Basanti Puja 2026: বিপত্তি থেকে ভক্তির শুরু, তারপরই বদলে যায় ভাগ্য! আজও অটুট নন্দ পরিবারের ১৭৫ বছরের বাসন্তী পুজো
- Reported by:Madan Maity
- Published by:Nayan Ghosh
Last Updated:
East Medinipur Basanti Puja 2026: জৌলুস নেই, তবুও টিকে ঐতিহ্য। ১৭৫ বছরের প্রাচীন নন্দবাড়ির পুজোয় আজও দূরদূরান্ত থেকে ভিড় জমান ভক্তরা। নন্দ পরিবারের পূর্বপুরুষ ভোলানাথ নন্দ এই পুজোর সূচনা করেছিলেন। অনেক নিয়ম অতীত হয়ে গেলেও এখনও সগৌরব চলছে পুজো।
advertisement
1/6

ইতিহাস আর ঐতিহ্যে দু'য়ের মিলনে আজও আলাদা পরিচয় ধরে রেখেছে ১৭৫ বছরের প্রাচীন বাসন্তী পুজো। ভগবানপুর-২ ব্লকের মুগবেড়িয়া গ্রামের নন্দ পরিবারের বাসন্তী পুজো। আগের মত জাঁকজমক না থাকলেও ভক্তি ও রীতিনীতিতে কোনও খামতি নেই। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই পুজোকে ঘিরে আজও এলাকার মানুষের মধ্যে আলাদা উন্মাদনা দেখা যায়। প্রতি বছর দূরদূরান্ত থেকে ভক্তদের সমাগম ঘটে এখানে। (তথ্য ও ছবি : মদন মাইতি)
advertisement
2/6
নন্দ পরিবারের পূর্বপুরুষ ভোলানাথ নন্দ এই পুজোর সূচনা করেছিলেন। সেই সময় মুগবেড়িয়া এলাকা ছিল জঙ্গলাকীর্ণ। ভোলানাথ নন্দ ছিলেন দক্ষ শিকারি। একদিন শিকার করতে গিয়ে তিনি বন্য শুয়োরের আক্রমণে গুরুতর জখম হন। সেই ঘটনার পর তাঁর জীবনে মোড় ঘুরে যায়। এরপরই ভক্তিস্বরুপ তিনি বাড়ির সামনে নাটমন্দির নির্মাণ করে বাসন্তীপুজো শুরু করেন। যা পরবর্তীতে পারিবারিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়।
advertisement
3/6
পুজো শুরুর পর থেকেই নন্দ পরিবারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হতে থাকে। ধীরে ধীরে এই পরিবার জমিদারির প্রভাব বিস্তার করে এলাকায়। সেই সময় বাসন্তী পুজো ছিল অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ। নানা আয়োজন থাকত পুজোকে ঘিরে। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এসে অংশ নিতেন এই উৎসবে। পুজোর সময় গ্রামজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হত। আজ আর সেই আড়ম্বর না থাকলেও ঐতিহ্য এখনও অটুট।
advertisement
4/6
প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বছর আগে জমিদারি আমলে এই পুজোয় একাধিক মোষ বলি ও বহু ছাগ বলির প্রচলন ছিল। পুজোর দিনগুলিতে বসত নহবত। কলকাতার যাত্রাদল এসে পরিবেশন করত নাটক। রাতভর চলত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তবে সময়ের সঙ্গে সেই জৌলুস অনেকটাই কমেছে। বর্তমানে নবমীর দিন দু’টি ছাগ বলি দেওয়া হয়। পুরনো অনেক রীতি এখন ইতিহাসের অংশ হয়ে গিয়েছে।
advertisement
5/6
এই পুজোয় বাসন্তী দুর্গার পাশাপাশি মা শীতলার আরাধনাও করা হয়। এবছর থেকে মা অন্নপূর্ণার পুজোও যুক্ত হয়েছে। প্রতিদিন নিয়ম মেনে হোমযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়। পুজোর চারটি দিন নন্দবাড়ি ভক্তদের উপস্থিতিতে মুখর থাকে। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এই পুজোয় অংশ নিতে আসেন। ধর্মীয় আচার ও সামাজিক সম্প্রীতির এক সুন্দর মেলবন্ধন তৈরি হয় এই পুজোকে ঘিরে।
advertisement
6/6
বর্তমানে ভোলানাথ নন্দের তিন পুত্র গোবিন্দ, দিগম্বর ও গঙ্গাধরের বংশধরেরাই এই পুজোর দায়িত্ব পালন করছেন। পরিবারের সদস্য চৈতন্যময় নন্দ জানান, “বাইরে থাকা আত্মীয়রাও এই সময় বাড়িতে ফিরে আসেন। পুজোর ক’টা দিন সবাই একসঙ্গে কাটান। এই পুজোই পরিবারের সদস্যদের একসূত্রে বাঁধে। চারদিন ধরে নন্দবাড়ি মিলনমেলার রূপ নেয়, যেখানে ঐতিহ্য ও পারিবারিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়ে ওঠে।” (তথ্য ও ছবি : মদন মাইতি)
বাংলা খবর/ছবি/পশ্চিমবঙ্গ/
Basanti Puja 2026: বিপত্তি থেকে ভক্তির শুরু, তারপরই বদলে যায় ভাগ্য! আজও অটুট নন্দ পরিবারের ১৭৫ বছরের বাসন্তী পুজো