TRENDING:

Interesting Facts: দার্জিলিং হোক বা গ্যাংটক, সন্ধের আড্ডা জমে 'মল রোড'-এ, বলুন তো, কেন সব পাহাড়ি শহরেই থাকে এই 'মল রোড'? কারণটা অবাক করবে

Last Updated:
দার্জিংলিং গেলেই এক ছুটে মল! কিংবা গ্যাংটকের এম জি মার্গ! শুধু দার্জিলিং বা গ্যাংটক-ই কেন? ভারতের প্রতিটা পাহাড়ি শহরেই আছে মল রোড! কিন্তু কেন?
advertisement
1/7
বলুন তো, কেন সব পাহাড়ি শহরেই থাকে 'মল রোড'? উত্তরটা অবাক করবে
শিমলা, মানালি, দার্জিলিং, নৈনিতাল হোক কি মুসুরি... ভারতের সব পাহাড়ি শহরগুলির মধ্যে একটা ফজিনিসের মুল রয়েছে, প্রতিটা শহরেই রয়েছে মল রোড... একটি ব্যস্ত রাস্তা। এটাই যেন শহরের প্রাণকেন্দ্র। সারি সারি দোকান, ক্যাফে, ঔপনিবেশিক আমলের স্থাপত্য এবং পর্যটকদের ভিড়ে জমজমাট এক এলাকা। কিন্তু প্রশ্ন হল, ভারতের প্রায় সব পাহাড়ি শহরেই কেন একটি করে ‘মল রোড’ থাকে?
advertisement
2/7
মল রোডের উৎপত্তি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক যুগে। উনিশ শতকে ব্রিটিশরা ভারতের বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলে হিল স্টেশন গড়ে তোলে, মূলত গ্রীষ্মকাল কাটানোর জন্য। গরমকালে সমতলের তীব্র গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতেই ব্রিটিশ অফিসার ও তাঁদের পরিবার পাহাড়ে আশ্রয় নিতেন। লন্ডনের “দ্য মল”–এর আদলে এই প্রশস্ত পদচারণাপথগুলি নির্মিত হয়। উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি কেন্দ্রীয় রাস্তা তৈরি করা, যেখানে অভিজাত সমাজের মানুষ হেঁটে বেড়াতে, আড্ডা দিতে এবং মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে পারবে। সাধারণত শহরের একেবারে কেন্দ্রস্থলে, তুলনামূলক সমতল জমিতে এগুলি গড়ে তোলা হত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই মল রোডগুলিই হয়ে ওঠে প্রতিটি হিল স্টেশনের প্রাণকেন্দ্র, যার চারপাশ ঘিরেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে পুরো শহর।
advertisement
3/7
পাহাড়ি শহরগুলি সাধারণত অসমতল ভূখণ্ডে গড়ে ওঠে—খাড়া ঢাল, আঁকাবাঁকা পথ এবং উঁচু-নিচু জমি। কাজেই ব্রিটিশরা বাণিজ্যিক ও সামাজিক কাজকর্মের জন্য শহরের কেন্দ্রীয় এলাকা বেছে নিয়েছিল। এই কেন্দ্রীয় রাস্তা ধীরে ধীরে বাজার, প্রশাসনিক ভবন এবং অবকাশযাপনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। আজও মল রোডই দোকানপাট, রেস্তোরাঁ এবং জনসমাগমের সবচেয়ে সুবিধাজনক জায়গা হিসেবে পরিচিত। ফলে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দা—উভয়েরই আকর্ষণ থাকে 'মল রোড'-এর দিকেই
advertisement
4/7
ব্যবহারিক প্রয়োজনের গণ্ডি ছাড়িয়ে মল রোড ধীরে ধীরে সাংস্কৃতিক আখড়া হয়ে ওঠে। শুধু কেনাকাটা বা খাওয়াদাওয়ার জায়গা নয়, মানুষ এখানে একত্রিত হত। সন্ধ্যাবেলায় মল রোডে হাঁটাহাঁটি এক সময়ে ঐতিহ্যে পরিণত হয়। সেই ঐতিহ্য আজও অটুট। পর্যটকেরা এখনও মল রোডে ভিড় জমান! কখনওপাহাড়ি আবহে ডুবে যেতে,কখনও স্মারক কিনতে বা স্থানীয় খাবার চেখে দেখতে।
advertisement
5/7
প্রতিটি পাহাড়ি শহরের মল রোডের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য রয়েছে। শিমলার মল রোড উপত্যকার বিস্তীর্ণ দৃশ্য এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের জন্য জনপ্রিয়। যেমন, শিমলার ক্রাইস্ট চার্চ, গেইটি থিয়েটার। নৈনিতালের মল রোড হ্রদের সমান্তরালে বিস্তৃত, ফলে সন্ধ্যার হাঁটাহাঁটির জন্য আদর্শ। দার্জিলিংয়ের মল রোডে স্থানীয়রা গান, আড্ডা, তর্ক-বিতর্ক আর অবসর সময় কাটাতে জড়ো হন, ভিড় জমান পর্যটকেরাও। ব্যাকড্রপে হিমালয়ের অপূর্ব দৃশ্য। অন্যদিকে,মুসৌরির মল রোড সারি সারি ক্যাফে ও দোকানে সাজানো।
advertisement
6/7
মল রোডে মিলেমিশে বাস করে ঐতিহ্য ও আধুনিকতা। হস্তশিল্পের দোকান, উলেন পোশাকের শোরুম, ট্রেন্ডি ক্যাফে এবং ফাস্ট-ফুড আউটলেট। রাস্তার ধারে বিক্রি হয় ভাজা ভুট্টা ও মোমো, আবার কাছেই কোনও বেকারিতে মেলে প্লাম কেক আর নানা ধরনের পেস্ট্রি। পুরোনো ও নতুনের এই সহাবস্থানই মল রোডকে বানায় ইউনিক
advertisement
7/7
একসময় মল রোড ছিল শুধুমাত্র অভিজাতদের জন্য, কিন্তু আজ তা সবার জন্য উন্মুক্ত। ব্রিটিশ অফিসার ও তাঁদের পরিবারের জন্য তৈরি এই পদচারণাপথগুলি এখন সকলের জন্য খোলা। আজ মল রোড এমন এক জায়গা, যেখানে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ একত্রিত হন, আনন্দ ভাগ করে নেন। মল রোডের আনাচে কানাচে ফুটে ওঠে ভারতের ঔপনিবেশিক অতীত আর প্রাণবন্ত বর্তমানের নানা কোলাজ।
বাংলা খবর/ছবি/পাঁচমিশালি/
Interesting Facts: দার্জিলিং হোক বা গ্যাংটক, সন্ধের আড্ডা জমে 'মল রোড'-এ, বলুন তো, কেন সব পাহাড়ি শহরেই থাকে এই 'মল রোড'? কারণটা অবাক করবে
Open in App
হোম
খবর
ফটো
লোকাল