেশের জাহাজ এই জলপথ দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিচ্ছিল ইরান। এবার বন্ধু দেশ চিনের জাহাজকেও আটকে দিল তারা। আরও বড় হতে চলেছে যুদ্ধ? আরও বাড়বে জ্বালানি সংকট? নাকি অন্য কোনও পরিকল্পনা আছে ইরানের?
Iran Israel War: আলি লারিজানির মৃত্যুর পর মহম্মদ বাঘের জোলঘাদরকে এই পদে আনা হল।
রাশিয়ায় হাড়কাঁপানো অ্যাডভেঞ্চার! বরফের চাঁইয়ে চড়ে নদী পার করছেন দুই যুবক
ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে যখন যুদ্ধের দামামা বাজছে, ঠিক তখনই সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর দাবি। বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ৫৪ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি বর্তমানে ইরানে নেই। তাকে নাকি চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে রাশিয়ায়। যদিও ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও একটা শব্দও খরচ করা হয়নি। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এটি ইজরায়েল বা পশ্চিমী দুনিয়ার কোনও ‘সাইকোলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার’ বা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধও হতে পারে। কারণ, এই মুহূর্তে খামেনি পরিবারের কোনো সদস্যের অসুস্থতার খবর ইরানি প্রশাসনে বড়সড় অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। সত্যিই কি মোজতবা অসুস্থ, নাকি এই খবরের আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো ভূ-রাজনৈতিক চাল? উত্তর দেবে সময়। তবে আপাতত ইরানের ক্ষমতার মসনদ এবং মোজতবা খামেনির অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না।
Iran Israel War | ইরান এবং ইজরায়েল US র যুদ্ধে ইরানে ইন্দ্রপতন। ইজরায়েলের মিসাইল হামলায় নিহত ইরানের National Security Chief Ali Ardashir Larijani । এই লারিজানিই ছিলেন আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের ডানহাত। মঙ্গলবার তেহরানে মেয়ের বাড়িতে ছিলেন লারিজানি। সঙ্গে ছিলেন তাঁর ছেলে এবং নিরাপত্তারক্ষী। সেসময় ইজরায়েলের ভযংকর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মৃত্যু হয় তাঁদের। একথা স্বীকার করেছে ইরান সরকার।
ওমানে ডজরোন হামলায় নিহত ২ ভারতীয়। ওমানের সোহার শহরে ইরানের ড্রোন হামলা। ওমানে ড্রোন হামলায় আহত ১০ ভারতীয়।
নিউইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, অপারেশন 'এপিক ফিউরি' (Operation Epic Fury) শুরু হওয়ার পর থেকে পেন্টাগন প্রতিদিন কয়েক বিলিয়ন ডলার খরচ করছে। মিজাইল ডিফেন্স থেকে শুরু করে এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার মোতায়েন— হিসেবটা মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো। লড়াইয়ের দশম দিনে দাঁড়িয়ে আমেরিকা প্রতিদিন প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার খরচ করছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার ওপর খরচ হচ্ছে। প্রতিটি টমাহক মিসাইল বা ইন্টারসেপ্টরের দাম কয়েক কোটি টাকা। ইরান যখন ড্রোন ও মিসাইল ছুড়ছে, তখন সেগুলো রুখতে আমেরিকা যে প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, তার আর্থিক ভার অসহনীয় হয়ে উঠছে। শুধু সামরিক সরঞ্জাম নয়, লজিস্টিকস এবং সেনা মোতায়েনের খরচ যোগ করলে এই অংকটা মার্কিন ইতিহাসের সবথেকে ব্যয়বহুল যুদ্ধের তালিকায় নাম লেখাতে চলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই খরচের পরিমাণ বিগত কয়েক দশকের যে কোনও যুদ্ধের রেকর্ড ছাপিয়ে যেতে পারে। কিন্তু এই খরচ কি শুধু সরকারি কোষাগারেই সীমাবদ্ধ? একদমই নয়। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন কার্যত বন্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। যার জেরে গোটা বিশ্বে জ্বালানি তেলের সংকট গুরুতর আকার নিচ্ছে। স্ট্রেট অফ হরমুজ বন্ধ। ফলে তেল আমদানিতে সমস্যার মুখে পডছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। এর প্রভাব ভারতেও পড়ছে। তেল আমদানিতে সমস্যা হচ্ছে। তবে আরও ভয়ংকর অবস্থা পড়শি দেশ বাংলাদেশের। তেল সংকটে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় পেট্রোল পাম্প বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পাকিস্তানের মতোই এখন তেল সাশ্রয়ের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ। ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে আগাম ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তেল সাশ্রয়ে যথেষ্ট চাপে রয়েছে পড়শি দেশ। এই দুঃসময়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াল ভারত। অভাব সত্ত্বেও বাংলাদেশকে ডিজেল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। বিপদের বন্ধু হিসেবে বাংলাদেশকে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টন ডিজেল দেবে নয়াদিল্লি। ইতিমধ্যেই ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পাঠানো হচ্ছে অসমের নুমালিগড় তেল সংশোধনাগার থেকে। পাইপলাইনের মাধ্যমে পৌঁছবে এই ডিজেল।
India Bangladesh relations: ইরান ও পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে জ্বালানি সঙ্কটে বাংলাদেশ। দুর্দিনে বাংলাদেশকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল ভারত। ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত থেকে ৫,০০০ টন ডিজেল পাঠানো হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত জ্বালানি চুক্তির অংশ। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ রেজানুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, এই ডিজেল সরবরাহ ১৮০,০০০ টন বার্ষিক ডিজেল সরবরাহ চুক্তির অংশ। তিনি বলেন, “আমাদের ভারতের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে এবং আগামী ছয় মাসে অন্তত ৯০,০০০ টন ডিজেল আমদানি করতে হবে। এই ৫,০০০ টন তারই অংশ।”
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি। ইরান বনাম ইজরায়েল আমেরিকার হামলা পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মৃত্যুমিছিল। যুদ্ধের জেরে তৈলধমনী স্ট্রেট অফ হরমুজ বন্ধ করেছে ইরান। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ছে হু হু করে। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। তার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানে। একেবারে খাদের কিনারায় পাকিস্তানের অর্থনীতি। পরিস্থিতি সামাল দিতে জ্বালানি সাশ্রয়ে বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ করল পাকিস্তানের শাহবাজ শরিফের সরকার। ঘোষণা করা হয়েছে, চলতি সপ্তাহ শেষ হতেই পাকিস্তানের সমস্ত স্কুল টানা দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ থাকবে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ক্লাস হবে শুধুমাত্র অনলাইনে। ব্যাংক বাদে সমস্ত সরকারি অফিস সপ্তাহে মাত্র চারদিন খোলা থাকবে। এছাড়া জরুরি পরিষেবা বাদে সরকারি দফতরের ৫০ শতাংশ কর্মীকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী দু মাস সরকারি দফতরগুলোর জন্য জ্বালানি বরাদ্দে ৫০ শতাংশ কাটছাঁট করা হবে বলেও জানিয়েছে পাক সরকার। এমনকি মন্ত্রীদের ভাতাও কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় অনেকেই মনে করিয়ে দিচ্ছেন করোনার সময় লকডাউনের স্মৃতি। লকডাউন পরিস্থিতিই কি ফিরবে পাকিস্তানে, প্রশ্ন অনেকেরই।
মধ্যপ্রাচ্যের মহাযুদ্ধের ১০দিন পার। হামলা পালটা হামলা চলছে। একদিকে খামেনেইয়ের উত্তরসুরীর নাম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। অন্যদিকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের। নতুন করে বাহরিনের প্রধান তেল শোধনাগারে ড্রোণ হামলা। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা। ঠিক কি পরিস্থিতি দেখুন বিস্তারিত। একদিকে ইরান অন্যদিকে ইজরায়েল-আমেরিকা। শত্রুর বন্ধু শত্রু নীতিতে পরপর দেশে হামলা ইরানের। তছনছ দুবাই-সহ পশ্চিম এশিয়ার একাধিক শহর। পালটা ইরানে হামলা জারি ইজরায়েল-আমেরিকারও। হিজবুল্লা-হামাস দমনে লেবাননেও হানা। ইরানের পরবর্তী সুপ্রিম লিডারের নাম চূড়ান্ত হয়েছে আগেই। অপেক্ষা ছিল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার। অবশেষে খামেনেইয়ের উত্তরসুরীর নাম ঘোষণা করে দিল তেহরান। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী স্বতন্ত্র ভাবে কাজ করছিল বলে দাবি করে তেহরান। এবার ইরানের কুর্সিতে বসতে চলেছেন খামেনেইয়ের দ্বিতীয় পুত্র মোজতাবা খামেনেই। সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, ভোটের মাধ্যমে ইরানের পরবর্তী সুপ্রিম লিডার হিসেবে মোজতাবা খামেনেইকেই বেছে নিয়েছে ‘অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস’। তবে মোজতাবাকে নিয়ে শুরু থেকেই বিরোধ ছিল। কিছু সদস্যের মতে, নিয়োগের আগে একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক প্রয়োজন। কেউ আবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে সুপ্রিম লিডারের নাম ঘোষণায় পক্ষপাতী। অন্যদিকে, নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সুপ্রিম লিডারের নাম ঘোষণা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন অনেকে। তবে, সংশয়-বাধার মধ্যেও তেহরান জানিয়ে দিয়েছে, ইরানকে নেতৃত্ব দেবেন মোজতাবা খামেনেই।